নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এ এক শিক্ষক ও এক কর্মচারীকে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ালেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
ভুক্তভোগীরা হলেন আরএস বিভাগের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম ও কর্মচারী সুমন হাওলাদার। শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বুধবার সকালে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে গেলে গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে নতুন প্রিন্সিপ্যাল সাব্বির আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, এ বিষয়ে তাদের কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং অব্যাহতির কারণও জানানো হয়নি। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা বিষয়টিকে পরিকল্পিত বলে মনে করছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রতিবাদ জানায়। এতে কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষ এয়ারপোর্ট থানা-এ যান। থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসা হবে।
এদিকে অভিযোগে আরও জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো কার্যকর পরিচালনা কমিটি নেই। পরিচালনা পর্ষদ গঠন না থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালক-আমির হোসেন ও ইমরান চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রফিকুলের অভিযোগ, পূর্বে আমির হোসেন নামের পরিচালককে প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধভাবে সরানোর চেষ্টার প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা থাকার কথাও জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রিন্সিপ্যালের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, প্রিন্সিপ্যাল সাব্বির আহমেদ দাবি করেন, পূর্ববর্তী প্রিন্সিপ্যাল এম এ রহিমের সময়েই ওই দুইজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তার নিজের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আমির হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
এছাড়া এ বিষয়ে আরেক পরিচালক ইমরান চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ। দুই পক্ষ থানায় এসেছিল। তবে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ আসলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে৷
