ঢাকা   ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । সকাল ৮:১২

বরিশালে ওয়ার্কশপের কর্কশ শব্দে নাজেহাল কলেজ কর্তৃপক্ষ!

বিপাকে শতাধিক পরিবার,দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা

এম.আর শুভঃ বরিশালে একটি স্থাপনার কারনে শিক্ষারপ্রতিবন্ধকতা,শিক্ষাকার্যক্রমে বিগ্নতা ,চরম স্বাস্থ ঝুঁকি, পরিবেশ দূষণ সহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।

এমতবস্থায় স্থাপনাটির কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় জনসাধারনের যেন গলায় কাটা বেধে রয়েছে। স্থাপনাটির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শতাধিক পরিবার ও পার্শ্বেই একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে বিরুপ প্রভাব ফেলছে।তাছাড়া স্থাপনাটিকে সরিয়ে নিতে স্বত্বাধিকারিসহ প্রোপাইটরকে একাধিকবার অনুরোধ পরবর্তীতে ফলাফল না পেয়ে বরিশালে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েও যেন কোন সুরাহাই হচ্ছেনা।মোটকথা , ওয়ার্কশপটির স্বেচ্ছাচারিতায় যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় শতাধিক পরিবার।

জানা যায়, বরিশাল নগরীর ২৫ নং   ওয়ার্ডস্থ রুপাতলী লাকায় অবস্থিত স্বনামধন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপিতের পর প্রতিষ্ঠানটির পার্শ্বেই গড়ে উঠে লোহা-লক্কর, হাতুড়ি, রাসায়নিক দ্রবাদি ব্যবহারে যানবাহন তৈরি-মেরামত প্রোপাইটর আব্দুল কুদ্দুসের মা-বডি বিল্ডার্স নামীয় একটি ওয়ার্কশপ।স্থাপনাটিকে ঘিরেই যত সমস্যার সৃষ্টি ।নিত্য- নৈমত্তিক ওয়ার্কশপটির লোহালক্কড় কাটা ,হাতুড়ি পিটার কর্কশ শব্দে পার্শ্বেই স্থাপিত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে চরম প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।করোনা উৎপত্তির পুর্বে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলাকালীন সময়ে ওয়ার্কশপটির কার্যক্রমে বিকট শব্দে যেন শিক্ষার্থীদের নাজেহাল অবস্থায় সৃষ্টি হত। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসাতো দুরের কথা স্থাপনাটির নানাবিধ সমস্যার কারনে ক্লাসেও আসতো না একাধিক শিক্ষার্থীরা।শ্রেনিকক্ষে পাঠদানও ব্যহত হয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্ভিগ্নতা প্রকাশ করে একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনার পূর্বে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকায়ও  ওয়ার্কশপটির লোহা, হাতুড়ি সরঞ্জামাদি দিয়ে বাস মেরামত তৈরিতে বিরামহীন বিকট শব্দে আমাদের মাথা ঘুরে যেত  ।

সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা গ্রহনে ব্যর্থ হচ্ছিলাম। আমাদের অনেক বন্ধুরাও এই বিকট শব্দে ক্লাসে আসতো না । ফলে গুরুত্বপুর্ন অনেক ক্লাসই মিস হয়ে যেত। যা আমাদের মারাত্নক ক্ষতিসাধনই বটে। সরকার আগামী বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে আমাদের ক্লাসে যেতে হবে । কিন্ত এমন বিকট শব্দে আমাদের ক্লাস করাটাই যেন চরম কস্টসাধ্য হয়ে পড়বে। আমরা এর সঠিক সমাধান চাই। এদিকে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির প্রতিকুলতায় সারাদেশে  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান  বন্ধ থাকায় তথাপি কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যাদি ,ভর্তি সহ নানান দিক বিবেচনায় সরকারি নির্দেশনায় কলেজের অফিস কক্ষে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত থাকতেই হয়। কিন্ত ওয়ার্কশপটির এই বিরামহীন  হাতুড়ি, লোহা-লক্কর পেটানো কর্কশ শব্দে কলেজ কর্তিপক্ষেরও যেন টিকে থাকা দায়।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দেয়া সুত্র মতে, স্থাপনাটির কারনে শিক্ষা কার্যক্রমে বিগ্নতা সৃষ্টিতে প্রতিকার স্বরুপ বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে পরিচালকের নিকট চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৬ তারিখ লিখিত অভিযোগ দিলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক তোতা মিয়া স্থানটি পরিদর্শন করে এবং স্থাপনাটি সরিয়ে নেয়ার জন্য বললে আগামী ২ মাসের মধ্য সরিয়ে নিবেন বলে জানান আব্দুল কুদ্দুস। কিন্ত তার দেয়া প্রতিশ্রুতি মতে ২ মাসের পরবর্তী  ৮ মাস পেরিয়ে আরও একটি বছর চলে আসলেও নিজেদের খামখেয়ালিপনায় স্থাপনাটির কার্যক্রম চালিয়েই যাচ্ছে। যার বলি হচ্ছে স্থানীয় শতাধিক পরিবার ও দেশ বিনির্মানে ভবিষ্যৎ অবদান রাখবে এমন কারিগরি প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

এছারাও ওয়ার্কশপটির নিয়মিত বি্রামহীন কার্যক্রমে শব্দ দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। যদিও শব্দ দূষণে দূষণ প্রভাবিত এলাকার মানুষের মেজাজ খিটখিটে , আচরণে অস্বাভাবিকতা ও মানসিক উত্তেজনা দেখা যায়, মানুষকে ক্লান্ত মানসিক অবসাদগ্রস্ত ও কাজে অমনোযোগী করে তুলে, বয়স্ক মানুষের স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায় ,এমনকি বধির হওয়ার পর্যন্ত হতে পারে বলে মনে করেন স্বাস্থ বিশেষজ্ঞরা।জানা যায়,  ওয়ার্কশপটির পার্শ্বেই একাধিক বসতি রয়েছে সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ওয়ার্কশপের বিকট শব্দে তাদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রমে যেমন বিগ্ন সৃষ্টি হয় তেমনি শিশুদের জন্যও খুব মারাত্নক এই শব্দ দূষণ। স্থানীয় ফারুক হোসেন সহ  একাধিক ব্যক্তিরা জানান, ওয়ার্কশপটির বিকট শব্দে সকালে-দুপুরে আমরা ঠিকভাবে একটু বিশ্রাম পর্যন্ত নিতে পারিনা।  প্রচন্ড শব্দে আমাদের যেমন মাথা  ব্যাথা সৃষ্টি হয়। ঘরে বাচ্চারা থাকলে হাতুড়ি,লোহা পেটানোর এক একটি কর্কশ শব্দে ওরা আঁতকে উঠে। স্থাপনাটি আমাদের চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

এদিকে বরিশাল আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ আরো জানায়,  ওয়ার্কশপটির কারনে স্থানীয়দের যেমন নানাবিধ সমস্যার তৈরি হয় তেমনি  আমাদের এবং শিক্ষার্থীদের চরম সমস্যা সৃষ্টি হয়। আমরা স্থাপনাটির প্রোপাইটর আব্দুল কুদ্দুসকে মৌখিকভাবে বার বার অনুরোধ করলেও তিনি কোন কর্নপাতই করছেননা। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে আজ জাতির ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের ও স্থানীয় পরিবারদের ঝুকিতে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়াও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি করার সময় বা পুর্বে এ স্থাপনাটির কোন অস্তিত্ব-ই ছিলনা। কিন্ত এখন স্থাপনাটি স্থাপিত করে আমাদের চরম বিপাকে ফেলেছে।

সুতরাং স্বত্তাধীকারিসহ প্রোপাইটর আব্দুল কুদ্দুস স্থাপনাটিকে যেন অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে স্থাপন করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঝুঁকি থেকে মুক্ত ও শব্দ দূষণ থেকে সকলকে সুরক্ষিত রাখে এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।আমরা অতিসত্বর এ বিষয়ে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করছি।এদিকে ইতিপূর্বেও উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে বরিশালের শীর্ষস্থানীয় একাধিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে বরিশালে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক তোতা মিয়া জানান, করোনার কারনে বিষয়টি নিয়ে আর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে শীগ্রই আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিগ্ন সৃস্টিকারী ও জনসাধারণের সুবিধার্থে  স্থাপনাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫এর ক্ষমতাবলে শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণবিধিমালা২০০৬ প্রণয়ন করা হয়৷ বিধিমালার আওতায় নীরবআবাসিকমিশ্রবাণিজ্যিক  শিল্প এলাকা চিহ্নিত করেশব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করেদেয়া হয়েছে৷ আইন অমান্য করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য এক মাস কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে৷ কিন্তু বাস্তবে  আইনের তেমন প্রয়োগ দেখা যায় না

%d bloggers like this: