ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে বিরোধীয় জমি দখলের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দেখেই তেড়ে আসলেন অভিযুক্তের স্ত্রী! বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান ছালেহের পিতার মৃত্যুতে এ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর গভীর শোক প্রকাশ প্রযুক্তি শিক্ষায় নারীদের স্বনির্ভরতার স্বপ্ন, বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকে যাত্রা শুরু! বরিশালে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বরিশাল ভাটারখাল বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হতে হবে -বিসিসি প্রশাসক বরিশালে মানিক মিয়া মহিলা কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে বরিশালে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম রুপাতলীতে বদরপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘মিজান সুইট মিটে’র উদ্বোধন জমি বিরোধের জেরে কাউন্সিলরকে নিয়ে মিথ্যাচার ও হয়রানী, ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা-সুষ্ঠু তদন্ত দাবী!

উপাসনালয়ে ভাতাঃ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও আমাদের প্রত্যাশা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মতিউল ইসলাম রানা
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ ধরনের কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার প্রকাশ।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শুধু উপাসনার স্থান নয়; নৈতিকতা, মানবিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধ গঠনে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবায়েত ও খাদেম সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁদের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তবে কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর। কোন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ভাতার আওতায় আসবেন, কীভাবে তাঁদের যাচাই করা হবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত হবে—এ বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ও জাতীয় নীতিমালা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় করার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমাম, পুরোহিত ও ধর্মীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
এক্ষেত্রে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্‌ফ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে স্বচ্ছ যাচাই ও নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ভাতা যেন কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের হাতিয়ার না হয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রকৃত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
রাষ্ট্রের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আমরা আশা করি, সঠিক নীতিমালা, স্বচ্ছ বাছাই ও জবাবদিহির মাধ্যমে উপাসনালয়ে ভাতা কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও মানবিক, সুশৃঙ্খল ও সমাজকল্যাণমুখী করার কার্যকর উদ্যোগে পরিণত হবে।
এই লক্ষ্যেই বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কয়েকটি মসজিদ ও মন্দিরের সার্বিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয়দের মতামত নিয়ে আমাদের প্রতিবেদকরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেই বাস্তবচিত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রতিবেদনে সরকারের বিবেচনার জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হবে।

লেখক:
মতিউল ইসলাম রানা
সাবেক উন্নয়ন প্রকল্প কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কর্মী

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

উপাসনালয়ে ভাতাঃ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও আমাদের প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ১২:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতিউল ইসলাম রানা
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ ধরনের কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার প্রকাশ।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শুধু উপাসনার স্থান নয়; নৈতিকতা, মানবিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধ গঠনে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবায়েত ও খাদেম সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁদের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তবে কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর। কোন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ভাতার আওতায় আসবেন, কীভাবে তাঁদের যাচাই করা হবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত হবে—এ বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ও জাতীয় নীতিমালা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় করার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমাম, পুরোহিত ও ধর্মীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
এক্ষেত্রে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্‌ফ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে স্বচ্ছ যাচাই ও নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ভাতা যেন কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের হাতিয়ার না হয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রকৃত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
রাষ্ট্রের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আমরা আশা করি, সঠিক নীতিমালা, স্বচ্ছ বাছাই ও জবাবদিহির মাধ্যমে উপাসনালয়ে ভাতা কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও মানবিক, সুশৃঙ্খল ও সমাজকল্যাণমুখী করার কার্যকর উদ্যোগে পরিণত হবে।
এই লক্ষ্যেই বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কয়েকটি মসজিদ ও মন্দিরের সার্বিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয়দের মতামত নিয়ে আমাদের প্রতিবেদকরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেই বাস্তবচিত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রতিবেদনে সরকারের বিবেচনার জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হবে।

লেখক:
মতিউল ইসলাম রানা
সাবেক উন্নয়ন প্রকল্প কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কর্মী