ঢাকা   ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । বিকাল ৫:২৯

ভাণ্ডারিয়ায় চা বিক্রেতার দোকান ভেঙ্গে চেয়ারম্যানের পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ!

অনলাইন ডেস্কঃ পিরোজপুরে ভান্ডারিয়ায় চা বিক্রেতার দোকানঘর ভেঙ্গে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে।এছাড়া ওই চা বিক্রেতা কে এলাকা থেকে উৎখাত করতে চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন ভয়-ভীতি সহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।এমনটাই অভিযোগ করেন ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর পৈকখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদ আলীর ছেলে দিনমজুর চা বিক্রেতা সৈয়দ আলমগীর হোসেন।অভিযুক্ত মজিবুর রহমান চৌধুরী ভাণ্ডারিয়ার ৭ নং গৌরীপুর ইউনিয়নের মৃত মকবুল চৌধুরীর ছেলে এবং বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান।

চা বিক্রেতা আলমগীর জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলমগীরের ক্রয় কৃত সম্পত্তি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সাথে বিরোধ চলে আসছে।পৈকখালী বাজারের উপর অবস্থিত ঐ সম্পত্তিতে দোকান ঘর উঠিয়ে চা বিক্রি করেন আলমগীর হোসেন।
গত ১৬ নভেম্বর আলমগীরের চায়ের দোকানের কিছু অংশ ভেঙ্গে দিয়ে ৫ তলা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে দেয় চেয়ারম্যান মজিবর ও তার সহযোগীরা।বিষয়টি নিয়ে আলমগীর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।এছাড়া তিনি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়া থানায় গত ১৩ নভেম্বর অভিযোগ করা হলে উল্টো বিপাকে পড়তে হয় আলমগীরের।অভিযোগ দেয়ার পর থেকে আলমগীর ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

অন্যদিকে জমি ফিরে পেতে আলমগীর বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থিতিঅবস্থা বজায় রাখার জন্য ভান্ডারিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়।
আলমগীরের দাবি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন কাজ বন্ধ না করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে।

গৌরীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু জানান, আলমগীরের চায়ের দোকানের পিলার ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে এটা সত্য। আমি সরেজমিনে গিয়ে নিজে দেখেছি। তবে এটা তার সাথে অন্যায় করেছে।এছাড়া আলমগীরের সাথে চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরীর দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আমার সময় আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন রোয়েদাত নামার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে দেই।মজিবুর রহমান বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান হয়ে এ ধরনের কাজ করে থাকলে এটা ঠিক করেনি।অপরদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুররহমান চৌধুরী জানান, চায়ের দোকানদার আলমগীরের দোকান ভেঙ্গে দেয়া হয়নি। যদি আলমগীর বলে থাকে এটা সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন।

আমি আমার জায়গার পুরানো স্থাপনা ভেঙ্গে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করতেছি। আমার ইউনিয়নে সাড়ে চার বছরে চেয়ারম্যান থাকাকালীন এমন অভিযোগ কেউ করতে পারবে না আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি।চা বিক্রেতা খেটে খাওয়া মানুষ। তার সাথে আমি কেন- আমার লোকজনও এমন কাজ করেনি।তাছাড়া আদালতের নির্দেশে আমি পাইনি, যদি আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেভাবে কাজ করব।সামনে নির্বাচন তাই একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে নাটক সাজিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

অপরদিকে চায়ের দোকানদার আলমগীর বিচার পেতে বরিশাল র্যা্পিড একশন ব্যাটালিয়ন র্যাবের নিকট চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দেন।অভিযুক্ত অন্যান্যরা হলো, চেয়ারম্যানের স্ত্রী পারভিন আক্তার- চেয়ারম্যান এর সহযোগী সোবাহান গাজীর ছেলে রহিম গাজী, মৃত হুকুম আলী হাওলাদারের ছেলে আব্দুস সোবাহান ও আব্দুর রহমান, চরাইল গ্রামের সালাম।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, আলমগীরের জমির সীমানার মধ্যে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব।

কাগজপত্রে আলমগীরের জমির মধ্যে কিছু জমি পাবে বলে দাবি চেয়ারম্যানের।তবে এটা নিয়া সালিশ ব্যবস্থা হয়ে গেছে। কিন্তু আলমগীর বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থিতিবস্থায় বজায় রাখার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয় আদালত। এছাড়া ভূমি সহকারী কমিশনার কে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়।

%d bloggers like this: