বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরকে
নিয়ে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির-কে ঘিরে একটি
প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাপ প্রয়োগ ও ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। জানা গেছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি এর সময়ে প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান হুমায়ুন কবির। পরবর্তীতে সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র থাকাকালে ২০২০ সালে এক নোটিশের মাধ্যমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। প্রায় চার বছর বহিষ্কৃত থাকার পর ২০২৪ সালে নতুন প্রেক্ষাপটে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরেন। পরে পর্যায়ক্রমে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবির এর স্ত্রী শিক্ষা ক্যাডারে ইংরেজীর প্রভাষক এবং তিনি বরিশালে অক্সফোর্ড মশিন এলাকায় সড়ক ভবনের সহকারী প্রকৌশলীর সাথে শেয়ারে হাউজ বিল্ডিং থেকে আশি লক্ষ টাকা লোন নিয়ে ছয় তলা ভবন নির্মান করেন করেন এবং ২০৩৮ সাল পর্যন্ত লোন পরিশোধ করতে হবে। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের মোট ৩৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবির প্রায় চার বছর বহিষ্কৃত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করা হয়। তার বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার করে তাদের সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্ত চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়েও তাকে বিতর্কে জড়ানো হয়। উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ২১ মে তে অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি কমিটিতে তার কোনো পদ না থাকা সত্ত্বেও তাকে ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, সাবেক মেয়রের সময়ে তাকে সহ-সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও কমিটির কার্যক্রমে অসঙ্গতি থাকায় তিনি নিজেই এতে যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায় প্রশাসক রায়হান কাওসারের সময় এনেক্স ভবনসহ আটটি হেডে মন্ত্রনালয় থেকে দশ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয় কিন্তু এনেক্স ভবনটি পরামর্শকের সুপারিশ অনুযায়ী রেট্রোফিটিং করতে সাড়েছয় কোটি টাকা প্রয়োজন বিধায় এনেক্স ভবনটি রেট্রোফিটিং না করে অন্যান্য আইটেমে বরাদ্দের টাকা খরচ করা হয় যা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে প্রকৃত ব্যয় হিসাবে দেখানো হবে। এনেক্স ভবনে ব্যয় না করা সত্ত্বেও একটি
কুচক্রি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। আরও জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে একাধিক প্রভাবশালী মহল তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু তিনি অনিয়মে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে ‘কাল হয়ে দাঁড়ায়’। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। সূত্র বলছে, এই পদোন্নতির পর থেকেই সিটি করপোরেশনের একটি অংশের অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে তিনি কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয় কিছু গোষ্ঠী। এরপর থেকেই তাকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ও স্থানীয় পত্রিকায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মো. হুমায়ুন কবির কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেন না এবং অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিতে কাউকে সহযোগিতা করেন না। মূলত এই কারণেই একটি অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, সিটি করপোরেশনের সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত দুষ্টচক্রকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
