ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুবদল নেতা জি এম মনিরের মৃত্যুতে বরিশাল মহানগর বিএনপির শোক কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষায় নিজেদের গড়ে উঠতে হবে বরিশালে এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংসদ সরোয়ার এ.কে স্কুলে সিরাতুন্নবী (সা.) পালিত বিএনপি কর্মী ও স্বজনদের অসুস্থতায় খোঁজ নিতে হাসপাতালে শয্যাপাশে জিয়াউদ্দিন সিকদার সুবিধা নয়, গ্রেপ্তারের পর গুরুত্বর অসুস্থ্য আ’লীগ নেতাকে বিশেষ নজরদারীতে রেখে অপ-প্রচারের শিকার পুলিশ সদস্যরা! আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ/ বানারীপাড়ার সাবেক মেয়রের জমিতে সীমানা প্রচীর নির্মাণ! বরিশাল বিমানবন্দর থানার নতুন ওসি রফিকুল ইসলামের দায়িত্বভার গ্রহণ মাদক কারবারিদের আতঙ্ক ওসি সনজিত, স্বস্তিতে কাউনিয়াবাসী! প্রয়াত সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির পরিবারের পাশে জিয়াউদ্দিন সিকদার স্মরণকালের অন্যতম বড় সাফল্য/ নটরডেম কলেজে সুযোগ পেলো বরিশাল জিলা স্কুলের ২৭ শিক্ষার্থী- প্রশংসিত প্রধান শিক্ষক!

মনগড়া অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা, কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বরিশালের কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সি জেল থেকে বের হয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, সঠিক তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সি তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের একটি ছবি প্রকাশ করে পাবেল মুন্সি লেখেন, এই সেই বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই মোস্তাফিজ, যিনি কারো কথামতো এবং মোটা অংকের টাকা ঘুষ খেয়ে আমার নামে মিথ্যা চার্জশিট দিয়ে আমাকে জেলে পাঠিয়েছেন। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্তের প্রার্থনা করছি এবং এই এসআই মোস্তাফিজের বিচার চাই।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের এক বৃদ্ধকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামিন চাইতে এলে আদালত তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সি চরমোনাই ইউনিয়নের ডিঙ্গামানিক গ্রামের রফিক মুন্সির ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ডিঙ্গামানিক এলাকার মৃত রহম আলী হাওলাদারের ছেলে মো. জাফর হাওলাদার গত বছরের ২ নভেম্বর বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সিসহ ৮ জনকে নামীয় আসামি এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কোতোয়ালী থানাধীন ৫ নম্বর চরমোনাই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বুখাইনগর বাজারে “কবির স্টোর” নামে একটি মুদি দোকানে বিভিন্ন সময় বাকিতে পণ্য নিয়ে টাকা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে পাওনা টাকা চাইলে অভিযুক্তরা দোকান মালিককে হুমকি দিতে থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আসামিরা রামদা, দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে দলবদ্ধভাবে দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকান মালিক কবির হাওলাদারকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ভাই তানভীর আলমও হামলার শিকার হন। এছাড়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসা এক নারী স্বজন রুবিনাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার সময় দোকানের ক্যাশবাক্সে থাকা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর পুরো ঘটনা তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পাবেল মুন্সিসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি। জেল থেকে বের হয়ে আমাকে বেকায়দায় ফেলতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতয়ালী মডেল থানায় যোগদানের পর থেকেই এসআই মোস্তাফিজুর রহমান সততা, পেশাদারিত্ব ও দুরদর্শীতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আস্থা অর্জন করেছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দায়িত্বশীল ও সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তোলার আগে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই হওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

মনগড়া অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা, কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ!

আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক

বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বরিশালের কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সি জেল থেকে বের হয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, সঠিক তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সি তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের একটি ছবি প্রকাশ করে পাবেল মুন্সি লেখেন, এই সেই বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই মোস্তাফিজ, যিনি কারো কথামতো এবং মোটা অংকের টাকা ঘুষ খেয়ে আমার নামে মিথ্যা চার্জশিট দিয়ে আমাকে জেলে পাঠিয়েছেন। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্তের প্রার্থনা করছি এবং এই এসআই মোস্তাফিজের বিচার চাই।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের এক বৃদ্ধকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামিন চাইতে এলে আদালত তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সি চরমোনাই ইউনিয়নের ডিঙ্গামানিক গ্রামের রফিক মুন্সির ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ডিঙ্গামানিক এলাকার মৃত রহম আলী হাওলাদারের ছেলে মো. জাফর হাওলাদার গত বছরের ২ নভেম্বর বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সিসহ ৮ জনকে নামীয় আসামি এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কোতোয়ালী থানাধীন ৫ নম্বর চরমোনাই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বুখাইনগর বাজারে “কবির স্টোর” নামে একটি মুদি দোকানে বিভিন্ন সময় বাকিতে পণ্য নিয়ে টাকা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে পাওনা টাকা চাইলে অভিযুক্তরা দোকান মালিককে হুমকি দিতে থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আসামিরা রামদা, দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে দলবদ্ধভাবে দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকান মালিক কবির হাওলাদারকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ভাই তানভীর আলমও হামলার শিকার হন। এছাড়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসা এক নারী স্বজন রুবিনাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার সময় দোকানের ক্যাশবাক্সে থাকা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান কনটেন্ট ক্রিয়েটর পাবেল মুন্সিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর পুরো ঘটনা তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পাবেল মুন্সিসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি। জেল থেকে বের হয়ে আমাকে বেকায়দায় ফেলতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতয়ালী মডেল থানায় যোগদানের পর থেকেই এসআই মোস্তাফিজুর রহমান সততা, পেশাদারিত্ব ও দুরদর্শীতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আস্থা অর্জন করেছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দায়িত্বশীল ও সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তোলার আগে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই হওয়া উচিত।