ঢাকা   ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । সকাল ৭:২৮

বরিশালে শীতের সবজির দাম পর্যাপ্ত সরবারাহ থাকলেও দাম চড়া

একুশের আলো ডেস্কঃ খাবারের তালিকায় অপরিহার্য শীতের সবজি বাজারে উঠেছে প্রচুর পরিমাণে। অর্থাৎ সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বাজারে এই দরকারি পণ্য কিনতে গেলেই নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। বিশেষ করে, যাদের আয় বাড়েনি তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সবজি কিনতেই পারছেন না। ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজি দেশে উৎপাদন হয়। বাজারের দিকে তাকালে মনে হয় উৎপাদনও ভালো। কিন্তু দামের দিকে তাকালে হতাশ হতে হয়। সবজির সরবরাহের তুলনায় দাম অন্তত তিনগুণ বেশি। কোনও কোনও সবজির দাম এসব দামি ফলের চেয়েও বেশি। বাজারে আপেল ও কমলার কেজি ১২০ টাকা। অথচ এক কেজি শিম কিনতে লাগছে ১২০ টাকা। শুধু শিম নয়, পাকা টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। শালগম, বরবটি ও গাজর ১০০ টাকা, বেগুন ও উচ্ছে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আসা নতুন আলুর কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। বরিশালের বাজারগুলো ঘুরে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। নগরীর হাতেমআলি কলেজ চৌমাথার সবজি বিক্রেতা রুস্তম, শালগম ও নতুন আলু বিক্রি করছেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। ওই এলাকার বাসিন্দা ফোরকান জানান, ১০০ টাকা কেজিতে সবজি কেনার মতো সামর্থ্য তার নেই। ফলে তিনি সবজি কেনা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছেন। তার দাবি, সবজির দামের চেয়ে ব্রয়লার মুরগির দাম কম। যে কারণে তিনি বেশি করে মুরগি কেনেন। তিনি আরও বলেন, বেতনের টাকা দিয়ে তার সংসার চলছে না। সবজি কেনা নিয়ে প্রায়ই তাকে তার স্ত্রীর সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হতে হয় বলে জানান। নতুল্লাবাদ বাজারে দেখা গেল, শীতের আগাম সবজিতে ভরপুর। কিন্তু দাম চড়া। এ কারণে কিনতে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। সবজির সঙ্গে পেঁয়াজ ও আলু কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের। শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) নগরীর লঞ্চঘাট পাইকারী সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন করে কোনও সবজির দাম কমেনি। আগের সপ্তাহের দামেই সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ সবজির দামই প্রতি কেজি একশ’ টাকার কাছাকাছি। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০টাকা দিয়ে এক কেজি কোনও ধরনের সবজিই মিলছে না। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। ঝিঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি। প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। শুধু তা-ই নয়, শীতের অন্যতম প্রধান সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামেও স্বস্তি মিলছেনা। ছোট একটি ফুলকপি কিনতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা গুনতে হচ্ছে। একই দাম গুনতে হচ্ছে বাঁধাকপির বেলায়ও। বড় বাজারের এক সবজি বেপারি জানান, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে দুই থেকে তিনবার খেতের সবজি নষ্ট হয়ে হওয়ার প্রভাবে সবজির দাম এখন খানিকটা বাড়তি। তিনি বলেন, ‘কৃষক আগের ক্ষতি পোষাতে দাম বেশি রাখছে। যার ফলে ভোক্তাদেরও বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। রায়পাশা কড়াপুর এলাকার এক সবজি বিক্রেতা জানান, আগে কখনও তিনি সবজি এত চড়া দামে বিক্রি করেননি। দাম বেশি হওয়ার কারণে তাদের বেচা-বিক্রিও কমেছে বলে জানান তিনি। দাম বাড়ার বিষয়ে তিনি জানান, আড়তেই সবজির দাম বেশি। যে কারণে তারাও বেশি দামে বিক্রি করছেন। এখন পালংশাক ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এই শাক গত বছর ২০ টাকায় পাওয়া যেত। এভাবে লালশাক, কলমি শাক, মুলাশাক কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি। গত বছরও যেসব শাক ১০ টাকায় বিক্রি করেছি, এ বছর সেগুলো ২৫ টাকার কমে বিক্রি করা যাচ্ছে না। মসুর ডালের দামও গত সপ্তাহে কিছুটা বেড়েছিল। নতুন করে আর হেরফের হয়নি। এই সপ্তাহে নতুন করে দাম বেড়েছে আটা ও ময়দার। এছাড়া ধনে, তেজপাতা, দারুচিনি, শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে। বাজারে পুরনো আলুর কেজি আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অবশ্য স্বস্তির বিষয়, আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে। কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতো ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা ডজন। বাজারে এখন চার ধরনের পেঁয়াজ দেখা যায়,টিসিবির পিয়াজ বিক্রির কারনে সবচেয়ে দাম কম চীনা ও তুরস্কের পেঁয়াজের, ৪০ টাকা কেজি। পাকিস্তানি পেঁয়াজের কেজি ৬০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ এখনও ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। চীনা রসুন কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। কমার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আদা। কিছু দিন আগেও যে আদা আড়াইশ’ টাকা কেজি ছিল, এখন সেই আদার কেজি মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

%d bloggers like this: