ঢাকা   ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । রাত ৪:৪৯

বরিশালে দপদপিয়ায় সহঃ তহশিলদার মিজান টাকা ছাড়া ফাইল ধরেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝালকাঠী জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সেই ঘুষখোর সহকারী তহশিলদার মিজানের বিরুদ্ধে এবার বেরিয়ে আসছে আরও জালিয়াতি ও প্রতারণার তথ্য। অসহায় ও ভুক্তভোগী জনসাধারন দুর্নীতিবাজ মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় নিয়ে আসতে শুরু করেছেন মিডিয়াপাড়ায়।

একে একে প্রকাশ হতে চলেছে ঘুষখোর, দুর্নিতীবাজ মিজানের আমলনামা। সাধারন মানুষের প্রশ্ন কে এই মিজান? কি তার অলৌকিক ক্ষমতা? যে ক্ষমতাবলে তিনি বার বার অসহায় মানুষদের সাথে প্রতারণা করে তাদের সর্বস্বটুকু শোষন করেও টিকে আছেন বহাল তবিয়তে? এমনটিই প্রশ্ন অসহায় ও ভুক্তভোগী জনসাধারনের। আর এবার নিজের ঘুষ কেলেংকারীর তদন্ত নিজে করতে গিয়েই জনরোষে পড়ে দৌড়ে পালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে মিজানের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, নলছিটির সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের আওরাবুনিয়া গ্রামে জমি জালিয়াতির বিষয়ে তদন্তে গিয়ে নিজেই জনরোষে পড়েন। পড়ে কোনরকমে সেখান থেকে কৌশলে সটকে পড়েন এই দুর্নীতিবাজ মিজান। এই ঘুষখোর মিজানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে এ প্রতিবেদকের নিকট হাজির হয়েছেন নলছিটির সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের বাসিন্দা হোসনেয়ারা বেগম ও তার স্বামী হানিফ সিকদার। ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা বেগম (ও তার স্বামী হানিফ সিকদার) জানান, তার বাবা সুলতান মাঝি নলছিটির সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের জোয়ার আওরাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা ৫ বোন। তার বাবা সুলতান মাঝির কোন জমিজমা না থাকায় দীর্ঘ ২৫ বছর পূর্বে আওরাবুনিয়া গ্রামে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৪৪ শতাংশ জমি ডিসিআর এর মাধ্যমে দখলে নেন এবং সরকারী নিয়মানুযায়ী বসবাস শুরু করেন।

কিছুদিন পূর্বে হঠাৎ তার বাবার শরির খারাপ হওয়ায় লিজকৃত জমি তাদের ৫ বোনকে সরকারী নিয়মানুযায়ী ডিসিআর এর মাধ্যমে ভাগ করে দিতে চান। তখন নিজেদের নামে জমির কাগজপত্র করার জন্য তারা নলছিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে সহকারী তহশিলদার মিজানের সাথে স্বাক্ষাত হয়। তখন মিজান তাদের জমির কাগজপত্র ঠিক করে দিবেন বলে তাদের নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষও নেন। কিন্ত মিজান তাদের কাগজপত্র ঠিক করার কাজ না করে তার বড় বোন শাহানাজ বেগমের সাথে যোগাযোগ করে এবং ৪৪ শতাংশ জায়গার কাগজপত্র শাহানাজ বেগমের নামে করে দিবে বলে শাহানাজ বেগমের নিকট থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করে। পরবর্তীতে ৫ বোনের নাম বাদ দিয়ে কাগজপত্র ওলটপালট করে সব জমি শাহানাজ বেগমের নামে করে দিতে সাহায্য করে মিজান। পরবর্তীতে হোসনেয়ারা জানতে পারেন তাদের বাবার নামের ডিসিআর করা ৪৪ শতাংশ জমির পুরোটাই তার বোন শাহানাজ বেগমের নামে করা হয়েছে বলে জানতে পারেন।

এ ব্যাপারে সহকারি তহশিলদার মিজান জানান, সব মিথ্যা। তিনি তাদের কাউকে চিনেননা। কেউ তার কাছে আসেনি। তবে তদন্তে গিয়ে কেন ধাওয়া খেলেন এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি লাইন কেটে দেন। হোসনেয়ারা বেগম আরো বলেন, এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাখাওয়াত হোসেনকে মৌখিকভাবে জানালে তার কিছু করার নাই বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার ততটা জানা নেই। তবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি তহশিলদার মিজানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি এবং আমি তা লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আইনগতভাবে মিজানের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নেয়ার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই সে ব্যবস্থা নিবেন।

%d bloggers like this: