ঢাকা   ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । মঙ্গলবার । রাত ১২:০৩

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের খোলা চিঠি

খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি মোঃ বাবুল হোসেন,পিতা মরহুম মোঃ রহম আলী হওলাদার, মাতা-মরহুম আমিরুন বেগম। আমি বরিশাল জেলা বারের একজন শিক্ষানবিশ। আমি ২০১২ সালে এম এস এস ও ২০১৪ সালে এল.এল.বি তে প্রথম স্হানে সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে পাস এবং এল.এল.এম এ প্রথম বিভাগে প্রথম স্হান অর্জন করে দীর্ঘ ৬ টা বছর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য হওয়ার জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করে যাচ্ছি। কিন্তু, নিষ্ঠুর বার কাউন্সিলের অব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যে আমার জীবন থেকে ৬ টা বছর কেড়ে নিল তার কোন জবাবদিহিতা নাই। আমরা পরিক্ষায় বসার জন্য আন্দোলন করেছি, আমরা কখনও পরিক্ষার বিপক্ষে ছিলাম না। আমরা ৫ টা মাস ধরে হাইকোর্টে, বোরাক টাওয়ারে সর্বশেষ জাতীয় প্রেসক্লাবে অনশন কর্মসূচি পালন করে চলেছি, আমরা বার কাউন্সিলের ১৪ জন নির্বাচিত স্যারদের কাছে গিয়েছি, আমরা আইনমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে গিয়েছি, আমাদের যৌক্তিক দাবির পক্ষের মহান সংসদে আপনার উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছে, আমরা এক দিনে আপনার বরাবর ৬৪ টি জেলা থেকে এক যোগে স্মারকলিপি দিয়েছি, সবাই আমাদের দাবী যৌক্তিক বলে সমর্থন করলেও কেউ আমাদের দায়িত্ব কাধে তুলে নেন না, সবাই আশ্বাস দিয়ে থাকেন, হাইকোর্টের নিয়ম অনুযায়ী বছরে কমপক্ষে ২ টা করে পরিক্ষা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আজ ৪ টা বছর পরিক্ষা না হওয়ায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে এই করোনা কালিন সময় নিদারুন কষ্টে আমাদের জীবন চলছে। ইতিমধ্যে আপনি প্রতিটা সেক্টরে অনেক প্রনোদনা দিয়েছেন, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অটোপাসের ব্যবস্থা করেছেন, বিসিএস পরিক্ষায় লিখিত মওকুফ করেছেন, কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্ছ ডিগ্রি অর্জন করেও আজ পরিবার কে কিছুই দিতে পারি না। আমরা ৯০ হাজার শিক্ষার্থী থেকে মাত্র ১২৮৭৮ জন শিক্ষার্থী এম.সি.কিউ কঠিনতম পরিক্ষায় পাস করেছি, আমাদের দাবি করোনা কালিন সময় লিখিত পরিক্ষা মওকুফ করে একটা ভাইভা নিয়ে আমাদের কর্মে প্রবেশের সুযোগ করে দিন। সারাদেশে অসংখ্য শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত, অনেকে করোনায় মৃত্যুবরনকরেছেন,বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ধাপ চলছে এমন সময় আগামি ১৯ সে ডিসেম্বর লিখিত পরিক্ষার তারিখ বার কাউন্সিল ঘোষনা করেছেন, যে তারিখের লিখিত পরিক্ষায় বসার কোন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নাই।সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এই প্রচন্ড শীতে ঢাকায় যেয়ে পরিক্ষার হলে বসা মানে মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গন করা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। তাই আমরা ১২৮৭৮ জন আইনের শিক্ষার্থী আপনার সাথে সাক্ষাত করার বিনীত আবেদন করছি এবং আমাদের লিখিত পরিক্ষা মওকুফের জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি, আশা করি এই বিজয়ের মাসে, মুজিববর্ষে আপনি আপনার ১২৮৭৮ জন সন্তানকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিবেন না।
আমরা শিক্ষানবিশরা আপনার সাক্ষাত কামনা করছি।

আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায়-
মো: বাবুল হোসেন
আহবায়ক
বরিশাল জেলা
বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষানবীশ আইনজীবী পরিষদ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

%d bloggers like this: