জমি বিরোধের জেরে কাউন্সিলরকে নিয়ে মিথ্যাচার ও হয়রানী, ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা-সুষ্ঠু তদন্ত দাবী!
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
জমি বিরোধের জেরে কাউন্সিলরকে নিয়ে মিথ্যাচার ও হয়রানী, ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা-সুষ্ঠু তদন্ত দাবী!
নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল নগরীর আহমেদ মোল্লা সড়কের রুপাতলি মৌজার দাগ নম্বর ১২৭১-এর অন্তর্গত জমি সংক্রান্ত মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা, মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যাখ্যা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতা ২৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহম্মেদ । তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ জালিয়াতি, ভুয়া দলিল এবং রেভিনিউ ফাঁকি দিয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একইসঙ্গে রাজৈনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে তাঁকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য বিকৃত করে মোবাইল ও ভিডিও ভাইরাল করা হচ্ছে।
জমি সংক্রান্ত মূল বিরোধের নেপথ্য প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৫৬ নম্বর রূপাতলি মৌজার ১২৭১ দাগে চার শতংশ জমির ২৭৫৮ খতিয়ানের মালিক ছিলেন মাজেদ এবং ২৭৫৯ খতিয়ানের চার শতংশের মালিক ছিলেন মোশারফ। মোশারফ ও হাবিব প্যাদা অংশ: মোশারফ তাঁর জমি বিক্রি করেন হাবিব প্রাদার কাছে।
পরবর্তীতে হাবিব প্যাদা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে তাঁর ভাগ্নে নাজমুলকে ক্ষমতা প্রদান করেন। নাজমুল সেখান থেকে ৬৫ শতংশ জমি বিক্রি করেন, যার মধ্যে গোলাম কিবরিয়া নামে এক ব্যক্তি ৫ শতংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। গোলাম কিবরিয়া এসএ রেকর্ডের চূড়ান্ত মালিক হিসেবে নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন এবং সেখানে মাটি ভরাট করে জমি দখলে রাখেন।
মাহবুব মোল্লা ও নূরুলের জালিয়াতি: অন্যদিকে, মাজেদের অংশ ক্রয় করেন মাহবুব মোল্লা। অভিযোগ রয়েছে, মাহবুব মোল্লা ৬০ শতংশ জমি ক্রয় করলেও পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে ১ একর ৩০ শতংশ জমি বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করেন। এই অতিরিক্ত ভূয়া দলিলের ফাঁদে পড়ে জমি কেনেন ‘নূরুল’ নামের এক ব্যক্তি, যার প্রকৃতপক্ষে বাস্তবে কোনো জমির মালিকানা বা বিএস খতিয়ান ছিল না। ভুয়া দলিল ও সরকারি রেভিনিউ ফাঁকির অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়, কোনো বৈধ বিএস খতিয়ান না থাকা সত্ত্বেও নূরুল ও তাঁর স্ত্রী সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নাসির নামের এক ব্যক্তির নামে ৫ শতংশ জমির একটি অসত্য দলিল সম্পাদন করে দেন। নাসির, নূরুল ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে কোনো প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলেও জালিয়াতি ঢাকতে তাঁদের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। চলমান মামলা ও প্রশাসনিক অবস্থা গোলাম কিবরিয়া জমি বিক্রি করতে চাইলে এই মূল ক্রেতা গোলাম কিবরিয়ার কাছ থেকেই নিয়মানুযায়ী জমি ক্রয় করেন ও পাওয়ার দলিল গ্রহণ করেন। তবে এই বিক্রির পূর্বে নাসির এডিএম কোর্টে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে নাসির পরাজিত হয়ে পরবর্তীতে জজকোর্টে আপিল করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ নাসির থানায় অভিযোগ জমা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এড়িয়ে চলছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিক বারবার উভয় পক্ষকে ডাকলেও নাসির আর থানায় উপস্থিত হচ্ছেন না, যা তাঁর দাপ্তরিক কাগজপত্রের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে।
রাজনৈতিক চক্রান্ত ও সামাজিক শালিসের আহ্বান বর্তমান জমির মালিক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, আমরা রাজনীতি করি। তাই আমাদের পলিটিক্যাল প্রতিপক্ষের ইন্ধনে নাসির ও তাঁর সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সমাজে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করছে। আদালত ও শালিস এড়িয়ে তারা সংবাদ সম্মেলন ও ভিডিও ভাইরাল করার পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন: আইন ও আদালতের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। এর বাইরেও যেকোনো নিরপেক্ষ শালিস বৈঠক বসুক। আমরা আমাদের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র জমা দেবো, প্রতিপক্ষও তাদের কাগজপত্র দেখাক। যদি নিরপেক্ষ শালিস বিচারে প্রমাণিত হয় যে আমরা এই জমির মালিক নই, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জমি ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রতিপক্ষ নিজেদের কাগজপত্র দুর্বল থাকায় কোনো শালিসে বসতে চাচ্ছে না।















