ঢাকা   ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । সন্ধ্যা ৬:১৫

বরিশালে শেবাচিমে চিকিৎসা প্রাপ্তিতে সীমাহীন দুর্ভোগ!

তানজিমুন রিশাদঃ দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। এখনো চিকিৎসকদের মনগড়া নিয়মেই চলছে এই হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। সঠিক সময়ে কর্মস্থলে না আসা, দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত চেম্বার ও ক্লিনিকে রোগী দেখাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বৃহত্তর শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

সূত্রমতে, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে আয়োতনে সর্ববৃহৎ ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রাচীনতম নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই হাসপাতালে শুধুমাত্র বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার মানুসই নয়, চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জের রোগীরাও । আর তাই হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে না চিকিৎসা সেবার মান। বহির্বিভাগ থেকে ওয়ার্ড গুলোতে রোগীদের চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। বহির্বিভাগে যেন তেন ভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চললেও আন্তঃবিভাগে রোগীদের শেষ ভরসা ইন্টার্ন চিকিৎসক। গত কয়েকদিন যাবত হাসপাতালের নিচ তলায় বিভিন্ন বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা যায় চিকিৎসকের অধিকাংশ কক্ষই শূন্য। সামনে রোগীর দীর্ঘ লাইন থাকলেও নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে পৌছতে পারেনি চিকিৎসকরা।

চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীরা জানান, আমরা বিপদে পড়েই চিকিৎসকের কাছে আসি। কিন্ত চিকিৎসা নিতে এসে সঠিক সময়ে ডাক্তার পাইনা।দীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয়। কখন ডাক্তার আসবে আর একটু ওষুধ লিখবে এই ভেবেই যেন দাঁড়িয়ে হাত-পা ব্যথা হইয়ে যায়। চিকিৎসা নিতে এসে যদি এত বিড়ম্ভনার মূখে পরতে হয় তবে আমরা কোথায় যাব?

এদিকে শেবাচিমের শুধুমাত্র শিশু বহির্বিভাগের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বাকি মেডিসিন, সার্জারি, অর্থপেডিক্স, গাইনি, চর্ম-যৌন, ইএনটি, চক্ষু ও মানসিক রোগ বহির্বিভাগের কোন চিকিৎসকদের সঠিক সময়ে মধ্যে কর্মস্থলে পৌছতে পারেননি। কর্মস্থলে পৌছতে তাদের এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় লেগেছে। এদিকে দেরি করে কর্মস্থলে এসে আবার ১২টা বাজতেই শুরু হয় গোল টেবিলে চা চক্র। টানা ৩০ মিনিট পরে কোন কোন চিকিৎসক চেম্বারে ফিরে দায় সারা ভাবে রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন। কোন কোন চিকিৎসক আবার বেরিয়ে পড়েন পারিবারিক কাজে। তাছাড়া দেড়টা বাজতেই রোগী দেখা বন্ধ করে শুরু হয় কোম্পানির ভিজিট। ১টা না বাজতেই বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার। তাছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের বহিরাগত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে কমিশন বাণিজ্যর অভিযোগ তো রয়েছেই। এদিকে শুধুমাত্র বহির্বিভাগই নয়, একই চিত্র হাসপাতালের ওয়ার্ড গুলোতেও। ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের ২৪ ঘন্টা উপস্থিতির কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। ওয়ার্ড গুলোতে সকাল ৯টার আগে কোন সিনিয়র চিকিৎসক কর্মস্থলে আসছেন না। আবার দুপুর ২টা বাজতেই সবাই দুপুরের খাবারের জন্য বেরিয়ে পড়ছেন। দিনে ডাক্তারের উপস্থিতি চোখে পড়লেও রাতে হাসপাতালের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুধুমাত্র ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাড়া কোন সিনিয়র চিকিৎসকদের খুঁজে পাওয়া যায় না । সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকরা বেশিরভাগই থাকেন ব্যক্তিগত চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত। কর্মস্থলে হাজিরা দিয়েই তারা তাদের চেম্বারে ছুটছেন। এর ফলে কোন কোন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক আসছেন না ওয়ার্ড পরিদর্শনেও। আবার কোন কোন চিকিৎসক যাচ্ছেন না মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেয়ার জন্যও।

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং দায়িত্ব অবহেলার প্রশ্নে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, যেভাবে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ করা হচ্ছে আসলে বিষয়টি সেরকম নয়। দুই একজন হয়তো নিয়ম মানতে পারছেন না। আমরা তাদের নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।

%d bloggers like this: