ঢাকা   ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । বিকাল ৪:৫১

মেহেন্দিগঞ্জে পংকজ অনুসারীদের তান্ডব, নৌকা কর্মীদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর! আহত- ৩

অনলাইন ডেস্কঃ টানা ২বার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বরিশাল -৪ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এমপি পংকজ নাথ। আর তিনি এখন আ’লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষা করে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জের উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের হারাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে । অভিযোগে আরো জানা যায়, বৈঠক করে নৌকার বিপক্ষে কাজ করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তার নির্দেশে নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, মামলা, হুমকি, পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। বরাবরের ন্যায় ঘোড়া ও আনারস প্রতীকের পক্ষে সরাসরি ভোট চাইছেন এমপির অনুসারীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা কাজী আব্দুল হালিম চৌধুরী মিলন’র কর্মী আলমগীর মাঝির বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রস্বস্র নিয়ে হামলা চালায় নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস মার্কা রুমা বেগম’র সন্ত্রাসী ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী তারেক সরদারের নেতৃত্বে । সন্ত্রাসীরা ওই ইউনিয়নের সুলতানী এলাকার নৌকার কর্মী আলমগীর মাঝির পায়ের রগ কেটে দেন। এছাড়াও আরো ৩জন নারী-পুরুষ জখম হয়। আহতদেরকে তাদের স্বজনরা উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ করেন। এদের মধ্যে আলমগীর মাঝির অবস্থা গুরুত্বর। আহত আলমগীর মাঝির স্বজনরা অভিযোগ করেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার এস আই মিঠুর উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় তখন সে নিরব ভূমিকা পালন করেন। এ সময় এস আই মিঠুর গায়ের পোশাকে রক্তের দাগ দেখা যায়। নৌকার প্রার্থীর অভিযোগ পুলিশের উপস্থিতিতে এই হামলা চালায় পংকজ নাথ এমপির সমর্থিত আনারস মার্কার প্রার্থীর সন্ত্রাসী ছেলের নেতৃত্বে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এদিন হঠাৎ করে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছেলে তারেক, রাকিব, মোশাররফ ও চুন্নুর নেতৃত্বে বহিরাগত ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা মাঝি বাড়িসহ ১০/১৫টি ঘরে হামলা ভাংচুর করে এবং খোরশেদ সিকদারের দোকানসহ ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালায়। এ সময় নৌকার ৪জন আহত হয়। নৌকার সমর্থক হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট চালায়। স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীরা বলেন, এমপির লোকজন সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে বলছেন ‘এই নৌকা সেই নৌকা নয়, এই নৌকায় ভোট দিলে এলাকায় উন্নয়ন হবে না, আমাদের এমপি তাদের পছন্দ করেন না, কোথাও কোথাও আবার নৌকার কর্মীদের চড় থাপ্পড় মারার অভিযোগ । এছাড়াও সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প ছড়িয়ে দিচ্ছেন, প্রকাশ্যে একটি স্বরণসভার নামে এমপি পংকজ নাথ, নৌকার বিদ্রোহীদের পক্ষে নিজের মতামত দেওয়ার পর পরই অশান্ত করে তুলছেন উলানিয়া ইউপি পরিষদ নির্বাচনী এলাকায়। এমপির অনুসারীরা প্রত্যেকটি ইউনিয়ন থেকে নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে বলছেন ‘এই নৌকা সেই নৌকা নয়’, মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, প্রবীণ আ’লীগ নেতারা বলেন, এ অবস্থায় যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য এমপি সাহেব দায়ী থাকবেন। বলা হচ্ছে- নৌকার এজেন্ট হলে তাদের মেরে ফেলা হবে। দুই ইউনিয়নে নৌকার সমর্থক প্রায় শতাধিক আহত হয়েছেন। উল্লেখ এর আগেও ২টি উপজেলাসহ ৮টি নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপরীত বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নৌকা হারিয়েছেন। ২জন নৌকার কর্মীকে হত্যা করেছেন, অসংখ্য বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠা করে প্রকৃত আ’লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা হামলা চালিয়ে এলাকা ছাড়া করেছেন। এছাড়াও এই সাংসদের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন নেতাকর্মীরা।

%d bloggers like this: