Logo
নোটিশ :
স্বাগতম একুশের আলো .....

বরিশালে রোগীদের চিকিৎসায় শেবাচিমের সকল ব্যবস্থাপনায়ই ত্রুটিপূর্ণ !

বরিশালে রোগীদের চিকিৎসায় শেবাচিমের সকল ব্যবস্থাপনায়ই ত্রুটিপূর্ণ !

স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত ও জীবাণু নাশক স্প্রে করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

জুবায়ের ইসলামঃ মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বরিশাল শেরে- ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই নেই। এছাড়াও হাত ধোয়ার জন্য স্থাপিত পানির বেসিনগুলো যেন নিজেরাই এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও যথাযথ তদারকির অভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হাসপাতালে আগত জনসাধারণ।হাসপাতালের ভবন ও আশপাশের এলাকায় সর্বশেষ কবে জীবাণু নাশক স্প্রে করা হয়েছে সেটাও যেন উত্তর বিহীন এক প্রশ্ন।

সরেজমিনে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে আগত সেবা প্রত্যাশীদের হাত স্যানিটাইজ করার জন্য হাসপাতালের মূল ভবনে প্রবেশ গেটের দুই পাশে ৩টি করে মোট ৬টি অস্থায়ী বেসিন সংযোজন করা হয়েছে। তবে শেবাচিমে বসানো সেই ৬টি বেসিনের মধ্যে ৪টি বেসিনই অকেজো।

এছাড়াও ২টি বেসিন সচল থাকলেও পাইপ না থাকায় হাত মুখ ধোঁয়ার জীবাণু যুক্ত পানিগুলো নিচে গিয়ে পায়ের উপর পড়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো একটি বেসিনের সামনেও নেই কোন সাবান অথবা জীবাণু নাশক কোন পদার্থ।
বরিশাল বিভাগসহ দেশের প্রায় ১০টি জেলার মানুষ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করার জন্য নিয়মিত শেবাচিমে আসা যাওয়া করলেও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

তবে হাসপাতালের বাহিরের দৃশ্য যেমন তেমন হলেও ভিতরের অবস্থা একটু ভিন্ন। রোগী ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই না থাকলেও ডাক্তার রুমে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে ব্যাপক।

জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে সেবা গ্রহণ করার জন্য শেবাচিমে যতটা কড়াকড়ি আরোপ করা হয় তার ছিটে ফোটাও যেন রোগীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান নয়।এটা যেন করোনা ভাইরাস থেকে শুধু একা সুস্থ থাকার বৃথা চেষ্টা।

এ বিষয় চিকিৎসা সেবা গৃহীতা এক রোগী অভিযোগ করে বলেন,, হাসপাতালে প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার জন্য বসানো বেসিনগুলো প্রায় সবগুলোই জরাজীর্ণ। কোন বেসিনের সামনে স্যানিটাইজার জাতীয় কিছু নেই। এছাড়াও বেসিনের নিচে লাগানো পাইপগুলো অনেক আগেই গায়েব হয়ে গেছে।হাত মুখ ধোঁয়া জীবাণু যুক্ত পানি নিচে পায়ের উপর পড়ে কিন্তু সেদিকে কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই। আমরা হাসপাতালের বেসিনগুলোতে সাবানের ব্যবস্থা করাসহ জীবাণু নাশক স্প্রে করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয় অন্য এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে এসে টিকেট নিয়ে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করার জন্য গিয়েছিলাম। তখন ডাক্তারের রুমের সামনে দুই যুবক দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে যাওয়া মাত্রই কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। আমি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করবো কিন্তু সেখানেও বাঁধা প্রদান করা হয়। পুরো হাসপাতালে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তেমন কোন পদক্ষেপ আমার চোখে পড়েনি অথচ রোগী নয় বরং ডাক্তারের নিরাপত্তায় সব ব্যস্ত। তবে আমরাও চাই রোগী ও ডাক্তার সবাই করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকুক তাই বলে আমাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা থাকবে না।করোনা প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয় শেরে- ই -বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,,,সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করে আমরা আগত রোগীদের সেবা প্রদান করার চেষ্টা করছি।তার পরেও হাসপাতালে যদি কোন অব্যবস্থাপনা থাকে যথাযথ মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সেবা প্রত্যাশী আগত জনসাধারণের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। সেবা নিতে এসে ধর্য্যহারা হবেন না। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করে আপনাদের সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের সহযোগীতা করুন।সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন দেশকে করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখুন।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *