ঢাকা   ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । রাত ৩:৪১

সুদি ব্যবসায়ীদের নয়া কৌশল, হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্কঃ জনগনের কাছ থেকে ব্লাংক চেক নিয়ে, প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সুদি ব্যবসায়ীরা । সুদি ব্যবসায়ীদের গ্রাহকদের কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে নেমেছে নয়া কৌশলে। দিনের পর-দিন চেকের মামলায় জেল খাটছে নিরীহ মানুষ নীরব ভূমিকায় ঊর্ধ্বতনীয় কর্মকর্তার। এন আই এক্ট-এর 138 ধারার আইনটি বর্তমান সমাজে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে দেশের শতকরা 60 শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে তারা বিপদে পড়লে বাধ্য হয়েই এনজিও, সমবায় সমিতি, মাল্টিপারপাস ও সুদি ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হতে হয়। সেই সুযোগে সুদি ব্যবসায়ীরা তাদের কে ব্লাংক চেক রেখে চড়া সুদে ঋণ দিচ্ছে। পরবর্তীতে গ্রাহক কোন সমস্যায় পড়লে তারা গ্রাহকের সমস্যার কথা চিন্তা না করে ব্লাংক চেকে মোটা অংকের টাকা বসিয়ে ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার করিয়ে কোন লিগ্যাল নোটিশ না পাঠিয়ে তাদের কে এন আই এক্ট এর 138 ধারায় চেকের মামলা দিয়ে দেন। এন আই এক্ট এর 138 ধারা অনুযায়ী স্বক্ষার ঠিক থাকলেই যে পরিমাণ টাকা চেকে উল্লেখ থাকবে সে পরিমাণ টাকা ভুক্তভোগীকে দিতে হবে। অথচ ভুক্তভোগী মাত্র 50 হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে এখন তাকে শুধু ব্ল্যাংক চেকে স্বাক্ষর দেওয়ার কারনে 5 লক্ষ টাকা দিতে হবে। তখন ভুক্তভোগী তাদের সহায়-সম্ভল বা জায়গা জমি বিক্রি করে তাদেরকে 5 লক্ষ টাকা দিতে হয় অথচ সে মাত্র 50 হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে বাকি চার লক্ষ 50 হাজার টাকা শুধু এন আই এক্ট এর 138 ধারার কারণে বেশি দিতে হয়েছে। যে টাকা পরিশোধ করতে না পারে সে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর বিনা অপরাধে জেল খাটছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, সরকার এই ব্যাপারে তেমন কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এই ব্যাপারে সিনিয়র এ্যাড. সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ ইউনুস এর সাথে মুঠোফোনে জানান, এন আই এক্ট এর 138 ধারার আইনটি একটু শুদ্ধ করা উচিত। বাংলাদেশের কিছু ব্যাংক, ক্রেডিট ইউনিয়ন, এনজিও, সমবায় সমিতি, মাল্টিপারপাস ও সুদি ব্যবসায়ীরা ব্ল্যাংক চেক নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকে। আইন করা হয় দেশের, সমাজের ও জনগণের উপকারের জন্য, সেই আইনের কারনে যদি জনগণ অন্যায় ভাবে প্রতারণার শিকার হয়, তাহলে আইনটি অবশ্যই সংশোধন করা প্রয়োজন। এন আই এক্ট এর 138 ধারার মামলাগুলো যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করার পর মামলাগুলো আমলে নেওয়া ৷ তাহলে প্রকৃত সত্য ঘটনা বের হয়ে আসবে।

সুত্র; বাংলাদেশ ক্রাইম নিউজ

%d bloggers like this: