ঢাকা   ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । রাত ২:০৫

বরিশালে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশালে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাদী সাকিবুল ইসলাম বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় ডায়েরী করেছেন বলে জানা যায় ।

অভিযোগ ও মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, বরিশালে কোতয়ালী মডেল থানাধীন ২৪-নং ওয়ার্ডস্থ পুরাতন ফেরীঘাট মোল্লাবাড়ি সংলগ্ন দারুস সুন্নাহ কওমী মাদ্রাসায় পড়ুয়া ২৬ নং ওয়ার্ডের মোঃ সাকিবুল ইসলামের ছেলে মোঃ জুনায়েদ শরীফ(১১)-কে গত ৩-ই সেপ্টেম্বর ভোর রাত আনুমানিক ২ টার দিকে এক-ই বিভাগের কর্মরত শিক্ষক মোঃ আরিফুল ইসলাম(২৪) ঘুমন্ত জুনায়েদকে কোলে তুলে নিজ কক্ষে নিয়ে গিয়ে মুখ চেপে বলাৎকার করে। পরবর্তীতে গত ৭-ই সেপ্টেম্বর সাকিবুল’র স্ত্রী জেসমিন বেগম সন্তান জুনায়েদের সাথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে দেখা করতে গেলে ভুক্তভুগী জুনায়েদ তার কাছে বলাৎকারের বিষয়টি কেঁদে কেঁদে জানায়।এ ঘটনায় জেসমিন বেগম তার স্বামী সাকিবুলকে বিষয়টি জানালে তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা কাউকে কিছু না বলার জন্য অনুরোধ করেন। এদিকে বলাৎকারের শিকার জুনায়েদের শারীরীক অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত সাকিবুল ও তার স্ত্রী বরিশাল শেবাচিমে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ২য় তলায় শিশু সার্জারী বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করেন। যার রেজিঃ নং- ১৭৪৭৮/ ২৮৪ ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানাধীন সুলতান সিকদারের ছেলে আরিফুল ইসলামকে(২৪)-কে আসামী করে ৮-সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন ভুক্তভুগীর বাবা সাকিবুল ইসলাম।মামলা নং- ২২। মামলার আসামী আরিফকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার জানাজানি হলে বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।তবে ঘটনার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও হঠাৎ করে গত ৪/৫ দিন ধরে মামলা তুলে নিতে বাদী সাকিবুল ইসলামকে দারুস সুন্নাহ কওমী মাদ্রাসার পরিচালক মজিবর রহমান প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাকিবুল ইসলাম। সাকিবুল জানান,আমি আমার সন্তানকে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলাম যেন সে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ইসলামের খেদমতে অংশগ্রহন করতে পারে। কিন্ত শিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে আমার সন্তানের সাথে অন্যায়,অপকর্মের বিষয়টিকেতো আমি ছাড় দিতে পারিনা । আমি চাই অপরাধীর শাস্তি ও ভবিষ্যতে কোন শিক্ষার্থীর সাথে এমন ঘটনা না ঘটে। এজন্য আমি বিচারের দাবীতে মামলা দায়ের করি। কিন্ত মাদ্রাসার পরিচালক মজিবর রহমান প্রতিনিয়ত আমাকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।যদিও তারা মাদ্রাসার অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করেছে। তাহলে কি ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিলেই আমাকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে? এ বিষয়ে আমি ভীতসন্তস্ত্র হয়ে বরিশালে কোতয়ালী মডেল থানায় ডায়েরী করেছি ও প্রশাসনের সুদৃস্টি কামনা করছি।

এ বিষয়ে দারুস সুন্নাহ কওমী মাদ্রাসার পরিচালক মজিবর রহমান ও ইলিয়াস মোল্লা( হিসাব রক্ষক ও বর্ডিং) জানান, জুনায়েদ’র সাথে যে বিষয়টি ঘটেছে তা আসলেই আমাদের জন্য লজ্জাজনক ও অন্যায়। ঘটনার বিষয়ে আমাদের নজরে আসলে ৯-ই সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে বরখাস্ত করি। আর আমরা কাউকেই মামলা তুলে নিতে কোন ধরনের হুমকি প্রদান করিনি।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতারের বিষয়টি বরিশাল’র একাধিক স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

%d bloggers like this: