Logo
নোটিশ :
স্বাগতম একুশের আলো .....

বরিশালে কিস্তির টাকার জন্য গৃহবধুর মুখের উপর বই ছুড়ে মারলো আশা সমিতি

বরিশালে কিস্তির টাকার জন্য গৃহবধুর মুখের উপর বই ছুড়ে মারলো আশা সমিতি

ইমরান হোসেন , আর.এ শুভ : করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত থাকবে। ওই সময় পর্যন্ত কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তিকে বকেয়া বা খেলাপি করা যাবে না। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহকদেরকে ঋণের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা বা চাপ দেয়া যাবে না।এ বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটি (এমআরএ) থেকে মঙ্গলবার একটি সার্কুলার জারী করে ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।তবে বরিশাল নগরীতে বিভিন্ন সমিতির মতো আশা সমিতির বিরুদ্বে গ্রাহকদের উপর চাপ প্রয়োগ করে সরকারী নিয়মকে বৃদ্বাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মিত কিস্তি উঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে নগরীর ৫নং ওয়ার্ড পলাশপুরে আশা সমিতির কতৃপক্ষ গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এমনকি কিস্তির টাকা দিতে না পারলে গ্রাহকদের সাথে অশালীন ব্যাবহার করা এবং মুখের উপর বই ছুড়ে ফেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে আশা সমিতির লোন অফিসারদের বিরুদ্বে। ৫নং ওয়ার্ড ৭নং পলাশপুর এলাকার গৃহবধু (৮মাসের অন্তসত্তা) সালমা বেগম জানান, গত মঙ্গলবার আশা’র পলাশপুর ব্রাঞ্চ অফিস থেকে আমার কাছে কিস্তি নিতে আসলে আমি টাকা যোগার করতে না পারায় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং এক পর্যায় আমার মুখের উপর সমিতির বই ছুড়ে মারে ওই লোন অফিসার।

No description available.

একই ওয়ার্ডের আশ’র গ্রাহক (৭নং পলাশপুর) ফারজানা আক্তার বলেন- আমার কাছে কিস্তির টাকা নিতে আসলে আমি বলি আমির স্বামী করোনার পর থেকে বেকার। এই কথা বলার পর আমাকে আশার অফিসার জানিয়ে দেয় যে, আমি যদি টাকা না দেই তাহলে আমার উপর সুদ বেরে যাবে। এদিকে একই এলাকার শারমিন আক্তার জানান, আমি তো শুনছি যে করোনা ভাইরাসের কারনে আপাদত কিস্তি নেওয়া বন্ধ। কিন্তু হঠাৎ করে দেখি আমার বাসার আশা’ সমিতির লোক হাজির। আমি যখন জানাই আমার স্বামী অসুস্ত, তখন সমিতির স্যার জানিয়ে দেন অসুস্থ হলে আমাদের কিছু করার নেই। টাকা না’দিলে আপনাদের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আশা’র এমন অভিযোগ পলাশপুরের অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে শোনা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে আশা’র পলাশপুর ব্রাঞ্চে (হোসনেয়ারা মঞ্জিল) গেলে জানাযায় গত সপ্তাহের মঙ্গলবার সালমা বেগমর কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়েছিলেন আশা’র পলাশপুর ব্রাঞ্চের লোন অফিসার মনিরা নাহার।

No description available.

আর সালমা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী তার মুখের উপর বই ছুড়ে মারেন এই মনিরা।বিষয়টি নিয়ে ব্রাঞ্চের ম্যানেজার সেলিম মাসুদ ও লোন অফিসার মনিরা নাহারের সাথে কথা বলার এক পর্যায় সেখানে হাজির হয়, এ্যাসিস্টেন্ড ম্যানেজার হুমায়ন কবির। তিনি অফিসে প্রবেশ করেই সংবাদকর্মীদের সাথে অশালীন ব্যাবহার শুরু করেন। এবং এসময় এ্যাসিস্টেন্ড ম্যানেজার পরিচয় দানকারী নিজেকে অনেক প্রভাবশালী দাবী করেন। এদিকে ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমআরএ’র সার্কুলারে বলা হয়, কোনো গ্রাহক নিজ ইচ্ছায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করলে তা নিতে কোনো বাধা থাকবে না। গ্রাহকের কিস্তি পরিশোধের কারণে ঋণের মানের কোনো উন্নতি হলে তা করা যাবে।

No description available.

তবে কোনো ক্রমেই কোনো ঋণকে নতুন করে খেলাপি করা যাবে না।সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির অধিকাংশ খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকের ঋণের কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়েছে। করোনার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিল্প, সেবা ও ব্যবসা খাত স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না। করোনার প্রভাবের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঋণ গ্রহীতাদের আর্থিক অক্ষমতার কারণে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি অপরিশোধিত থাকার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ সব বিবেচনায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে ওই সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।এমআরএ থেকে এর আগে গত ২২ মার্চ জারি করা অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি আদায় করা স্থগিত রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে কোনো ঋণকে বকেয়া বা খেলাপি না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। করোনার প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার এর মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।মঙ্গলবার জারি করা সার্কুলারে আরও বলা হয়, গ্রামীণ ক্ষুদ্র অর্থনীতির চাকা সচল রাখার স্বার্থে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন ঋণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সঞ্চয় নেয়া, জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, রেমিটেন্স সেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে হবে। তবে কোনো গ্রাহক যদি তার সঞ্চয় তুলে নিতে চায় সেগুলোও ফেরত দিতে হবে।তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ- এসকল কোন আইন- কানুন কিংবা নিয়ম নীতির ধারে কাছেও নেও আশা’র পলাশপুর ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে বিসিসির ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কেফায়েত হোসেন রনি বলেন, এই সময়ে মানুষ ভালোভাবে ২বেলা খেতে পারেনা। কিস্তির টাকা দিবে কোথা থেকে ? এটা সত্যি অন্যায় এবং সরকারী আদেশ অমান্য করা হয়েছে। আমার ওয়ার্ডের কোন জনগনের সাথে আশা এরকম দূর্ব্যাবহার করলে আমি কিন্তু ছেড়ে কথা বলবোনা। অভিযোগ পেলে অবস্যই ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে বিষয়টি বরিশাল স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষোধের বরিশাল জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক- মো: মামুন অর রশিদ জানিয়েছেন সমিতি গুলোর কর্মকান্ড এখন প্রশ্নবিদ্ব। তাদের এহেন কার্জক্রমের বিরুদ্বে প্রশাসনের আরো কঠোর হওয়া জরুরি। বরিশাল জেলা প্রশাসন থেকেও এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করার কথা জানানো হয়েছে। (চলমান সংবাদের আগামী পর্বে থাকছে বাকি অংশ)।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *