ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ উপাসনালয়ে ভাতাঃ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও আমাদের প্রত্যাশা বরিশালে আবদুল্লাহ হাসপাতালের উদ্যোগে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত বরিশালে ল্যাবএইডের উদ্যোগে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত বরিশালে নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত জিয়াউদ্দিন সিকদারের নির্দেশে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হাসপাতালে সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর পাশে ‘জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’ বরিশাল জিলা স্কুলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আন্তঃশ্রেণি দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বরিশাল মহানগর বিএনপি- জিয়াউদ্দিন সিকদার নুরুল আমিনের নেতৃত্বে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির বিশাল প্রতিবাদ মিছিল

বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে দৈনিক বরিশাল মুখপত্রের বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল অপূর্বের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কথিত বিএনপি নেতা বাবুল মোহরী, সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির, দিপু ও হায়দারসহ ২৫ থেকে ৩০ জন দুই সাংবাদিককে ঘিরে ধরে হামলা চালান। এ সময় তাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ও ‘আওয়ামী লীগের লোক’ বলে অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও সাইফুল অপূর্ব। তারা সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় ভিডিও ধারণের বিষয়টি দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া এবং সংঘর্ষের ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। পরে দুই সাংবাদিককে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় আশপাশের আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে নিজেদের ছাত্রদল-যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করাই কি একজন সাংবাদিকের অপরাধ?

সাংবাদিকদের অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের পরিচয় নিয়ে অপমান, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং ধারণ করা সংবাদচিত্র মুছে দেওয়ার চেষ্টা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সাংবাদিক মহলের দাবি, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, হামলা এবং ভিডিও মুছে ফেলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে বরিশাল আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য সম্ভাব্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সাংবাদিকদের দাবি, কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত—এমন পরিচয় ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, সাংবাদিককে লাঞ্ছিত কিংবা সংবাদচিত্র মুছে ফেলার অধিকার রাখেন না। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযুক্ত বাবুল মোহরী, সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির, দিপু ও হায়দারসহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে দৈনিক বরিশাল মুখপত্রের বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল অপূর্বের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কথিত বিএনপি নেতা বাবুল মোহরী, সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির, দিপু ও হায়দারসহ ২৫ থেকে ৩০ জন দুই সাংবাদিককে ঘিরে ধরে হামলা চালান। এ সময় তাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ও ‘আওয়ামী লীগের লোক’ বলে অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও সাইফুল অপূর্ব। তারা সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় ভিডিও ধারণের বিষয়টি দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া এবং সংঘর্ষের ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। পরে দুই সাংবাদিককে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় আশপাশের আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে নিজেদের ছাত্রদল-যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করাই কি একজন সাংবাদিকের অপরাধ?

সাংবাদিকদের অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের পরিচয় নিয়ে অপমান, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং ধারণ করা সংবাদচিত্র মুছে দেওয়ার চেষ্টা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সাংবাদিক মহলের দাবি, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, হামলা এবং ভিডিও মুছে ফেলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে বরিশাল আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য সম্ভাব্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সাংবাদিকদের দাবি, কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত—এমন পরিচয় ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, সাংবাদিককে লাঞ্ছিত কিংবা সংবাদচিত্র মুছে ফেলার অধিকার রাখেন না। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযুক্ত বাবুল মোহরী, সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির, দিপু ও হায়দারসহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।