আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে বরিশালে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম
- আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে বরিশালে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বরিশালের সরকারি শিশু পরিবার (দক্ষিণ)-এর কিশোরীদের নিয়ে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR), সাইবার বুলিং এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (TFGBV) প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টারি এ্যাকশনস ফর সোসাইটি (আভাস) বাস্তবায়িত ইয়ুথ শেয়ার-নেট প্রকল্পের আওতায়, রেডঅরেঞ্জের উদ্যোগে এবং অ্যামপ্লিফাই চেইঞ্জের সহযোগিতায় এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি কিশোরীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে স্থাপন করা হয় ‘মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন কর্নার’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আভাসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুন নাঈম ঐশী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর নুসরাত জাহান পিকলি এবং বরিশাল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. তানজিলা তাজিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সরকারি শিশু পরিবার (দক্ষিণ), বরিশালের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ফারজানা রহমান, শিশু পরিবারের কিশোরীরা এবং আভাসের স্বেচ্ছাসেবক ও সহকারীবৃন্দ।
আলোচনা সভায় কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, বাল্যবিবাহ ও অল্প বয়সে গর্ভধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি অনলাইন হয়রানি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের অপব্যবহার এবং ব্ল্যাকমেইল থেকে সুরক্ষিত থাকার বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়।
এ সময় অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত সহায়তা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কিশোরীদের অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো ধরনের হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হলে নীরব না থেকে বিশ্বস্ত ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কিশোরীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে স্থাপন করা ‘মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন কর্নার’কে স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অবসর সময় কাটানোর একটি সহায়ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিসর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্নারের কার্যক্রমে কিশোরীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে তারা নিজেরাই মাসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কিশোরীদের নিজেদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং তাদের জন্য নিরাপদ, সহায়ক ও অধিকারভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখা।
অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল—‘লজ্জা নয়, সচেতনতা—নিজের স্বাস্থ্য জানো, নিজের অধিকার বোঝো, সুস্থ ও নিরাপদ থাকো।’ এ বার্তার মাধ্যমে কিশোরীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
















