ঢাকা   ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । শনিবার । দুপুর ১:১২

বর্ণাঢ্য আয়োজনে আত্রাই দলিল লেখক সমিতির আনন্দ ভ্রমণ

নওগাঁ প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনে নওগাঁর আত্রাই দলিল লেখক সমিতির আনন্দ ভ্রমণ-২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(২২শে আগষ্ট) কর্মব্যস্ত জীবনে একটু বিশ্রাম তো সবারই দরকার। দরকার বিনোদন কিংবা ভ্রমণের। কেননা সকাল-সন্ধ্যা অফিস বা কাজ করে দিনশেষে ক্লান্তি এসে ভর করে। তাই একটি ছুটির দিন হয়ে ওঠে প্রতি সপ্তাহের আরাধ্য বিষয়।দেশে প্রবাদ আছে গ্রাম দেখলে যাও কলম আরও বিল দেখলে যাও চলন।
ভ্রমণ “চলনবিল”আরো উপভোগ্য হয়েছে স্থান নির্বাচনের কারণে। একদিনে এর চেয়ে ভালো স্থান আর কী হতে পারে? একই দিনে নৌবিহার আবার বনভোজন। ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে নৌবিহারের বাহন হিসেবে ছিল বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা।আত্রাই রেলীবেড়ী ঘাট থেকে একসময়ের নজরকাড়া নৌকা যখন উত্তর বঙ্গের তথা বাংলাদেশের বিখ্যাত বিল চলনবিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে তখন সত্যিই আনন্দে নেচে ওঠে সবার মন। আত্রাই নদীর রেলীবেড়ী ঘাট থেকে চলনবিলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় নৌকা ।পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল সাতটা থেকে আত্রাই দলিল লেখক সমিতি চত্বরে উপস্থিত হতে থাকেন দলিল লেখক সমিতি পরিবারের সদস্যরা। আবু হেনা মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধায়নে সবাইকে সকালের নাস্তা সরবরাহ করা হয়।সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করে লঞ্চ ছাড়ার অনুমতি দেন।
নৌকা ভ্রমণ ২০২০ আত্রাই দলিল লেখক সমিতি লেখা সম্বলিত টি-শার্ট প্রদান করা হয়।নৌকা তখন আত্রাই রেলীবেড়ী ঘাটের হৈচৈ পেরিয়ে খানিকটা এগিয়েছে। যাত্রার শুরুতেই সাউন্ড সিস্টেমে বেজে ওঠে দেশাত্মবোধক গান। গানে গানে স্মরণ করা হয় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের। গানের সুরে সুরে ঢেউয়ের তালে তালে নৌকা এগিয়ে চলে আত্রাই নদীর বুক চিড়ে।জীবনে যারা প্রথম নৌকা ভ্রমণ করছেন; তাদের আনন্দের আর অন্ত নেই। উচ্ছ্বাসে কখনো নাচছেন। আবার কখনো গেয়ে উঠছেন প্রিয় কোনো গান। সারা বছরের ক্লান্তি ঝেরে সবাই যেন কেমন চঞ্চল হয়ে উঠেছেন। নাচে-গানে মেতে ওঠেন সবাই। সাংস্কৃতিক পর্বে কাওসার,হামিদ সরকার, মিলন, সহ আরো অনেকের পরিবেশনা দিনভর চাঙা রেখেছে সবাইকে।হাসি-আনন্দে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে নৌকা । অনেক আনন্দ উল্লাসে চলতে থাকে ফটোসেশন ও সেলফিযজ্ঞ। ক্যামেরায় তৎপর ছিলেন আল আমিন ও রনি । আত্রাই নদীর উপর নির্মিত সিংড়া ব্রীজ পর্যটন এলাকায় নোঙর করে নৌকাটি। একটু সময়ের বিরতিতে।
দেখতে দেখতে দুপুর একটা নাগাদ নৌকাটি নোঙর করে চলনবিল এলাকায়। নৌকা চলছে চলনবিলের ঐতিহ্য মাখা গন্তব্যে। সবাই হৈ হৈ করে নেমে পড়েন। বালসা,নাটোর পিকনিক স্পটে । কিছুটা পথ হেঁটেই ঘুরে দেখা হয় পর্যটন এলাকা। একদিনে ভ্রমণের। একইসঙ্গে পাওয়া গেল দুই রকম আনন্দ। পানির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে। প্রকৃতি ও নদীর সংস্পর্শে মন হয়ে উঠল আনমনা। নদীপথে আসতে আসতে যেন পানির সঙ্গে মিতালি হয়ে গেল। বহুদিন পর পেলাম নৌকা ভ্রমণের মজাও। একই সঙ্গে নৌবিহার এবং বনভোজন। বিলাসবাজার, বালসা,নাটোরের একটি গ্রাম জায়গাটি চলনবিল বুকে জেগে ওঠা চর বা দ্বীপ,নাম স্বর্ণদ্বীপ। নাটোর জেলা সহ পাবনা,সিরাজগঞ্জ মিলে ঐতিহ্যবাহী চলনবিল । বর্তমানে বর্ষা মৌসুম সবাই খানে পানিতে থৈথৈ। যত দুরে চোখ যায় শুধু থৈথৈ জলরাশি। দিগন্ত জোড়া মাঠ শুধু পানির তালে ঢেউয়ের নাচন। বিলের মধ্যে গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র। বিশ্রামের জন্য রয়েছে একটি ছাউনি। খাবারের জন্য রয়েছে আলাদা বিশাল ঘর।নাম স্বর্ণদ্বীপ কফি হাউজ।ঘুরে জলরাশি দেখার জন্য আছে ছোট ছোট স্পিড বোট,ও গ্রীণল্যান্ড কফি হাউজ। পর্যটন এলাকায় অভ্যাস থাকলে সাঁতারও কাটা যেত।সেখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিনের ভ্রমণের জন্যই স্থানটি উপযুক্ত। খাবারের আয়োজনও নিজেদেরই করতে হয়েছে।
আগে থেকেই খাবারের যাবতীয় বন্দোবস্ত করেই রেখেছিলেন।।দুপুরের খাবার শেষে আবারও নৌকা নিয়ে ছুটে চলা। সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করে আবার আত্রাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা। নৌকা ছাড়ার পর চলে ঠান্ডা পানি ও শুকনো খাবার পর্ব।আনন্দ উল্লাস বিনোদনের ধারাবাহিকতায় বিল পেরিয়ে নদী পথের দুই কুলের সবুজ সমাহারে দৃষ্টি নন্দিত উচ্ছ্বসে কেটে যায় অনেক সময়।বিকেল গড়িয়ে এখন সন্ধ্যার আলো আধাঁরের বুক চিরে ছুটে চলা ।
ততক্ষণে নৌকা আত্রাই নদীর ঘাট ছুঁই ছুঁই। সবাই যার যার ব্যাগ গোছানোর ব্যস্ততা সেরে নেমে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন ও সবার বাড়ী ফেরার শেষ মুহুর্ত ।একদিনের ভ্রমণে অনেক স্মৃতি অনেক ভালোবাসা বুকে নিয়ে বাসায় ফিরবেন সবাই। পুরো যাত্রাপথেই আনন্দ বাড়াতে সার্বিক বিষয়ে সুদৃষ্টি রেখেছেন মোফাজ্জল হোসেন সন্দেশ এবং সাখাওয়াৎ জাহান নয়ন।আগামী বছর এমন সুখময় ভ্রমণের সাক্ষী হওয়ার প্রত্যাশায় চাতকের মতো দৃষ্টি নিয়ে আলো-আঁধারীর শরীর ঘেঁষে সবাই ফিরে গেলেন গন্তব্যে।

%d bloggers like this: