ঢাকা   ২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । মঙ্গলবার । বিকাল ৫:৫৭

শোক দিবস উপলক্ষে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা’র উদ্যোগে কৃষকের মাঝে চারা বিতরন

 আব্দুল মোমিন, নীলফামারীঃ ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা এবং দ্বীপ্তমান যুব উন্নয়ন সংস্থা’র উদ্যোগে ও রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় কাঞ্চনপাড়া ফল-ফসল কৃষক গ্রুপের কৃষকের মাঝে চারা বিতরন করা হয় ১৫ই আগষ্ট ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সদস্য। আজ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দুপুরে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা এবং দ্বীপ্তমান যুব উন্নয়ন সংস্থা’র সভাপতি আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নীলফামারী সদর উপজেলার অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাকাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কৃষ্ণ রায় প্রমুখ। এসময় কাঞ্চনপাড়া ফল ফসল কৃষক গ্রুপের প্রত্যেক কৃষকদের মাঝে তিনটি করে ফলদি চারা বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নীলফামারী সদর উপজেলার অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ই আগষ্ট নৃশংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের, কর্নেল জামিল, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ আরো অনেকে। আমাদের এই শোককে শক্তিতে পরিনত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অাদর্শের সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে। এছাড়াও তিনি বৃক্ষরোপণের জন্য প্রত্যেককে উৎসাহিত করেন। সভাপতিত্বের বক্তব্যে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা এবং দ্বীপ্তমান যুব উন্নয়ন সংস্থা’ র সভাপতি আব্দুল মোমিন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়, একটি ইতিহাস। কখনো ব্যক্ত করে শেষ করা যাবে না বঙ্গবন্ধুর অবদান। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয় দফার প্রণেতাও ছিলেন তিনি। ’৭০-এর নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বজ্র দৃপ্ত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এ ঘোষণায় উদ্দীপ্ত উজ্জীবিত বাঙালি জাতি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনেন দেশের স্বাধীনতা। জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুরুষ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এ স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৫ই আগষ্ট ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। উল্লেখ্যঃ রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের কৃষি কার্যক্রমগুলো পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে কৃষি প্রনোদনার স্থায়ী প্রদর্শনী, রোপন আমন প্রদর্শনী, কলা বাগান প্রদর্শনী। উক্ত ইউনিয়নের রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বৃক্ষ রোপণেন পরামর্শ প্রদান করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

%d bloggers like this: