ঢাকা   ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । দুপুর ২:০৭

বরিশালের ইলিশ মোকামে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

 

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের মোকাম বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। গত ২২ দিন সাগর ও নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। বুধবার রাতে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা জাল নিয়ে নেমে পড়েছেন। জালে ওঠা মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন ইলিশের মোকামে। ইলিশের ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত পুরো মোকাম এলাকা। নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কীর্তনখোলা নদী থেকে খাল দিয়ে একের পর এক ইলিশ বোঝাই নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোট এসে ভিড়ছে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে। এরপরই ব্যস্ততা শুরু হয়ে যাচ্ছে আড়তদারদের। ট্রলার থেকে ঝুড়িতে করে শ্রমিকরা ইলিশ এনে আড়তে ফেলছেন। মাপামাপি চলে একদিকে, অন্যদিকে চলে দরদাম। পাইকারি ক্রেতারা দরদাম শেষে এসব ইলিশ নিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল ও আশপাশের এলাকায়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আড়তগুলোর সামনে ভিড় লেগেই রয়েছে। ইলিশের ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম এখন মোকামটি। পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের আড়তের শ্রমিকরা বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সকাল থেকে মোকামে মাছ আসতে শুরু হয়েছে। এতে তাদের রোজগারের পথ খুলেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিন ইলিশের আমদানি হয়েছে অনেক কম।তবে, অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা কয়েকজন। তিনি বলেন, যত বেশি ইলিশ আমদানি হবে, তত তাদের কাজ বেড়ে যাবে,উপার্জনও বাড়বে। আজ আমদানি কম হওয়ায় অনেক শ্রমিককেই বসে থাকতে হয়েছে। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে ইলিশের আমদানি বাড়বে। তখন শ্রমিকদের কাজের অভাবে অলস সময় পার করতে হবে না। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশের বেচাকেনাও চলেছে দুর্গম এলাকাগুলোতে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় অনেকে ইলিশ ধরে লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলো এখন আনছেন। পাশাপাশি এখন যে ইলিশ ধরা পড়ছে তার মধ্যে কিছু ইলিশের পেটে ডিম ভর্তি দেখা যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিন মোকামে ইলিশের আমদানি হয়েছে অনেক কম। আমদানি কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এবারের অভিযানে অনেক কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। জেলেরা নদীতে জাল ফেলার সুযোগ সেভাবে পায়নি। অনেকেই জেল-জরিমানার ভয়ে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরও বুধবার রাতে মাছ ধরতে নামেননি। বেশিরভাগ জেলেই বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাছ ধরা শুরু করেছেন। এ কারণেই বরিশালের মোকামে আজ ইলিশের সরবরাহ কম। পোর্ট রোড মোকামে আমদানি হওয়া বেশিরভাগ ইলিশ বরিশাল ও আশপাশের নদ-নদীর। তবে সপ্তাখানেক পর জেলেরা যখন সাগর থেকে ট্রলার নিয়ে ফিরবেন তখন ইলিশের আমদানি মোকামে অনেক বেড়ে যাবে। ইলিশের সরবারহ কম ও সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় থাকায় দামও কিছুটা বাড়তি ছিল। এ বছর বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া ও নদীতে পানির প্রবাহ ছিল বেশি। অনুকূল পরিবেশে বেশি পরিমাণে মা ইলিশ সমুদ্রের লোনা পানি থেকে নদীর মিঠা পানিতে এসেছে ডিম ছাড়ার জন্য। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীতে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে এর সুফল মিলবে। ধারণা করা হচ্ছে ইলিশ উৎপাদনে এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

%d bloggers like this: