ঢাকা   ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । সকাল ৭:০৯

বাকেরগঞ্জে লিটন মেম্বারের সলিং কাজ প্রশ্নবিদ্ধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিম্নমানের ইট, বালি ও অন্যান্ন সামগ্রী দিয়ে রাস্তার সলিং করন কাজ করার পরে ক্ষোভে ফুসেঁ ওঠেন জনগন। আর জনগনের চাপ থেকে বাচঁতে কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখলেও গত কাল থেকে পুনরায় কাজ শুরু করেন বাকেরগঞ্জ পশ্চিম চরাদী ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বর) আনিসুল হক লিটন। তবে কথায় আছে, যেই লাউ সেই কদু। ঠিক পূর্বেও যেই ইট দিয়ে সলিং কাজ করেছিলেন এখনো সেই একই (নিম্নমানের ইট দিয়ে) কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন পশ্চিম চরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এধরনের নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার বিষয়টি সম্পর্কে তাকে বেশ কয়েকবার জানানো হলেও তিনি তাতে কর্নপাত না এলাকাবাসীর করায় সন্দেহের তালিকায় খোদ চেয়ারম্যান নিজেও।

আইনে স্পস্ট করে বলা আছে যে জনগনের জন্য নির্মিত সড়কের কাজে কোন ধরনের অকেজো কাঁচামাল ব্যাবহার করতে পারবেনা। সেক্ষেত্রে কোন জনপ্রতিনিধি যদি উক্ত আইন অমান্য করে তার ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করে তবে তা আইন অমান্যের শামিল। চরাদী ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বাসীন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- এই রাস্তার মেয়াদ হয়তো সর্বচ্চ ৬/৮ মাস যেতেও পারে নাও যেতে পারে। এর চেয়ে যদি আমারা এলাকাবাসী মিলে কাদামাটি দিয়ে রাস্তার সলিং কাজ করতাম তাহলে তাও দীর্ঘস্থায়ী হতো। এদিকে স্থানীয় বাসীন্দারা লিটন মোম্বরের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো জানিয়েছেন পোড়া আর দুই নম্বর ভাঙ্গা ইট দিয়ে রাস্তার সলিং কাজ করে বিল উঠানোই এখন মেম্বরের আসল দান্দা। এই কাজের দিকে চরাদী ইউনিয়ন পরিষধ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তার নজরদারীতে না থাকাকেও দোষছেন এলাকাবাসী। No description available.

তারা মনে করেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যদি এখনো তদারকি না করেন, তবে আগামীতে এই সড়কটি মরনফাদেঁ পরিনত হতে বেশি সময় লাগবেনা। এদিকে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরাদী মৌজে আলী চৌকিদার বাড়ি হতে আলমগীর মৃর্ধার বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত সলিং করন কাজে ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গত ১১ই সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দৈনিক ভোরের অঙ্গীকার পত্রিকা সহ বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পরে বরিশালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে এই সলিং কাজের অনিয়মের বিষয়। শুরু হয়ে ব্যাপক সমালোচনা অভিযোগ সূত্রে সরেজমিনে গিয়ে যার প্রমানও মেলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাদী ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক বাস্তবায়ন হওয়া এই কাজে একেবারে নিম্নমানের ইট ব্যাবহার করা হচ্ছে। এই কাজে যে ইট ব্যাবহার করা হয়েছে, ১নম্বর কিংবা ২নম্বর তো দুরের কথা, ৩নম্বরও নয় বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে সড়কের সলিং কাজের জন্য যে সকল মালামাল ব্যাবহার করা হয়েছে তার সবগুলোই নিম্নমানের। স্থানীয়রা আরো জানিয়েছন নিম্নমানের ইট সহ অন্যান্ন উপকরন দিয়ে তরিগরী করে কোনরকম রাস্তার সলিং করন কাজ করায় কাজ শেষ হতে না হতেই ভিবিন্ন স্থান থেকে ইতিমধ্যে ভেঙ্গে পরার আশংকা দেখা দিচ্ছে। চরাদী ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের এলজিএসপি-৩ এর তথ্য বোর্ড এর আওয়াতাধীন ১লক্ষ টাকা বরাদ্বের এই প্রকল্পের ঠিকাদার হিসাবে রয়েছেন পশ্চিম চরাদী ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বর) মো: আনিসুল ইসলাম লিটন হাওলাদার।

যদিও নিম্নমানের ইট সহ অন্যান্ন উপকরন দিয়ে নিম্নমানের সলিং কাজের বিষয়টি নিয়ে মেম্বর আনিসুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কাজ খুব ভালো হচ্ছে। এসব রাস্তায় এর চেয়ে আর ভালো ইট কি দেওয়া যায় ? আর কাজের ঠিকাদার তো আমি নই, এই কাজের ঠিকাদার হিসেবে আছেন জসিম হাওলাদার। সে দপদপিয়া একটি মাদরাসার শিক্ষক। অপরদিকে চরাদী ইউনিয়ন পরিষধের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের কাছে রাস্তার সলিং কাজের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কিছু জানেননা বলে জানান। স্থানীয় বাসীন্দাদের দাবী অতি দ্রুত যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ রাস্তার এই নিম্নমানের এই কাজের বিষয়টি তদারকি করে ব্যাবস্থা গ্রহন করেন।

(তথ্যসূত্র : চরাদী এলাকাবসী। চলমান সংবাদ- ০২. আগামী সংখ্যায় থকাছে সংবাদের ৩য় পর্ব।)

%d bloggers like this: