ঢাকা   ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । রাত ৩:৫২

বাউফলে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে দুই শিক্ষিকার সংসার

অনলাইন ডেস্কঃ পটুয়াখালির বাউফল উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়নের ইন্দ্রকূল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনের পুরো একটি ফ্লোর দখল করে সংসার সাজিয়ে বসবাস করছেন ওই বিদ্যালয়ের দুই সহকারি শিক্ষিকা। বিগত ৬ মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদ্যালয় ভবনে বসবাস করছেন সহকারি শিক্ষিকা মোসা. সামসুন্নাহার ও শাহরিয়া আক্তার শিখা। স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই শিক্ষিকা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাঁটিয়েই বিদ্যালয় ভবনে আবাসিকভাবে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ওই দুই শিক্ষিকা বিদ্যালয় ভবনে বসবাসের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত প্রাইভেট কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে বিদ্যালয়ের মধ্যে দুই শিক্ষিকার সপরিবারে বসবাস অন্যদিকে কোচিং বাণিজ্যেন এহেন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের ওই ফ্লোরটিতে সাংসারিক সকল আসবাবপত্র দিয়ে সংসার সাজিয়েছে বসবাস করছেন ওই দুই শিক্ষিকা। দেখে বোঝার কোন উপায়ই নেই যে, এটা একটি বিদ্যালয়, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মনে হচ্ছে বহুতল কোন ভবনের আবাসিক বাসা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, ওই দুই শিক্ষিকা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক। স্থানীয় নেতাদের সাথে তাদের খুব গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই প্রভাব খাঁটিয়ে দিনের পর দিন তারা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে বসবাস এবং কোচিং বাণিজ্য করছে। গত ছয় মাস ধরে এভাবে চললেও বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দুই শিক্ষিকা সামসুন্নাহার ও শাহরিয়া আক্তার শিখা  জানান, তারা বিশেষ বিবেচনায় ওই বিদ্যালয় অবস্থান করে আসছেন। বিদ্যালয় খুললে তারা আবার চলে যাবেন। তাছাড়া বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়েই তারা ওই বিদ্যালয় ভবনে বসবাস করছেন। তবে বন্ধ বিদ্যালয়ে প্রাইভেট কোচিং করানো সম্পর্কে জানতে চাইলে, সু-চতুর উভয় শিক্ষিকা বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিশেষ বিবেচনায় ওই দুই শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে থাকতে দেয়া হয়েছে। তবে বিশেষ বিবেচনা বলতে মূলত তারা কি বোঝাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে সূর্যমনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, আমি অনুমতি দেইনি। ওই দুই শিক্ষিকার থাকার বিষয়ে আমার মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন আমি বলেছি, ‘এই মুহুর্তে যদি ওই ভবনটি প্রয়োজন না হয় সেক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে আমার কোনো আপত্তি নেই’।

বাউফল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন এর কাছে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের ভবনে এভাবে বসবাস কিংবা কোচিং বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

%d bloggers like this: