ঢাকা   ২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বুধবার । সন্ধ্যা ৭:৪১

বাউফলে পরিত্যক্ত দুই সেতুতে জনদুর্ভোগ চরমে

সফিউর রহমান মিঠু ,বাউফল

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাউফল ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতু পরিত্যাক্ত অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ওই ব্রীজ দিয়ে চলাচলকারী দুই তীরের কয়েক হাজার জনসাধারণ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থী। বিগত ১৫বছরের বেশি সময় ধরে ওই ব্রীজ দুটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব জৌতা গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাউফল-নওমালা খালের উপর এক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুইটি বেলী ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর আর সংস্কার না হওয়ায় ব্রীজ দুটি ২০০৭ সালের পর থেকে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে ব্রীজে মানুষের চলাচল বন্ধ করা সম্ভব না।

ব্রীজ দুটি গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভাঙ্গা। জৌতা গ্রামের রাড়ী বাড়ি সংলগ্ন ব্রীজটি প্রায় বিশ বছর ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন সেখানে ব্রীজের পিলারের উপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন। এতে নানা সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে ব্রিজ দুটি। এরই অদুরে ১০৪ নং পূর্ব জৌতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অপর আরও একটি ব্রীজ প্রায় পরিত্যাক্ত। প্রতিদিন ওই বিদ্যালয়ে দুই থেকে তিনশত শিক্ষার্থী ব্রীজ পাড় হয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করে। কিন্তু ব্রীজটি নড়বড়ে হওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পারাপার হচ্ছেন।

শিশু শিক্ষার্থীদের আভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভোগান্তি পোহাচ্ছি। বিভিন্ন সময় স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে মেরামত করেছেন কিন্তু সম্প্রীতি ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তারা ব্রীজটি পার হচ্ছেন। স্থানীয় রেজাউল ওহাব মিয়া সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ভাই আপনি এসেছেন? লিখেন আমরা অবহেলিত জনপদের নাগরিক। কোন নেতাই আমাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে না। এই ব্রীজটি প্রায় ২০ বছর ধরে ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে। শেষে আমরা নিজেদের অর্থায়নে ব্রীজের উপর বাঁশে সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছি।

এব্যাপারে বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী মো. সুলতান হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ব্রীজ দুটি পরিদর্শন করে শীগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

%d bloggers like this: