ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে বিরোধীয় জমি দখলের অভিযোগ, সাংবাদিকদের দেখেই তেড়ে আসলেন অভিযুক্তের স্ত্রী! বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান ছালেহের পিতার মৃত্যুতে এ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর গভীর শোক প্রকাশ প্রযুক্তি শিক্ষায় নারীদের স্বনির্ভরতার স্বপ্ন, বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকে যাত্রা শুরু! বরিশালে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বরিশাল ভাটারখাল বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হতে হবে -বিসিসি প্রশাসক বরিশালে মানিক মিয়া মহিলা কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে বরিশালে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম রুপাতলীতে বদরপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘মিজান সুইট মিটে’র উদ্বোধন জমি বিরোধের জেরে কাউন্সিলরকে নিয়ে মিথ্যাচার ও হয়রানী, ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা-সুষ্ঠু তদন্ত দাবী!

বাকেরগঞ্জে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাকেরগঞ্জে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ!

 

স্টাফ রিপোর্টার

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি বাজারে দলিলমূলে জমির মালিকানা থাকা সত্ত্বেও ভোগদখলে বাধা এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহিউদ্দিন মন্টুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে স্থানীয় লোকমান হোসেন গংয়ের কাছ থেকে সৈয়দ মাহবুব আলম ফোরকান ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। জমিটি ৩৮২৪/২৫ দাগের মোট ৩৯ শতাংশ জমির অংশ বলে জানা গেছে। ক্রয়ের পর ওই জমি তার নামে রেকর্ডও করা হয়েছে বলে দাবি করেন ফোরকান।
ফোরকানের অভিযোগ, জমি কেনার পর থেকেই মহিউদ্দিন মন্টু বিভিন্নভাবে তাকে জমিতে প্রবেশ ও ভোগদখলে বাধা দিয়ে আসছেন। এমনকি ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলা ও স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানান ফোরকান।
পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ফোরকানের দাবি, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীয় জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও এবং পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মহিউদ্দিন মন্টু।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দলিলপত্র অনুযায়ী তারা সৈয়দ মাহবুব আলম ফোরকানকেই ওই ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমির মালিক হিসেবে জানেন। তবে জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহিউদ্দিন মন্টু বলেন, “৩০-৪০ বছর ধরে আমার স্বজনরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।” তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সরকারি সম্পত্তি হয়ে থাকলে সেখানে তার নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সোহেল জানান, আদালতের নির্দেশনার কাগজ তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “বিরোধীয় জমিতে মহিউদ্দিন মন্টু যাতে কোনো ধরনের কাজ করতে না পারেন, সে বিষয়ে তাকে নোটিশ দিয়ে আসব।”
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—দলিল, রেকর্ড ও আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে এর পেছনে কার প্রভাব কাজ করছে? বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

বাকেরগঞ্জে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ!

আপডেট সময় : ০৭:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাকেরগঞ্জে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ!

 

স্টাফ রিপোর্টার

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি বাজারে দলিলমূলে জমির মালিকানা থাকা সত্ত্বেও ভোগদখলে বাধা এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহিউদ্দিন মন্টুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে স্থানীয় লোকমান হোসেন গংয়ের কাছ থেকে সৈয়দ মাহবুব আলম ফোরকান ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। জমিটি ৩৮২৪/২৫ দাগের মোট ৩৯ শতাংশ জমির অংশ বলে জানা গেছে। ক্রয়ের পর ওই জমি তার নামে রেকর্ডও করা হয়েছে বলে দাবি করেন ফোরকান।
ফোরকানের অভিযোগ, জমি কেনার পর থেকেই মহিউদ্দিন মন্টু বিভিন্নভাবে তাকে জমিতে প্রবেশ ও ভোগদখলে বাধা দিয়ে আসছেন। এমনকি ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলা ও স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানান ফোরকান।
পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ফোরকানের দাবি, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীয় জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও এবং পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মহিউদ্দিন মন্টু।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দলিলপত্র অনুযায়ী তারা সৈয়দ মাহবুব আলম ফোরকানকেই ওই ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমির মালিক হিসেবে জানেন। তবে জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহিউদ্দিন মন্টু বলেন, “৩০-৪০ বছর ধরে আমার স্বজনরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।” তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সরকারি সম্পত্তি হয়ে থাকলে সেখানে তার নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সোহেল জানান, আদালতের নির্দেশনার কাগজ তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “বিরোধীয় জমিতে মহিউদ্দিন মন্টু যাতে কোনো ধরনের কাজ করতে না পারেন, সে বিষয়ে তাকে নোটিশ দিয়ে আসব।”
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—দলিল, রেকর্ড ও আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে এর পেছনে কার প্রভাব কাজ করছে? বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।