ঢাকা   ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । সকাল ৬:২২

বরিশালে শায়েস্তাবাদ বাজার উন্নয়নঃ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হলেও নির্দেশনা উপেক্ষীত

ইমরান হোসেন/ আর, এ শুভ: বরিশাল সদর উপজেলার ৪নং শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে বাজার উন্নয়ন কাজের নামে সরকারী খাল দখল করে তা ভরাট করা সহ ভিবিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক বাজার উন্নয়ন কাজটি আগামী স্বিধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বাজার পরিচালনা কমিটিকে কাজটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছেনা। উল্টো সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা তরিগরি করে চলছে বাজার নির্মান (উন্নয়ন) কাজ। যাতে করে একদিকে যেমন স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ জেগেছে। অপরদিকে সরকারী জমি ক্রমেই লুটপাট হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

অভিযোগ রয়েছে উন্নয়নের নামে এই দখল বানিজ্যের মূল নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: আরিফুজ্জামান মুন্না, বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি টিপু আকন ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না ও বাজার কমিটির সভাপতি টিপু সুলতানের উপস্থিতে হরদমে কাজ চলতেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানাযায়, এই কাজের বর্তামান ঠিকদার হিসাবে আছেন এম.এস বিউটি কনেস্টাকশনের মালিক কামাল পারভেজ। পরবর্তী স্বিদ্বান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও কিভাবে কাজ চলছে এবং চালতে পারে কিনা ? জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: অলিউল ইসলাম বলেন, কিছু সমস্যা পাওয়ায় আমরা বাজার উন্নয়ন কাজটি নোটিশ দিয়ে বন্ধ রাখতে বলেছি। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাজ চলার কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। তথ্য বলছে, দখল-বাণিজ্যের সাথে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।

তবে বাজার পরিচালনা কমিটির নেতারা নিজেদের নির্দোষ দাবী করে বলেছেন- বাজার কমিটি কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত নয়; বলে দাবী সভাপতি টিপু আকনের। এছাড়াও বাজার উন্নয়ন নামে অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্টরা জমির প্রকৃত মালিক যাচাইয়ে স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে কোন ধরনের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নে শুরু করেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আব্দুস সোবহানের।

এদিকে দখল এবং প্রকল্পের নামে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শায়েস্তাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান মুন্না। তবে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি নির্ধারনে অনিয়মের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন দাবী করে ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না বলেন, স্থানীয় কিছু লোকজন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) নির্দেশে সরেজমিনে সার্ভেয়ার প্রেরণ করা হয়েছে।বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ বাজারে ৫৪ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম সরেজমিনে প্রকল্প স্থান পরিদর্শন পূর্বক উন্নয়ন কাজের ধরন নির্ধারণ শেষে গতবছরের ১৯ নভেম্বর প্রকল্পটি প্রাথমিক অনুমোদন দেয় এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করা প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি সম্পূর্ণ সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত খাল এবং শায়েস্তাবাদ ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি। সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের ৩০ শতাংশ জমির মালিক স্থানীয় ভূমি অফিস এবং বাকী ২৫ শতাংশ জমি শায়েস্তাবাদ ওয়াকফ এস্টেটের হওয়া সত্ত্বেও বাজার পরিচালনা কমিটি, প্রকল্প বাস্তবায়নে আবেদনকারী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এলজিইডি দপ্তর জমির প্রকৃত মালিক দুই প্রতিষ্ঠানের কাউকে অবহিত না করে সরেজমিনে কাজ বাস্তবায়নে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

চলতিবছরের ১৯ মে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর সর্ব্বোচ্য দরদাতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক ওয়ার্ডার দেওয়ার পর ঠিকাদার প্রকল্প এলাকায় নির্মান সামগ্রী নেওয়ার পর বিষয়টি সকলের নজরে আসে। অনেকটা চুপিসারে প্রকল্প পাশ সহ যাবতীয়
কাজ সম্পন্ন হলেও বাস্তবায়ন শুরুর আগেই বেকে বসে স্থানীয়রা। তারা অনিয়মের বিষয়টি জেলা প্রশাসন সহ বেশ কয়েকটি দপ্তরকে অবহিত করেন। ফলে কাজ শুরু করতে গিয়েও থমকে দাঁড়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আব্দুস সোবহান জানান, সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ কাজ শুরু করায় জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।

শায়েস্তাবাদ ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি সৈয়দ আকবর আলী চৌধুরী জানান, ওয়াকফ এস্টেটের বেশ কিছু জমি ওই বাজারে রয়েছে। তার মধ্যে বাজার উন্নয়নে যে প্রকল্পের কথা শোনা যাচ্ছে সেখানে এস্টেটের প্রায় ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম বলেন, টেন্ডার প্র‌ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া শা‌য়েস্তাবাদ বাজার উন্নয়‌নে যে জ‌মি সি‌লেকশন করা হ‌য়ে‌ছি‌লো তা সরকা‌রি খাস এবং ওয়াকফ এ‌স্টে‌টের সম্প‌ত্তি তা আমা‌দের জানা‌নো হয়‌নি। স্থানীয়‌দের মাধ‌্যমে জানার পর প্রকল্প‌টি বা‌তিল করা হ‌য়ে‌ছে।বরিশাল সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মো. মেহেদী হাসান বলেন, সরকারী খাস খতিয়ানের জমি দখলের কোনো সুযোগ নেই। এলজিইডি আমাদের জমিতে বাজার উন্নয়নের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ছাড়পত্র বা মৌখিক কোনো অনুমতি নেয়নি।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান বলেন, খাল ভরাট করে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবেনা। খাস জমিতে কোন উন্নয়ন কাজ করতে হলেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। (সংবাদের তথ্য- উপজেলা পরিষদ, এলজিইডি, স্থানিয়দের মতামত ও অনলাইন নিউজ প্রোটাল)

%d bloggers like this: