Logo
নোটিশ :
স্বাগতম একুশের আলো .....

বরিশালে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে পালাল কলেজছাত্র!

বরিশালে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে পালাল কলেজছাত্র!

অনলাইন ডেস্কঃ  বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের ২৭নং ওয়ার্ডের রুইয়ারপুল এলাকায় এক স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে এক কলেজ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুরে স্কুলছাত্রীর পিতা বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন। জিডির তদন্ত করছেন এএসআই আবু সালেহ। বালিকা নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো বেল্লাল গাজি (১৮) নবগ্রাম রোডের মহানগর কলেজের ইন্টার ২য় বর্ষের ছাত্র। তার পিতা রুইয়ারপুলে চা বিক্রেতা সোহেল গাজি। তারা স্থানীয় জাহাঙ্গির মাস্টারের ভাড়াটিয়া বলে জানাগেছে। স্কুলছাত্রী তামিম আক্তার (১৬) নগরীর হাতেমআলী চৌমাথা লেক সংলগ্ন ছাবেরা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর ছাত্রী। তার পিতা ইলেকট্রিশিয়ান বাবুল হোসেন। তারা রুইয়ারপুল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের রুইয়ারপুল এলাকায় বাসিন্দা বাবুল হোসেনের ১০ শ্রেণীতে পড়ুয়া কন্যা তামিম আক্তারের সাথে জাহাঙ্গির মাস্টারের ভাড়াটিয়া রুইয়ারপুলে চায়ের দোকানদার সোহেল গাজির পূত্র বেল্লাল গাজির সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। তাদের প্রেমকে পরিনয়ে রুপ দিতে গত রবিবার সকালে প্রেমিক-প্রেমিকা সুখে ঘর বাধার স্বপ্নে অজানার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। স্কুলছাত্রীর মা শিরিন বেগম বলেন, তার মেয়ে তামিমার সাথে একই ক্লাশে পড়া রিয়া আক্তার গত শনিবার সকালে স্কুলের এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে এই কথা জানিয়ে আমার ফোনে কল করে তামিমাকে ওদের বাসায় যেতে বলে। রিয়া আরও বলে আন্টি তামিমাকে খুব দ্রুত আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দিন। আমরা দুই বান্ধুবী একত্রে স্কুলের এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে যাব। আজকের মধ্যেই (রবিবার) জমা দিতে হবে। ওর কথায় আমার মেয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত (গতকাল রাত ৭টা) ফিরে আসেনি। আত্নীয় স্বজনদের বাসায় খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি তামিমাকে রুইয়ারপুলের গোড়ায় চায়ের দোকানদার সোহেল গাজির ছেলে বেল্লাল ওকে নিয়ে পালিয়েছে। এখনও মেয়ের ভালমন্দ কোনই খোঁজ পাইনি। তামিমাকে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করা রিয়া আক্তারের পিতা বরিশাল সাব রেজিষ্টি অফিসের সহকারী দলিল লেখক চুন্নু মিয়া ওরফে শহিদুল আলম বলেন, আমার মেয়ে রিয়ার কোন দোস নেই। তামিমা যে ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে তা ওর নিজের ইচ্ছায়। রিয়া ওদের কোন ধরনের সহযোগীতা করেনি। তামিমার পরিবার আমাকে ও আমার মেয়েকে হয়রানীর উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছে। তাছাড়া শুনেছি তামিমা গত ২ মাস পূর্বেও এই ছেলের সাথেই আরেকবার পালিয়ে গেছিল। সেই ঘটনার দুইদিন পর তামিমা ফিরে আসলে তার মামার বাসা থেকে নিয়ে আসে ওর স্বজনরা। নাবালিকা বালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিরুদ্দেশ হওয়া বেল্লালের পিতা সোহেল গাজি বলেন, আমি ছেলের (বেল্লালের) বিষয়ে কিছুই জানি না। ওর কোন দায়-দায়িত্ব আমি নিব না। ও আমার মান সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। আমি হার্টের রোগী, টেনশন নিতে পারি না। তামিমার পিতা বাবুল হোসেন জানান, আমার মেয়ে স্কুলে যাবার কথা বলে রবিবার সকালে বাসা থেকে বেড়িয়েছে। ২ দিন হলেও বাসায় ফিরে আসেনি। তাই মেয়ের সন্ধায় চেয়ে এয়ারপোর্ট থানায় আজ (গতকাল) জিডি করেছি। জিডির তদন্ত করছেন এএসআই আবু সালেহ। এবিষয়ে ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, বেল্লাল ও তামিমার অভিভাবকরা আমাকে মৌখিক জানিয়েছে। আমি তাদের থানা পুলিশকে জানাতে বলেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। একটি বিশেষ সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ২ মাস পূর্বেও বেল্লাল ও তামিমা পালিয়ে গেলে সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে দেয়া হবে এমন কথার আশ্বাস দিয়ে ফিরেয়ে আনা হয়। কিন্তু ২ মাস অতিবাহিত হলেও তাদের দু’জনকে বিয়ে দেয়া হয়নি। উল্টো মেয়ের পরিবারের সদস্যরা বেল্লালের পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল করেছে। সেই কথা প্রেমিকা তামিমার কানে পৌছালে তার পরিবারের উপর ক্ষুব্দ হয়ে প্রেমিককে নিয়ে ২য় দফায় নিরুদ্দেশ হয়েছে বলে একটি অসমর্থিত সূত্রের দাবী। বেল্লালের এক ঘনিষ্ট বন্ধু জানান, ওরা উধাও হওয়ার আগে তাকে বলে গেছে এবার পালিয়ে যাব দু’জন। যদি ফিরতেই হয় ফিরব ৩জন হয়ে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *