মেয়াদ শেষেও মিলছে না বীমার টাকা, বাউফলে বিপাকে ৫ হাজার গ্রাহক
- আপডেট সময় : ০২:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বার্তা পরিবেশক, বাউফল
পটুয়াখালীর বাউফলে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সরেন্স কোম্পানীর তালবাহানার কারণে আটকা পড়েছে গ্রাহকদের অন্তত ১০কোটি টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রায় ৫হাজার গ্রাহক। বীমার নির্দিষ্ট মেয়াদ পাড় হওয়ার পরেও ৩-৫বছর পর্যন্ত দ্বারে দ্বারে ঘুরে মূলধন ফিরে পেতে লড়াই করছেন তারা। ঝুঁকি মাথায় নিয়ে এখনও টাকা জমা করছেন কেউ কেউ।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স বাউফল শাখা সূত্রে জানাগেছে, ২০০০সালে কম্পানীর প্রথম যাত্র শুরু হয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে সংকট তৈরি হয়। এতে আটকা পরে বাউফল উপজালার প্রায় ৫হাজার গ্রাহকের অন্তত ১০-১৫কোটি টাকা।
কম্পানীর ডেস্ক ও ডেভেলপ এই ২ভাগে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ডেস্ক হচ্ছে সরাসরি কম্পানী কতৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী এবং ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে, স্থানীয় ভাবে অস্থায়ী ও মাঠ পর্যায়ে গ্রাহক তৈরিতে সহায়তাকারী বা এক কথায় দালাল। দালালরা সবসময় অফিসের ভিতরে থেকে কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। অথচ কর্তৃপক্ষ এখন তাদেরকে দোষারোপ করছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতিটি বীমা গ্রাহককে মেয়াদ শেষে ডাবল টাকা, বছরে ডাবল বোনাস, বছর শেষে বাৎসরিক বোনাস প্রতি ৩বছর পর বোনাসসহ নানা লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বীমা করিয়ে থাকেন দালালরা। রয়েছে মৃত্যু ঝুঁকিতে সম্পূর্ণ টাকার লোভ। এসব প্রলোভনে পরে উপজেলা ৫হাজার গ্রাহকের এখন গলার কাটা ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স।
সরেজমিনে গিয়ে অফিস কক্ষে একজন কর্মকর্তা ছারা আর কাউকে পাওয়া যায়নি। অফিস-সহকারী, আয়া-বুয়া বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। পুরো অফিস ফাঁকা পরে আছে। দায়িপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো আবদুর রহমান। তাকে একধিক বার ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। অফিসে থাকা পাওয়া গেলে তিনি সিনিয়র অফিসার মো আব্বাস উদ্দিন বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘২০১৯সাল থেকে কম্পানীর টাকা দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে সকল গ্রাহকের টাকা দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে প্রধান কার্যালয়। প্রধান কার্যালয়ের ওই প্রতিশ্রুতিই আমরা স্থানীয় গ্রাহকদের দিচ্ছি। কবে দিবে বা কার্যক্রম শুরু হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পাড়েননি।
উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের গ্রাহক মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘২০১৩ সালে ১০বছর মেয়াদে ১০হাজার ৫শত টাকার বীমা করেন তিনি। ৭বছর টাকা জমা দেয়ার পর জানতে পাড়ি ফারিস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স দেউলিয়ার পথে। এরপর টাকা জমা দেয়া বন্ধ করে দেই। আজকে অফিসে এসে জানতে পারি আমার একাউন্টে মাত্র ৩০হাজার টাকা রয়েছে। আমাকে দশ বছর পর ডাবল টাকা দেয়ার কথা ছিল। অথচ আমার একাউন্টে আমার মূলধনই নেই।
মনিরা নাসরিন নামের অপর এক গ্রাহক এসেছেন টাকা জমা দিতে, কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, তার নামে ২টি বীমা চলমান। প্রতি মাসে ২বীমায় মোট ৬হাজার টাকা জমা করছেন তিনি। ঝুঁকি জেনেও টাকা জমা দিচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, বীমাটি তিনি প্রথম থেকে চালিয়ে আসছেন। ২০২৭ সালে শেষ হবে। বাকী আর মাত্র কয়েক মাসের জন্য টাকা দেয়া বন্ধ করলে সকল বোনাস চলে যাবে ভয়ে তিনি এখনও টাকা জমা দিচ্ছেন।
অপর এক গ্রাহক মারজিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ১০বছর মেয়াদী একটি বীমা শুরু হয় ১৬সালের ২৪ জানুয়ারী। ২৬সালের জানুয়ারী মাসে বীমাটি ম্যাচিউড হয়। বীমা শুরুর সময় আমাকে ডাবল টাকা দেয়ার কথা ছিল মেয়াদ শেষে। কিন্তু এখন জানতে পারলাম মাত্র ১২হাজার টাকা ১০ বছরে মুনাফা ধরা হয়েছে। সেই টাকাও কবে পাবো কিংবা আদৌ পাবেন কিনা সেটা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।
এবিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় ইনচার্জ মো মিজানুর রহমান বলেন, ‘আগের পরিচালকদের মধ্যে ব্যপক দুর্নীতি থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটির অচালাবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিচালক পাওনা পরিশোধের জন্য কম্পানীর সকল সম্পদ বিক্রির মধ্যে দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের কথা ভাবছেন। আশঅ করছি আগামী জানুয়ারীর (২৭ সালের) ভিতরে হয়তো আমরা গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ দিতে সক্ষম হবো।



















