নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষ নারী জনশক্তি গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে চলতি বছরেই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বরিশাল সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। নগরীর উত্তর আলেকান্দায় স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটির ইতোমধ্যে অধিকাংশ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই শুরু হবে ভর্তি ও পাঠদান কার্যক্রম। নতুন এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো। ইতোমধ্যে একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মহিলা হোস্টেল, টিচার্স ডরমিটরি, স্টাফ কোয়ার্টার এবং অধ্যক্ষের বাসভবনের কাজও প্রস্তুত রয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ওয়ার্কশপ ভবনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে মূল ফটকের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি চালুর মাধ্যমে বরিশাল অঞ্চলে নারীদের কারিগরি শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই হবে এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনোলজি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো— সিভিল টেকনোলজি, অ্যাপারেল ম্যানুফেকচারিং টেকনোলজি, আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। তবে প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রী ভর্তি নেওয়া হবে দুটি টেকনোলজিতে। সেই দুটি হলো— আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান যুগের চাহিদা বিবেচনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজাইনভিত্তিক শিক্ষা নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার, ডিজাইন ও অবকাঠামোগত খাতে দক্ষ নারী কর্মী তৈরিতে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন এস এম সামচুন নাহার। বর্তমানে তিনি বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো: রকিব উল্লাহ বলেন, “বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালু হওয়া দক্ষিণাঞ্চলের নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বর্তমান বিশ্বে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীদের এই ধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আমরা আশা করছি, এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আধুনিক শিক্ষা উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভর্তি ও পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
অধ্যক্ষ এস এম সামচুন নাহার বলেন, “দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নারী সমাজ গঠনে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নারীদের আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।”
এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রকৌশলী মো: আরিফুর রহমান বলেন, “সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। নারীদের প্রযুক্তি শিক্ষায় এগিয়ে নিতে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। দক্ষিণাঞ্চলের নারী শিক্ষার্থীরা এখন নিজ অঞ্চলে থেকেই আধুনিক কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালুর মাধ্যমে শুধু নারী শিক্ষার প্রসারই নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দক্ষ নারী জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন তারা।
