ঢাকা   ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । সকাল ৭:৩৯

সম্রাট ফের কারাগারে

অনলাইন ডেস্কঃ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন সম্রাট। একই সঙ্গে মানবিক বিবেচনায় জামিন চান তিনি। অ্যাড. আফরোজা শাহনাজ পারভীন হিরা সম্রাটের পক্ষ এ আবেদন করেন। সম্রাট দুপুর সাড়ে ১২টায় আদালতে হাজির হন। এরপর শুনানি হয়।

শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, সম্রাট জামিন পেয়ে জামিনের অপব্যবহার করেননি। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ। আড়াই বছর ধরে সম্রাট কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর জামিনে থাকা প্রয়োজন।

আদালত বলেন, ‘তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। মহামান্য হাইকোর্ট জামিন বাতিল করেছেন। কাজেই জামিন বাতিল বহাল থাকবে। জামিনের আবেদন আরও শুনানির জন্য আগামী ২১ জুন ধার্য করা হলো।’

পরে সম্রাটের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে আরেকটি আবেদন করা হয়। আদালত কারাবিধি অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

এর আগে গতকাল সোমবার সম্রাটের জামিন বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩০ মে দিন ধার্য করা হয়।

গত ১৮ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্রাটের জামিন বাতিল করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে তাঁকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল চেয়ে গত ১৬ মে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। এ মামলায় গত ১১ মে সম্রাটকে জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান। ওই দিনই আড়াই বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান সম্রাট।

গত ২২ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে মামলাটি মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালত-৬ এ বদলি করেন। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্রাট অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ আছে, তিনি মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। অনেক সময় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে তার ১ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

%d bloggers like this: