ঢাকা   ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । সকাল ৭:৪১

বরিশাল শেবাচিমে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে মেয়র সাদিক’র কঠোর পদক্ষেপ

অনলাইন ডেস্কঃ  বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের সামনে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার মালিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

সিটি মেয়র বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের আধুনিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল হচ্ছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিশেষ করে গরীব ও অসহায় রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় এ হাসপাতালটির সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। করোনা মহামারীর সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। কিন্তু কয়েকজন অর্থলোভী ডাক্তারের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। কিছু ডাক্তার কমিশনের বিনিময়ে রোগীদের জিম্মি করে আর্থিক ফায়দা লুটছে। তিনি ডাক্তার ও আয়া-বুয়াদের রোগীর রোগ পরীক্ষায় কোন কমিশন না দিতে ডায়ানস্টিক ও প্যাথলজি মালিকদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি তদারকি করতে বান্দ রোড ডাগায়নস্টিক ও প্যাথলজি মালিকদের জরুরী একটি কমিটি গঠন করে কঠোর তদারকির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। প্যাথলজি মালিকরা তার এই প্রশংসনীয় পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নগরীর কালীবাড়ি রোডে সিটি মেয়রের বাসভবনে এক দীর্ঘ মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। সভায় উপস্থিত একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার থেকে ডাক্তার, আয়া-বুয়াদের কমিশন আদায়ের বিষয়টি নিয়েও তিনি কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন আদায়ের ঘটনা নিয়ে অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে শের-ই বাংলা মেডিকেলে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে মেডিসিন ইউনিট-৩ ও ৪ এর দায়িত্বরত একাধিক নার্স জানান, মেডিকেলে নিয়ম নেই কোন চিকিৎসক রোগীদের তার নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাতে পারে। কিন্তু মেডিসিন ইউনিট-৪ এর ডা. মাসুদ নার্স থেকে শুরু করে আয়া-বুয়াদের নির্দেশ দিয়েছেন তার নির্ধারিত তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য। না করালে তাদের পরীক্ষার রিপোর্ট দেখা হবে না বলে রোগীদের সাফ জানিয়ে দিতে বলেন। আর তার নির্দেশ না মানলে ওই দুই চিকিৎসক নার্স ও আয়া-বুয়াদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি নির্ধারিত ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করার কারণে একাধিকবার পরীক্ষাপত্র রোগীর সামনে ছিড়ে ফেলেছেন। এ কারণে আমরাও মাসুদ স্যারের নির্দেশ মানতে বাধ্য হই।

এ ঘটনার পর ডাক্তার এবং আয়া-বুয়াদের প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার কমিশন আদয়ের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে শের-ই বাংলা মেডিকেলের সামনে বান্দ রোডের ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি মালিকদের জরুরী তলব করে নিজের বাসায় ডেকে নেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। পরে ডায়াগনস্টিক মালিকরা মেয়রের বাসায় তার সাথে এক দীর্ঘ মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময় সভায় মেয়র ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের কাছে ডাক্তার ও আয়া-বুয়াদের কমিশন বানিজ্যের বিষয়টি জানতে চান।
সভায় অংশগ্রহণকারী ডায়াগনস্টিক মালিকরা সিটি মেয়রকে বলেন, রেফারেন্স ডাক্তার, ট্রলিতে করে রোগী নিয়ে আসা আয়া-বুয়া এবং রিপোর্টেড ডাক্তারকে পরীক্ষা ফি’র মোট ৮০ ভাগ অর্থ কমিশন দিতে হয়। বাকী ২০ ভাগ অর্থে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর রি-এজেন্ট, ক্যামিক্যাল, ঘরভাড়া, কর্মচারী বেতন এবং বিদ্যুত বিল দিয়ে মালিকরা চলতে পারছেনা। ডায়াগনস্টিক মালিকদের দেয়া বক্তব্যে মেয়র বিস্ময় প্রকাশ করেন। কোন কোন ডাক্তার ও আয়া-বুয়া রোগীর রোগ পরীক্ষার কমিশন আদায় করেন তা বিস্তারিত অবগত হন মেয়র। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কেউ কোন উপদ্রব করেন কিনা তাও খুটিয়ে খুটিয়ে জানার চেস্টা করেন মেয়র।

মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে মেয়র শের-ই বাংলা মেডিকেলের কোন চিকিৎসক, আয়া-বুয়া, ট্রলি বয়কে রোগীর রোগ পরীক্ষা ও আনা নেয়া বাবদ কোন কমিশন না দেয়ার জন্য ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি মালিকদের কঠোর নির্দেশনা দেন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ডাক্তার ও আয়াদের কমিশন বাণিজ্য কঠোরভাবে রুখতে বান্দ রোডের (মেডিকেলের সামনে) ডাগায়নস্টিক ও প্যাথলজি মালিকদের জরুরী ভিত্তিতে একটি কমিটি গঠনের তাগিদ দেন তিনি।

কমিশন বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধে ডাগায়নস্টিক ও প্যাথলজি মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নিয়মতি পরিদর্শক রেখে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কেউ কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোন ধরনের উৎপাত করলে বিষয়টি তাৎক্ষনিক সিটি মেয়র তাকে জানাতে বলেন সংশ্লিষ্টদের। সভায় উপস্থিত একাধিক ডায়াগনস্টিক মালিক এই তথ্য জানিয়েছেন।

মতবিনিময় সভায় সিটি মেয়র ছাড়াও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কাজী মিরাজ, হাবিব মিয়া, মাহবুব মিয়া, বেলায়েত হোসেন, মো. ওয়াহিদ, মো. শামীম, মো. শাহিন, মো. দুলাল সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডাক্তার ও আয়া-বুয়াদের রোগীর রোগ পরীক্ষার কমিশন আদায় বন্ধ এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সিটি মেয়রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরীর বিশিস্টজনরা। এদিকে সিটি মেয়রের অনুরোধে অসহায় ও দুস্থ্যদের ৫০ % ছাড় দেয়ার কথা জানান ডায়াগনষ্টিক মালিকরা।

সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র আরো বলেন, করোনাকালে ডাক্তারদের ভূমিকা প্রসংশনীয়। দুই-একজন ডাক্তারের কারণে বরিশালের ডাক্তার সমাজের বদনাম কোনভাবে কাম্য নয়। তিনি ডায়াগনস্টিক মালিকদের বক্তব্য শুনেছেন। কোন কোন ডাক্তার কমিশন নেয় এবং ছাত্রলীগের কেউ এর সাথে জড়িত কিনা সব কিছু অবহিত হয়েছেন। যেসব ডাক্তার কমিশন নেয় তাদের বিরুদ্ধে শের-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক এবং তার (মেয়র) কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। ডায়াগনস্টিক মালিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে আলোচনা করে এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন মেয়র।

%d bloggers like this: