Logo
নোটিশ :
স্বাগতম একুশের আলো .....

বরিশালের সেই লম্পট শহিদের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশালের সেই লম্পট শহিদের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্কঃ অবশেষে নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডে ১২ বছর বয়সী ৬ষ্ঠ শ্রেণীর সেই ছাত্রীকে নিয়ে উধায় হওয়া শিক্ষক মোঃ শহিদ খান(৫৩) এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  শনিবার বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় ভূক্তভোগী কিশোরীর মা ডালিয়া বেগম মোঃ শহিদ খানকে একমাত্র আসামী করে মানবপাচার আইনের ৭ ধারায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-১৪। উল্লেখ্য, গত ২৯ মে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী মেঘামনিকে প্রলোভন দেখিয়ে উধায় হয়ে যায় মোঃ শহিদ খান।

উধায় হওয়ার ৬দিন পর গত বুধবার রাত ৯টার দিকে শহিদের দুর সম্পর্কের বোন এক বোন ইচলাদী ডেকে নিয়ে মেঘামনিকে তার পিতা ফিরোজ হাওলাদারের হাতে তুলে দেন। সেখান থেকে বরিশাল মেট্রো-৫৪৮ নাম্বারের আলফা মাহিন্দ্রায় হাতেম আলী কলেজ চৌমাথায় নিয়ে আসে।

কিশোরীকে ফিরিয়ে দেবার পর শহিদের ভাই সুমন, বাশার ও মুহিন সহ সাঙ্গপাঙ্গরা ভূক্তভোগীর পরিবারকে মামলা মোকদ্দমা না করতে অব্যহত হুমকি ধামকি দিলে সেই খবর বরিশাল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-(বার) এর কানে পৌছালে উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ মনজুর রহমান পিপিএম (বার) এর দিক নির্দেশনায় গত শুক্রবার ভূক্তভোগীর মা-বাবাকে উদ্ধার করে উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এর কার্যালয়ে এনে ঘটনার বিস্তারিত শুনে তাদের আইনি সহায়তা প্রদান করল।

এর ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে ভূক্তভোগী মেঘামনির মা ডালিয়া বেগম কোতয়ালী মডেল থানায় মোঃ শহিদ খানকে একমাত্র আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম।

সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ২৩নং ওয়ার্ড দক্ষিন সাগরদী সিকদারপাড়ার বাসিন্দা মানিক হাওলাদারের কন্যা ডালিয়া বেগম (২৭) এর সাথে গত ১৩ বছর পূর্বে ফিরোজ হাওলাদারের সাথে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। সেই ঘরেই শিক্ষক শহিদ কর্তৃক ভাগিয়ে নেয়া মেঘা মনি(১২) জন্ম গ্রহন করেন।

গত ১ বছর আগে ডালিয়া বেগমের সাথে ফিরোজ হাওলাদারের ছাড়াছাড়ি হলে গৌরনদীর বাটাজোরের বাসিন্দা সিএনজি চালক রাসেলের সাথে মোবাইলে প্রেমের সূত্রে গত দেড় মাস পূর্বে ডালিয়া বিয়ে করেন। উডালিয়ার ২য় স্বামী রাসেল নব মুসলিম। মেঘার মা জানায়, আমার প্রথম স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ির পর মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করে আসছি।

শত কষ্টের মধ্যেও কন্যাকে মানুষ করতে এক স্বজনের পরামর্শে ২২নং ওয়ার্ডস্থ যুবক হাউজিং সংলগ্ন ট্যালেন্ট স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টারে ভর্তি করে জিয়া সড়কের জয়নাল চাপরাশির বাড়ির বাসিন্দা মামুন খানের মালিকানাধীন এক রুমের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে ৩জন বসবাস করে আসছি।

সম্প্রতি আমি মেয়ের স্কুলের শিক্ষক শহিদ খানকে রাসেলের সাথে বিয়ের কথা জানিয়ে বলি তাকে (রাসেলকে) হিন্দু থেকে মুসলিম করব। তার পরিচিত কোন আইনজীবী আছে কিনা। আমার অনুরোধে শহিদ আমার স্বামী রাসেলকে গত বৃহস্পতিবার হিন্দু থেকে নোটারী করে মুসলিম হবার জন্য বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আতিকুর রহমান জুয়েলের কাছে নিয়ে নোটারী করতে সহযোগীতা করেন। কোর্টের কাজ সম্পন্ন করে আমার স্বামী, মেঘা ও শহিদ সবাই মিলে কাকলীর মোড়ে একটি খাবার হোটেলে নাস্তা করি।

এসময় আমার কন্যা মেঘা মনি চটপটি খাওয়ার বায়না ধরলে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক শহিদ খান(৫৩) বলে সে জেল খানার সামনে থেকে মেঘাকে চটপটি খাইয়ে নিয়ে আসছে। স্বরল বিশ্বাসে কন্যাকে শিক্ষকের হাতে তুলে দিলে মেঘাকে আর নিয়ে আসেনি লম্পট শহিদ। পরে গত বুধবার ইচলাদী তার পিতাকে ডেকে নিয়ে আমার বুকেল ধনকে তার পিতার হাতে তুলে দেয়।

আমি শহিদের কঠোর বিচার দাবী জানাই। উল্লেখ্য, শহিদ খান এ ঘটনার পূর্বেও ফরিদপুরের এক তরুনীনে ধর্ষণ করে বিদেশে পাচার করার অভিযোগে ৯ মাস হাজতবাস করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, শহিদ খান তার বাসায় ট্যালেন্ট স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টারে খুলে সেখানে প্রায় ৩০জন কন্যাকে প্রাইভেট পড়িয়ে আসছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ।

সে এলাকার গরীব ও অসহায় পরিবারের মেয়ে শিশুদের খুঁজে খুঁজে তার অবৈধ কোচিং সেন্টারে ভর্তি করতে উৎসাহ করে। সেখানে ভর্তি হওয়া শিশুদের ও শিক্ষার্থীর পরিবারের নারী সদস্যদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সর্বনাশ করাই শহিদের নেশা ও পেশা।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *