ঢাকা   ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । রাত ১:০৪

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মােঃ শফিকুল ইসলামের বাণী

“মুজিববর্ষের মূলমন্ত্র- কমিউনিটি পুলিশিং সর্বত্র” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ উদ্যাপনের আনন্দঘন মুহুর্তে বরিশাল রেঞ্জের সকল পুলিশ সদস্য এবং সর্বস্তরের নাগরিকদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন। সেই সাথে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা।

ধারাবাহিকভাবে দেশের উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা স্বভাবিক রাখার স্বার্থে পুলিশ ও জনগণ এক কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন আবর্তন পথে (Development Trajectory) অভিলক্ষ্য-২০২১, এজেন্ডা-২০৩০, রূপকল্প-২০৪১ ও ডেলটা প্ল্যানকে সামনে রেখে গণমানুষকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অবিরাম তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ঢেলে সাজানাে হচ্ছে গতানুগতিক পুলিশি ব্যবস্থাকে। এর ফলে পুলিশি কর্যক্রমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। দেশের চলমান উন্নয়নধারাকে অব্যহত রাখতে এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে মুজিববর্ষের চেতনা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশও গুরুতপূর্ণ অংশীদার। সেই লক্ষে পুলিশ এবং জনতার সম্মিলিত প্রয়াসে বরিশাল রেঞ্জের জেলাসমূহে বিভিন্ন গণমূখী পুলিশিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রেঞ্জের ৬ টি জেলাকে ৪৭২টি বিটে ভাগ করে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরাে গতিশীল ও বেগবান করা।

পুলিশি কার্যক্রমে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করে যাচ্ছে। ফলে বরিশাল রেঞ্জের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। রেঞ্জের ৪৭২টি বিটে মাদক নির্মূল, জঙ্গিবাদের মূলােৎপাটন, ধর্ষণ ও সমসাময়িক অপরাধ দমনের লক্ষে গণমূখী পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং , ওপেন হাউজ ডে, উঠান বৈঠক, তথ্য/অভিযােগ বক্স স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকান্ডকে আরাে বেশি গতিশীল করা হয়েছে। গণমুখী পুলিশিংয়ের অংশ হিসেবে রেঞ্জের জেলাসমূহের গুরুত্বপূর্ন স্থানে এ পর্যন্ত ৬৩৮টি তথ্য/অভিযােগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে এবং সাধারণ জনগণকে কমিউনিটি পুলিশিং দর্শনে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২৩৪ জন মাদক ব্যবসায়ী/মাদকসেবীকে মাদকের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করে নতুন জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে অস্বচ্ছল ৪৫৩ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারন জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ পর্যন্ত বরিশাল রেঞ্জে ৪৮২ জন আত্মসমর্পণকৃত মাদক ব্যবসায়ীকে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনগত সহযােগিতা প্রদান করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বরিশাল রেঞ্জের ৪৬টি থানা থেকে এ পর্যন্ত মােট ৪৩৬ জন মাদকসেবীকে নিরাময় কেন্দ্রে প্রেরণ পূর্বক এদের মধ্যে ৪০৯ জনকে চিকিৎসা প্রদান শেষে নিজ বাড়ীতে প্রত্যাবর্তন করানাে হয়েছে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকৃত মাদক ব্যবসায়ী/সেবীদের পুনর্বাসনে বরিশাল রেঞ্জের প্রতিটি জেলায় রেজিস্টার্ড সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণ ও পুলিশের মধ্যকার দূরত্ব হ্রাস হওয়ায় সমাজের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, জননিরাপত্তা, দেশের শান্তি, প্রগতি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সাথে পুলিশের যে মেলবন্ধন রচিত হয়েছে তা সমাজে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ ‘সােনার বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ধর্ম-বর্ণ-গােত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের দোরগােড়ায় পুলিশি সেবা পৌছে দিতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের অগ্রযাত্রা অব্যহত রয়েছে।

কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ উদ্যাপনের মাধ্যমে জনগন ও পুলিশের মধ্যে যে ইতিবাচক মেলবন্ধন ঘটবে তা নিঃসন্ধেহে গনমুখি পুলিশিং এর প্রয়াসকে সফল করে তুলবে।মুজিববর্ষের মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ এর সকল আয়ােজন সুন্দর ও সফল হবে এই প্রত্যাশা করছি।

%d bloggers like this: