ঢাকা   ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । ভোর ৫:২১

সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি যুগান্তকারী রায়ে তাসনিয়া ৫ বছর পর ফিরে পেল তার অধিকার

একুশের আলো ডেস্কঃ বরিশালে সরকারি স্কুলে ভর্তি জালিয়াতির গোমর ফাঁস হলো দীর্ঘ ৫ বছর পরে। এতদিন সাধারন মানুষের মাঝে একটি বদ্ধমূল ধারনা ছিল,সরকারি স্কুলে ভর্তিতে দূর্নীতি বা অনিয়ম হয় । তবে, স্কুল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখনই তা স্বীকারতো করেনি বরং কেউ খাতা নিরিক্ষন করতে চাইলে তাকে বিভিন্ভাবে হেনস্তা হতে হত। তাছাড়া বিগত কয়েক বছর পরীক্ষা নেয়া এবং খাতা মুল্যায়নের দ্বায়ীত্ব দেয়া হয় জেলা স্কুলের সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং মেজিষ্ট্রেদেরকে। তাই অনিয়ম হবার ব্যাপারে কেউ সন্দেহ পোষন করতো না। তবে আদালতের একটি রায় সবকিছুর মূলে কুঠারাঘাত করেছে।
বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ভর্তি পরীক্ষায় এমন একটি জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৫ বছর পর রায় ঘোষনায় সব হিসেব নিকেশ পাল্টে দিয়েছে। গত ২ অক্টোবর বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক কাজী কামরুল ইসলাম এই রায় ঘোষনা করেন। ১৭ নভেম্বর এই রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পান বাদী জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম আবদুল্লাহ। রায়ে আদালত ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ন ৮জন ছাত্রীকে একটি প্রশ্নের ভুল উত্তর দেয়ার পরও তাদের পূর্ন নম্বর দেয়ায় দেয়ার পর্যবেক্ষন দেন। একই সাথে বাদীর মেয়ে সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে যে শ্রেনীতে অধ্যায়নরত সেই শ্রেনীতে তাকে ভর্তি করার নির্দেশ দেন। সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে ৮ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। সরকারি বালিক উচ্চ বিদ্যালয় ভর্তি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক, ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও সরকারি বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ভর্তি কমিটির সদস্য সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ, বরিশালের সিভিল সার্জন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নগরীর গোঁরাচাদ দাস রোডের বাসিন্দা আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম আবদুল্লাহ বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ে সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ ২০১৫ সালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ভর্তি পরীক্ষায় প্রভাতী শাখায় উত্তীর্ন হয়। তবে ফলাফল ঘোসনায় তার মেয়েকে অনুতীর্ন দেখানো হয়। কয়েকজন ভর্তি পরীক্ষার্থী বাদীর মেয়ের চেয়ে কম নম্বর পাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের উত্তীর্ন দেখায়। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখার উত্তীর্ন ১১৪টি প্রশ্ন ও উত্তরপত্র তলব করেন।
পরে আদালত পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, বাদীর মেয়ের প্রাপ্ত নম্বর ছিলো ৩৮.৭৫। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ন অপর ৮ জন ছাত্রী প্রশ্নপত্রের ১৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ভুল দেয়ার পরও তাদের ওই প্রশ্নের বিপরীতে পূর্ন মান ৪ নম্বর করে দেয়া হয়। উপরোক্ত ৮ পরীক্ষার্থী ৪ নম্বর করে কম পেলে তাদের প্রাপ্ত নম্বর তাসনিয়ার চেয়ে কম হয়। এরপরও বাদীর মেয়ে সৈয়দা তাসনিয়াকে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়। রায়ে সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহকে ২০১৫ সালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রনীর প্রভাতী শাখার ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ন ঘোষনা করেন আদালত। একই সাথে সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে যে শ্রেনীতে যে স্কুলে অধ্যায়নরতসেখান থেকে তাকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই শ্রেনীতে (অস্টম) ভর্তি করার জন্য ভর্তি কমিটিকে নির্দেশ দেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদী অ্যাডভোকেট এসএম আবদুল্লাহ বলেন, আইনী লড়াইয়ের পর ন্যায় বিচার পেয়েছেন। তিনি এত বছর পরে তার মেয়েকে মনস্তাত্বিভাবে বোঝাতে পেরেছেন যে, তাসনিয়া ওই সময় ফলাফল খারাপ করেনি বরং তাকে ফেল দেখানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে উত্তীর্ন পরীক্ষার্থীকে অনুত্তীর্ন দেখিয়ে আর যাতে কোন শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা না হয়। ভর্তি অনিয়মের কারনে আর যাতে কোন মায়ের বা শিক্ষার্থীর চোখে অশ্রু না ঝড়ে। এটি একটি যুগান্তকারী রায় হয়ে থাকবে।

%d bloggers like this: