ঢাকা   ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । শনিবার । সকাল ১১:৫৭

প্রতিবছর আইন শিক্ষানবিশদের পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করবো : অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি নির্দেশনায় রয়েছে প্রতি বছরই পরীক্ষা নিতে হবে বার কাউন্সিলের আইন শিক্ষানবিশদের। কিন্তু বিগত ২০১৭ থেকে কয়েক বছরের পরীক্ষার সময় পর্যালোচনা করে দেখা যায় তার উল্টোচিত্র। নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে এসব সমস্যা দূর করতে কি ধরণের পদক্ষেপ নেবেন এএম আমিন উদ্দিন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিকল্পনার কথা।
আইন শিক্ষানবিশরা লিখিত পরীক্ষা বাতিল চেয়ে আন্দোলন করছে, তাদের বিষয়টি কিভাবে দেখবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আইন শিক্ষানবিশদের পরীক্ষা নিতে বার কাউন্সিলের সুষ্পষ্ট আইন আছে। বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য রয়েছেন। তারা ঠিক করবেন পরীক্ষার বিষয়, উনারা যেভাবে ঠিক করবেন সেভাবেই শিক্ষানবিশদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার যদি আইন পরিবর্তন করে তাহলে সেটি দেখা যাবে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে এই মুহুর্তে আমি কিছু বলতে পারছি না। এটা নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো কথাও হয়নি। বার কাউন্সিলের যারা সদস্য রয়েছেন তাদের সঙ্গেও কোনো কথা হয়নি। শিক্ষানবিশদের জন্য আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরণ পরীক্ষা নেওয়া হয় প্রতি বছর। যে অসুবিধাগুলো আছে সেগুলো দুর করার চেষ্টা করবেন। রাষ্ট্রের পক্ষে আমরা মামলা করবো আইন অনুযায়ী। অনেক সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষতি হয় এ ব্যাপারে সে ব্যাপারে এ বিষয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে পারবেননা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয় নিয়ে আপনার সিদ্ধান্ত কেমন হবে?এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন কোনো অনিয়ম দুর্নীতি হয় এবং যদি তার নখতদর্পে আসে তাহলে ব্যবস্থা নেবেন। যদি কোর্টের কোনো বিষয় হয় সেটি মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। আর আইনজীবীদের বিষয় হলে সেটি এটর্নি জেনারেল প্রতিবিধান করবে।
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে করুণভাবে দিনাতিপাত করছেন আইন শিক্ষানবিশরা। স্বাভাবিক পরিবেশে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় এবং বিকল্প পেশায় উপার্জনের সুযোগ না থাকায় ২০১৭ এবং ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের এমসিকিউ উত্তীর্ণ আইন শিক্ষানবিশদের সরাসরি গেজেট প্রকাশ করে তাদের আইনজীবী হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলে আন্দোলনে নেমেছেন। করছেন অনশন বিক্ষোভ ও মহাসমাবশের আয়োজন। তাদের এসব দাবীকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে উঠে এসেছে আলোচনা-সমালোচনা আর বার কাউন্সিলের ব্যর্থতার চিত্র। এমসিকিউ (নৈবর্ত্তিক), লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আইনজীবী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে বার কাউন্সিল। পূর্বে কখনও শুধু ভাইভা, কখনও আবার লিখিত ও ভাইভা এবং বর্তমানে উক্ত তিন ধাপেই শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ হতে হয়। কিন্তু আইনজীবীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকায় বার কাউন্সিল কৌশলগতভাবে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত প্রতি বছরে দুটি করে পরীক্ষা নিলেও বর্তমানে ২ থেকে ৩ বছরের ব্যবধানে একটি মাত্র পরীক্ষা গ্রহণ করছে। আবার পরীক্ষা নিলেও তার সকল কার্যক্রম শেষ করতে দেড় থেকে ২ বছর সময় কাটাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের ঝুলন্ত প্রক্রিয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে।সুত্রঃ দৈনিক শিক্ষা

%d bloggers like this: