ঢাকা   ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । শনিবার । সকাল ১১:৪৭

বরিশালে কর্নকাঠিতে ভেকু মেশিনে নদী খাচ্ছে লোকমানের এম.এস.বি ব্রিকস!

ইমরান হোসেন : বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্নকাঠি নদীর পাড়ে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে অবৈধ বাভে মাটি কেটে পাশ্ববর্তী এম.এস.বি ব্রিকস নামক ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।

অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় লোকমান হোসেনের মালিকানাধীন এই ইটভাটায় দীর্ঘ কয়েকবছর যাবৎ এবাভে ভেকু মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে নদীর পারের মাটি কাটা হলেও প্রশাসনের তেমন কোন নজরদারীতা না থাকায় আইনকে বৃদ্বাঙ্গুলী দেখানোর সাহস পাচ্ছে এই নদী খেকোরা। অভিযোগে জানাযায়, এম.এস.বি ব্রিকস মালিকের অতিরিক্ত টাকার প্রলোভনে পড়ে কৃষকেরা কৃষি কাজ ছেড়ে দেদারসে নদীর পাড়ের মাটি ভেকু মেশিনের মাধ্যমে কাটতে শুরু করেছে। যাতে করে একদিকে যেমন ভঙ্গ হচ্ছে সরকারী আইন, অপরদিকে ক্রমেই নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পরতে যাচ্ছে কর্নকাঠি বাসী। এদিকে সরেজমিনে গত বেশ কয়েকদিন গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ের মাটি ভেকু মেশিনের মাধ্যমে কাটা হচ্ছে। এসময় শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানাযায়- এই মাটি স্থানীয় লোকমান হোসেনের মালিকানাধীন এম.এস.বি ব্রিকসের ইট তৈরির কাজে ব্যবাহ্রিত হবে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, এক সময় শীত কাল সহ অন্য কিছু কিছু মৌসুমে নদীর পাড়ের চড়ের উর্ভর মাটিতে কৃষকের ধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করতো। তবে ভেকু মেশিন দিয়ে লাগাতার নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তলনের কারনে এখন আর তা সম্বব হচ্ছেনা। কৃষিবিদরা বলেছেন, এভাবে মাটি কাটায় ফসলি জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ না হলে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী জানাযায়, ইটভাটা আইনে স্পষ্ট করে লাকড়ি কিংবা পোড়ানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এম.এস.বি ব্রিকসে নিয়মিত কয়লার বদলে কাঠ পুরিয়ে যাচ্ছে। যাতে করে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষন হচ্ছে, অপরদিকে অমান্য করা হচ্ছে পরিবেশ আইন। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কিছু রাজনীতিবিদদের ম্যানেজ করে লোকমান হোসেনের ইটভাটায় বছরে কয়েক কোটি ইট পোড়ানো হয়। ইট পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় মাটিভাটার মালিকরা ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমি আর নদীর পাড় কেটে নিচ্ছে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩, মাটির ব্যবহার হ্রাসকরণ নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লেখ আছে, ইট প্রস্তুতের জন্য ইটভাটার মালিকরা কৃষি জমি, নদীর পাড়ের জমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোনো ব্যক্তি ৫ এ উপধারা (১) এ বিধান লঙ্ঘন করে ইটভাটা প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি বা পাহার বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন তা হলে তিনি অনধিক ৬মাস, ১বছর, বা ২ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অভিযোগ রয়েছে এম.এস.বি ইটভাটার মালিক লোকমান হোসেন এ আইনের তোয়াক্কা না করে ফসলি জমি ও নদীর পাড়ের জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি সংগ্রহ করে ট্রলারের মাধ্যমে নিয়ে গিয়ে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বিষয়টি নিয়ে এম.এস.বি ব্রিকসের মালকি ও ভেকু মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কেটে নিয়ে যাওয়ার মূল হোতা লোকমান হোসেনের সাথে কথা বলার জন্য (০১৭৩৩-……৫৭৭) নাম্বারে ফোন করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধবাভে নদীর পাড় থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলার সহ: কমিশনার (ভূমি) মো: মেহেদী হাসান জানান, ফসলি জমি ও নদীর পাড়ের মাটি কেটে নেয়া ফসল উৎপাদনের জন্য হুমকি। অবৈধবাভে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে নদীর পাড় থেকে মাটি কাটা ও ইটভাটায় কাঠ ব্যাবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাদ। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

%d bloggers like this: