ঢাকা   ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । রাত ৩:৫৮

বাকেরগঞ্জে বিলীন হচ্ছে বেরিবাঁধ, দিশেহারা জনসাধারণ

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলাধীন বাকেরগঞ্জ উপজেলায় নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বেরিবাঁধ। নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পরিবেষ্টত বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তুলাতলা নদী তীরে বসবাসকারীরা। উপজেলার পৌরসভা ও কলসকাঠী ইউনিয়নে মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে এই নদীটি ।

আর এজন্যই বলা হয়ে থাকে দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সর্বাধিক নদী সমৃদ্ধ এই উপজেলা , যেখানে স্থল পথের থেকে নদী পথেই মানুষের যাতায়াত বেশি। আর নদীর মানুষগুলোর একটি বৃহত্তর অংশ মৎস্য শিকার করেই জীবিকা-নির্বাহ করে থাকে।

তবে দূর্বল বেরিবাধের কারনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দারা।বাকেপরগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের পাশ দিয়ে শুরু করে লেবুখালী ফেরিঘাট পর্যন্তু নেই শক্ত ভেড়ি বাধ।

পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের অনেক স্থানে বেরিবাধের কোন চিহ্নই নেই।নদীতে একটু পানি বৃদ্ধি পেলেই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় পুরো এলাকা।

হুমকির মুখে পরে আছে ফসলি,মানুষের ভিটে-মাটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনাও নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পথে ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা মোঃ মেহেদী হাসান মিলু বলেন, নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অনেক মানুষ ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে যাবে ।

অন্য এক বাসিন্দা বলেন, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীর পাশে একটি পাকা রাস্তা ছিলো। প্রায় ৫কিলোমিটার লম্বা ওই সড়কটির দুইপাশেই বহু বাড়িঘর ছিলো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে নদীর ভাঙন ও পানি বৃদ্ধির পরিমাণ এতোটাই তীব্র যে সেই রাস্তাসহ বাড়িঘরের জমি সবই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নদী নিজের গতিতে চলে যাচ্ছে, কে জনপ্রতিনিধি, কে রাজনৈতিক নেতা, কে সাধারণ মানুষ কিছুই দেখেনি নদী। সে তার আপন ইচ্ছেতে ভেঙ্গেছে।

প্রবীন এক বাসিন্দা বলেন, নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়া মানুষগুলো যে যার মতো নতুন আবাস গড়েছেন। কেউ জমি কিনে নিজের মতো করে ঘর তুলেছেন, আবার কেউ খাজনার জমিতে ঘর তুলেছেন। কেউ এ গ্রামেই আছেন, কেউ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

তবে বেশিরভাগ মানুষ মৎস্য ও কৃষিজীবী হওয়ায় নদীর কাছে থেকেই ভাঙ্গনের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবনকে এগিয়ে নিচ্ছেন। আর জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি বসতঘর ভাঙা-গড়ার কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ উপজেলাধীন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ভরপাশা ইউনিয়নের লক্ষীপাশা গ্রামের বেশ কিছু জায়গাতেও নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

নদী ভাঙ্গনের কারণে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ফসলি জমি, বসতঘর, বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। নদী ভাঙ্গনে বসতঘর বিলীন হয়ে যাওয়া মোশারেফ হোসেন খান জানান, ভাঙনে গেলো প্রায় ১০ বছরে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। কিন্তু ভাঙ্গনরোধে যেমন কার্যকর ভূমিকা এখনও দৃশ্যমান হয়নি, তেমনি ভাঙ্গনের কবলে পরে নিঃস্ব হওয়া মানুষগুলোকে সেইভাবে কোনো সহায়তাও দেওয়া হয়নি।

এদিকে হোসেন নামে এক ব্যাক্তি জানান, ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার দাবীটি নদী তীরের মানুষ অনেক আগে থেকে করে যাচ্ছে। তবে কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সবাই শুধু আশ্বাস দেয় কাজ করে না।

নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের অনেক কিছু আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তার পরেও সংগ্রামী মানুষ সেখানে গিয়েও বসতি গড়ছেন, নতুন করে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন।

বেরিবাঁধ নির্মান করার স্বপ্ন দেখে কিন্তু বাস্তবে সেটা আর পূরণ হয় না। বেরিবাধের আশা নিয়ে ভাঙ্গন কবলিত মানুষ নতুন করে আবাস গড়ার চিন্তা করছেন।কিন্তু সেখানে নেই জীবনের কোন নিরাপত্তা কোনো রাস্তাঘাট, নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা। তারপর জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তারা।

এ বিষয় বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায় বলেন, নদী ভাঙ্গন ও মানুষের ভোগান্তির বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। শুধু পৌর এলাকা নয় বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। বেরিবাঁধ সংস্কার করার জন্য ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডে জানানো হয়েছে আশা করি অতি দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

%d bloggers like this: