ঢাকা   ২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । মঙ্গলবার । বিকাল ৫:৪৭

বরিশাল নগরীতে অজ্ঞানপার্টি ও নকল সোনা বিক্রয়কারীর উৎপাত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল নগরীতে অজ্ঞানপার্টি ও মলম পার্টি এখন কৌশল বদলে হয়ে গেছে নকল সোনা বিক্রয়কারী ও প্রতারক চক্র।

মাদারীপুর থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে বরিশাল আসা এক ব্যাক্তির সাক্ষাতকারে জানা যায়, তিনি মেয়ের শশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বরিশাল নথুল্লাবাদ গাড়ি থেকে নেমে লঞ্চঘাট যাওয়ার জন্য রিক্সায় উঠলে রিক্সা চালক তাকে নগরীর লাকুটিয়া সড়কে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে মিথ্যা সোনার নাটক সাজিয়ে তার কাছে থাকা টাকা পয়াশা ও মাল জিনিস নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারক রিক্সা চালক।

এভাবেই নগরীর নিরিবিলি সড়কগুলো যেমন পশ্চিম কাউনিয়া, লাকুটিয়া সড়ক, সিএন্ডভি রোড, কাশিপুর, মধ্যপাড়া সহ নির্জন অলিগলিতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা হতে আগত যাত্রীদের পায়ে চালিত রিক্সায় তুলে নকল সোনার নাটক সাজিয়ে যাত্রীদের কাছে থাকা মূল্যবান স্বর্ণ অলংকার, মোবাইল সেট, দামি ঘড়ি, টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। তারা বিভিন্ন ভঙ্গিতে বিশেষ করে নতুল্লাবাদ, রুপাতলী, লঞ্চঘাটসহ পছন্দনীয় এলাকায় এ তৎপরতা চালাচ্ছে। অজ্ঞানপার্টির নকল সোনার বার সিন্ডিকেট বর্তমানে খুব ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যা বরিশাল বাসির জন্য খুবই অস্বস্তিকর। দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা হতে বাসযোগে আগত যাত্রী ও পথচারীদের তাদের পায়ে চালিত রিক্সায় শহরের নিরাপদ এলাকার অলি গলির মধ্যে নিয়ে নাকে মুখে রুমাল চেপে অজ্ঞান করে সবকিছু হাতিয়ে নিচ্ছে।

এলাকার স্থানীয় কিছুসংখ্যক অসাধু প্রভাবশালী লোকজন এবং কিছু অসাধু প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাসিক সাপ্তাহিক মাসোয়ারা দিয়ে তাদের প্রতারণা নির্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সিন্ডিকেট নাকি খুবই শক্তিশালী বিশেষ করে সাদুর বড়তলা একটি হোটেলে তাদের সাথে কয়েকবার কথা বলে জানা গেছে যে বরিশালের নতুল্লাবাদ এলাকায় খলিল ভাই এবং লঞ্চঘাট এলাকায় রনি ভাই এবং কাউনিয়া এলাকায় সুমন ভাই এরকম ১০,১২ জনের নাম উক্ত কার্যকলাপে লিপ্ত আছে বলে জানা যায়।

তারা এক জায়গায় বেশি দিন স্থায়ীত্ত করেনা এজন্য বাকি বড় ভাইদের নাম এবং তাদের চেহারা ঠিকানা বেশি কিছু আর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তারা বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গের ছত্রছায়ায় এসব কার্যকলাপ মাসের-পর-মাস চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ভদ্র সমাজ চোখ বুজে সহ্য করছে তারা কিছু বলতে পারছে না, বলতে গেলে তাদেরকে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে হয়রানি করছে।

প্রতারক চক্রের কেউ যদি ধরা খায় তাহলে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা সাধারন পাবলিক সেজে এলাকায় প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিয়ে ওই কর্মকর্তা মোটা অংকের বিনিময় ম্যানেজ করে এক ঘণ্টার মধ্যে ছাড়িয়ে নেয়, ওই প্রতারক আবার তার প্রতারণা কর্মে লিপ্ত হয়।

বিষয়টি প্রতিরোধ করতে বরিশালের শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক বক্সে জনসচেতন মূলক মাইকিং ব্যবস্থা করলে সাধারণ জনগণ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীগণ অজ্ঞানপার্টি মলম পার্টি ও নকল সোনা বিক্রয়কারী চক্রের হাত থেকে মুক্তি পাবে। এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম রিপোর্টারকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন এর আগে এরকম প্রতারক চক্র বহুবার ধরা হয়েছে, এখনো আমরা এই চক্র কে ধরে আইনের আওতায় আনার জন্য তৎপর আছি।

%d bloggers like this: