সেবায় সফলতা ও প্রশংসা কুড়িয়ে বিদায় নিচ্ছেন বরিশাল সদর এসিল্যান্ড আজহারুল ইসলাম!
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
সেবায় সফলতা ও প্রশংসা কুড়িয়ে বিদায় নিচ্ছেন বরিশাল সদর এসিল্যান্ড আজহারুল ইসলাম!
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ২ বছর ১ মাস ১৩ দিনের কর্মযাত্রা শেষে বরিশাল সদর উপজেলা থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম। বিদায়ের প্রাক্কালে প্রিয় কর্মস্থল, সহকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও বরিশালের সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
বরিশাল সদরে দায়িত্ব পালনকালে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক এবং মাঠ প্রশাসনের নানা অভিজ্ঞতা তার কর্মজীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে জানান আজহারুল ইসলাম।
এসিল্যান্ড হিসেবে আজহারুল ইসলামের প্রথম কর্মস্থল ছিল মুলাদী উপজেলা। সেখানে চার মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি বরিশাল সদর উপজেলায় যোগ দেন। ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় দায়িত্ব পাওয়ার খবরে শুরুতে কিছুটা মন খারাপ হলেও দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে যায় তার।
মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং বরিশালের মানুষের আন্তরিকতা ধীরে ধীরে এই কর্মস্থলকে তার কাছে প্রিয় করে তোলে। এমনকি যোগদানের মাত্র তিন মাসের মাথায় ঢাকায় বদলির আদেশ এলেও বরিশালের মানুষের মায়া তাকে এখান থেকে যেতে দেয়নি।
দায়িত্ব পালনকালে কীর্তনখোলা নদীতে গভীর রাতে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তিনি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে রাতের আঁধারে নদীতে কাটানো সময়গুলো তার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান।
ভূমি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি নামজারি শুনানি, ভূমিসেবা এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার সমাধানে প্রতিদিনই ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময় কাজের চাপ কিংবা পরিস্থিতির কারণে কারও সঙ্গে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলে থাকলে তার জন্যও বিদায়ের আগে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আজহারুল ইসলাম।
বিদায়ী বার্তায় তিনি নিজের কর্মকালীন ভূমিকার মূল্যায়ন বরিশালের মানুষের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন—তার প্রকৃত বিচার করবেন এই জনপদের মানুষই।
তবে বিদায়ের মুহূর্তে তার নিজের কাছে সবচেয়ে বড় আত্মতৃপ্তি হলো, তিনি হয়তো সবার ভালোবাসা অর্জন করতে পারেননি, কিন্তু মানুষের ঘৃণার কারণ হননি।
বরিশালের গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময়ে সাংবাদিকদের আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ ও মানুষের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
আজহারুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থল পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয়। দায়িত্ব ও পদায়ন বদলে যায়, কিন্তু মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক এবং কর্মস্থলের স্মৃতি সহজে মুছে যায় না।
বরিশাল সদর থেকে বিদায়ের মুহূর্তে তাই তার সঙ্গে থাকছে কীর্তনখোলা নদীর রাতের অভিযান, ভূমি অফিসের ব্যস্ত দিনগুলো, অসংখ্য মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা পারস্পরিক সম্পর্কের স্মৃতি।
দীর্ঘ কর্মযাত্রার শেষে বরিশাল ছাড়লেও মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় নিয়েই নতুন কর্মস্থলের পথে এগিয়ে যেতে চান আজহারুল ইসলাম। তার বিদায় যেন কেবল একটি কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে যাত্রা নয়—বরং বরিশালের মানুষের ভালোবাসা, আতিথেয়তা ও অসংখ্য স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে নতুন দায়িত্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক আবেগঘন অধ্যায়।









