ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে বিরোধীয় জমি দখলের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দেখেই তেড়ে আসলেন অভিযুক্তের স্ত্রী! বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান ছালেহের পিতার মৃত্যুতে এ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর গভীর শোক প্রকাশ প্রযুক্তি শিক্ষায় নারীদের স্বনির্ভরতার স্বপ্ন, বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকে যাত্রা শুরু! বরিশালে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বরিশাল ভাটারখাল বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হতে হবে -বিসিসি প্রশাসক বরিশালে মানিক মিয়া মহিলা কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে বরিশালে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম রুপাতলীতে বদরপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘মিজান সুইট মিটে’র উদ্বোধন জমি বিরোধের জেরে কাউন্সিলরকে নিয়ে মিথ্যাচার ও হয়রানী, ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা-সুষ্ঠু তদন্ত দাবী!

বরিশালে বিরোধীয় জমি দখলের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দেখেই তেড়ে আসলেন অভিযুক্তের স্ত্রী!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকৃত কাগজপত্র থাকার দাবি সত্ত্বেও বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে বশির হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আবদুর রব হাওলাদারের বিরুদ্ধে। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। এরই মধ্যে বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া এবং বাধা দিলে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী বশির হাওলাদারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। এমনকি থানা-পুলিশকে প্রভাবিত করে জমি দখলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বশির হাওলাদার জানান, বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাটসংলগ্ন এলাকায় তাঁদের পৈতৃক বাড়ি। তাঁর দাবি, ২০০৬ সালে তাঁর দাদা হোসেন আলী হাওলাদার তাঁদের নামে সাড়ে ১৮ শতক জমি দানপত্র করে দেন। এর আগে তাঁর দাদার বোন রোকেয়া ১০ শতক এবং এছাবুন্নেছার ওয়ারিশদের কাছ থেকে ১৯ শতক জমি ক্রয় করেন। এসব জমি নিয়ে তাঁদের পরিবারের মালিকানার দাবি রয়েছে।

অন্যদিকে, আবদুর রব হাওলাদার একই জমি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। আর এতেই দুই পক্ষের মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

বিরোধ নিরসনে চলতি বছরের ১৬ জুন স্থানীয়ভাবে একটি শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় মিজানুর রহমান মিলন, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস ছালাম তালুকদার, আবদুল জবাব শিকদার ও জলিল সরদার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে অচলনামায় স্বাক্ষর নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে জমির মাপজোকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন বশির হাওলাদার। তাঁর দাবি, এই সুযোগে আবদুর রব হাওলাদার প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে বশির ও তাঁর ভাই বাধা দিলে তাঁদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শালিশ বৈঠকের প্রধান মিজানুর রহমান মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে, শালিশদার আবদুর জব্বার জানান, উভয় পক্ষের সম্মতিতে কাজ চলছে এবং বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই।

তবে শালিশদার আমানউল্লাহ আমানের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি জমি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, সব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন না।

শালিশদারদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিরোধপূর্ণ জমির বর্তমান পরিস্থিতি এবং শালিশের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, জমির বিরোধের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকেরা সরেজমিনে গেলে আবদুর রব হাওলাদারের স্ত্রী সাজেদা বেগম তাঁদের মারতে তেড়ে আসেন এবং মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নিজেদের জমি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের আগে মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, জমির রেকর্ড, নামজারি ও দখলসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

বরিশালে বিরোধীয় জমি দখলের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দেখেই তেড়ে আসলেন অভিযুক্তের স্ত্রী!

আপডেট সময় : ১১:০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক

প্রকৃত কাগজপত্র থাকার দাবি সত্ত্বেও বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে বশির হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আবদুর রব হাওলাদারের বিরুদ্ধে। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। এরই মধ্যে বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া এবং বাধা দিলে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী বশির হাওলাদারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। এমনকি থানা-পুলিশকে প্রভাবিত করে জমি দখলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বশির হাওলাদার জানান, বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাটসংলগ্ন এলাকায় তাঁদের পৈতৃক বাড়ি। তাঁর দাবি, ২০০৬ সালে তাঁর দাদা হোসেন আলী হাওলাদার তাঁদের নামে সাড়ে ১৮ শতক জমি দানপত্র করে দেন। এর আগে তাঁর দাদার বোন রোকেয়া ১০ শতক এবং এছাবুন্নেছার ওয়ারিশদের কাছ থেকে ১৯ শতক জমি ক্রয় করেন। এসব জমি নিয়ে তাঁদের পরিবারের মালিকানার দাবি রয়েছে।

অন্যদিকে, আবদুর রব হাওলাদার একই জমি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। আর এতেই দুই পক্ষের মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

বিরোধ নিরসনে চলতি বছরের ১৬ জুন স্থানীয়ভাবে একটি শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় মিজানুর রহমান মিলন, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস ছালাম তালুকদার, আবদুল জবাব শিকদার ও জলিল সরদার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে অচলনামায় স্বাক্ষর নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে জমির মাপজোকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন বশির হাওলাদার। তাঁর দাবি, এই সুযোগে আবদুর রব হাওলাদার প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে বশির ও তাঁর ভাই বাধা দিলে তাঁদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শালিশ বৈঠকের প্রধান মিজানুর রহমান মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে, শালিশদার আবদুর জব্বার জানান, উভয় পক্ষের সম্মতিতে কাজ চলছে এবং বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই।

তবে শালিশদার আমানউল্লাহ আমানের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি জমি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, সব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন না।

শালিশদারদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিরোধপূর্ণ জমির বর্তমান পরিস্থিতি এবং শালিশের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, জমির বিরোধের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকেরা সরেজমিনে গেলে আবদুর রব হাওলাদারের স্ত্রী সাজেদা বেগম তাঁদের মারতে তেড়ে আসেন এবং মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নিজেদের জমি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের আগে মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, জমির রেকর্ড, নামজারি ও দখলসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।