ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুবিধা নয়, গ্রেপ্তারের পর গুরুত্বর অসুস্থ্য আ’লীগ নেতাকে বিশেষ নজরদারীতে রেখে অপ-প্রচারের শিকার পুলিশ সদস্যরা! আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ/ বানারীপাড়ার সাবেক মেয়রের জমিতে সীমানা প্রচীর নির্মাণ! বরিশাল বিমানবন্দর থানার নতুন ওসি রফিকুল ইসলামের দায়িত্বভার গ্রহণ মাদক কারবারিদের আতঙ্ক ওসি সনজিত, স্বস্তিতে কাউনিয়াবাসী! প্রয়াত সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির পরিবারের পাশে জিয়াউদ্দিন সিকদার স্মরণকালের অন্যতম বড় সাফল্য/ নটরডেম কলেজে সুযোগ পেলো বরিশাল জিলা স্কুলের ২৭ শিক্ষার্থী- প্রশংসিত প্রধান শিক্ষক! দায়িত্বে কঠোরতায় অপ-প্রচারের শিকার এসআই বশির! চিকিৎসাধীন বিএনপি কর্মীর বাবাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন জিয়াউদ্দিন সিকদার বরিশালে ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিকে বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস পালিত বাকেরগঞ্জে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ!

সুবিধা নয়, গ্রেপ্তারের পর গুরুত্বর অসুস্থ্য আ’লীগ নেতাকে বিশেষ নজরদারীতে রেখে অপ-প্রচারের শিকার পুলিশ সদস্যরা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রলোভন উপেক্ষা করে আ’লীগ নেতা শিপনকে গ্রেপ্তার, গুরুত্বর অসুস্থতায় রাখা হয় বিশেষ নজরদারিতে- পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার!

অনলাইন ডেস্ক

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানায় আওয়ামী লীগের নেতা কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ডকিং স্টেশন রুমে রাখাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যদের দাবি, ভিডিওটির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। গুরুতর অসুস্থ ওই আসামির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই তাকে নির্ধারিত একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান পরিচালনা করে কোতোয়ালী মডেল থানার একটি দল। অভিযানের সময় তাকে গ্রেপ্তার না করতে অভিযানিক দলের সদস্যদের বিভিন্নভাবে মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল । তবে অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা কোনো ধরনের আর্থিক প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য অর্থের বিনিময়ে যদি অভিযানের গতিপথ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেওয়ার মানসিকতা থাকত, তাহলে গ্রেপ্তারের সময়ই সেই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া যেত। কারণ সেটি পেশাগত দায়িত্বের বিপরীত ও অন্যায়। অভিযানিক দল কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ না করে দীর্ঘ সময় অভিযান পরিচালনার পর শিপনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় আনার পর শিপনের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তার ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ সেবনের প্রয়োজন ছিল। এ কারণে তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়।

অভিযানে থাকা এসআই রুহুল আমিন বলেন, শিপনের ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা ছিল। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য তাকে ওই কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো ধরনের আপ্যায়নের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, আসামির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা প্রয়োজন ছিল। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার কোনো ধরনের শারীরিক বিপর্যয় ঘটলে এর দায়ভার অভিযানিক দলের ওপরই বর্তাত।
সে কারণেই সতর্কতার অংশ হিসেবে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ সদস্যদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কিছু অংশ দেখে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অথচ সেখানে আসামির অসুস্থতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার প্রেক্ষাপটটি সামনে আসছে না।

এদিকে কোতোয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্তির পর থেকে লুৎফর রহমান পেশাগত দায়িত্ব সুনামের সাথে যথাযথভাবে পালন করে আসছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে কাজ করছেন।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে থানায় আনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় অভিযানিক দলের সদস্যরা পেশাগত দায়িত্বের বাইরে কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেননি। বরং গুরুতর অসুস্থ একজন আসামির নিরাপত্তা ও চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েই তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনের সুযোগ এবং নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
1
ট্যাগস :

সুবিধা নয়, গ্রেপ্তারের পর গুরুত্বর অসুস্থ্য আ’লীগ নেতাকে বিশেষ নজরদারীতে রেখে অপ-প্রচারের শিকার পুলিশ সদস্যরা!

আপডেট সময় : ০২:০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রলোভন উপেক্ষা করে আ’লীগ নেতা শিপনকে গ্রেপ্তার, গুরুত্বর অসুস্থতায় রাখা হয় বিশেষ নজরদারিতে- পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার!

অনলাইন ডেস্ক

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানায় আওয়ামী লীগের নেতা কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ডকিং স্টেশন রুমে রাখাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যদের দাবি, ভিডিওটির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। গুরুতর অসুস্থ ওই আসামির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই তাকে নির্ধারিত একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান পরিচালনা করে কোতোয়ালী মডেল থানার একটি দল। অভিযানের সময় তাকে গ্রেপ্তার না করতে অভিযানিক দলের সদস্যদের বিভিন্নভাবে মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল । তবে অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা কোনো ধরনের আর্থিক প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য অর্থের বিনিময়ে যদি অভিযানের গতিপথ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেওয়ার মানসিকতা থাকত, তাহলে গ্রেপ্তারের সময়ই সেই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া যেত। কারণ সেটি পেশাগত দায়িত্বের বিপরীত ও অন্যায়। অভিযানিক দল কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ না করে দীর্ঘ সময় অভিযান পরিচালনার পর শিপনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় আনার পর শিপনের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তার ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ সেবনের প্রয়োজন ছিল। এ কারণে তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়।

অভিযানে থাকা এসআই রুহুল আমিন বলেন, শিপনের ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা ছিল। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য তাকে ওই কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো ধরনের আপ্যায়নের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, আসামির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা প্রয়োজন ছিল। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার কোনো ধরনের শারীরিক বিপর্যয় ঘটলে এর দায়ভার অভিযানিক দলের ওপরই বর্তাত।
সে কারণেই সতর্কতার অংশ হিসেবে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ সদস্যদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কিছু অংশ দেখে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অথচ সেখানে আসামির অসুস্থতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার প্রেক্ষাপটটি সামনে আসছে না।

এদিকে কোতোয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্তির পর থেকে লুৎফর রহমান পেশাগত দায়িত্ব সুনামের সাথে যথাযথভাবে পালন করে আসছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে কাজ করছেন।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে থানায় আনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় অভিযানিক দলের সদস্যরা পেশাগত দায়িত্বের বাইরে কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেননি। বরং গুরুতর অসুস্থ একজন আসামির নিরাপত্তা ও চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েই তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনের সুযোগ এবং নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।