ঢাকা   ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । সকাল ৮:১০

পবিপ্রবি”র ডেপুটি রেজিস্ট্রার’র বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ!

বিএফ খান সবুজঃ পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়লগ্নে থাকা প্রশাসনের উপর যেন অদৃশ্য মহলের প্রচণ্ড চাপ পরেছে। চার বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত প্রশাসন চালালেও শেষ মুহূর্তে এসে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ কামরুল এর চাপে প্রশাসনের হাবভাবে দিশেহারাত্ব ফুটে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে ,সাবেক এমপি ক্যাবিনেট সচিব এম কেরামত আলীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন বিএনপি নেতা তোঁতা খা পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন থানা ব্রিজের বাসিন্দা কামরুলের পিতা। জামাত নেতা সাবেক ভিসিআব্দুল লতিফমাসুমের হাতে রিসার্চ অফিসার পদে চাকরি পাওয়া মোঃ কামরুল ইসলাম এখন ভোলপালটে পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় আওয়ামী নেতা।চাকুরি করেন পবিপ্রবির কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে। অভিযোগ রয়েছে , গত তিন বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে যে কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এলেই সংস্থাপন শাখা থেকে ফাইল হাতিয়ে নেন। সংস্থাপন শাখায় কোনরূপ জড়িত না থাকলেও নিয়োগের সব কিছুই করেন তিনিএছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর চালু আছে রমরমা তদবির তদন্ত বানিজ্য। একশাখা থেকে অন্য শাখায় বদলি, শিক্ষা ছুটি পাস এবং ফাইল দ্রুত পাসেকামরুলের রয়েছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সদস্য ভিসিরবাসভবন থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। তাঁর সিন্ডিকেটের বাইরে গেলে অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর। তাদের বিরুদ্ধে নামে বেনামেঅভিযোগ করা হয়। তদন্তও করে কামরুল সিন্ডিকেটের লোকজন। যদি মোটা অঙ্কের টাকায় আপস হয় তো ভুক্তভোগী নিরাপদ।আর না হলে কখনও চাকরীচ্যুত, কখনও সাময়িক বরখাস্ত করে তাদেরকে হয়রানি করা
হয়

কামরুলের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুদকে করা অভিযোগের নথি পর্যালোচনা করে দেখাযায়, সব থেকে আয় কৃতঅবৈধ অর্থ দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন কামরুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম গেটে তলা বাড়ির তলার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন। মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় স্ত্রীর নামে কিনেছেন কোটি টাকার ফ্লাট।নিজেও ভাইয়ের নামে দুমকিতে ৭০ লক্ষ টাকার জমি কিনেছেন সম্প্রতি। এছাড়াবরিশাল ঢাকায় কোটি টাকা মুল্যের আরো দুটি প্লট রয়েছে কামরুলের।এছাড়াও পবিপ্রবির ২য় সমাবর্তনে বিভিন্ন দাতার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্যপরিমানে অর্থ তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিশ্বস্তএকটি সুত্র থেকে জানা গেছে, লাইব্রেরি এসিস্ট্যান্ট পদে জিনিয়া বেগম এবংল্যাব টেকনিশিয়ান পদে জাহিদুল ইসলামের নিয়োগ দিয়ে কামরুল ২৫ লক্ষ টাকাহাতিয়ে নিয়েছেন। সংস্লিস্ট সুত্রের দাবি, দুদক তদন্ত করুক, থলের বিড়াল
বেরিয়ে আসবে

অভিযোগে জানা যায়, কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে তিনি ১৫ নং অবস্থানে থাকলেও তার দখলেসংস্থাপন, জনসংযোগ প্রকাশনা, নিয়োগ কমিটি, পর্যোন্নয়ন কমিটি, বিভিন্নতদন্ত কমিটি, ঢাকা গেস্ট হাউজের পরিচালনা কমিটিসহ টি পদ রয়েছে।সম্প্রতি তিনি ভুলে ভরা কতগুলি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। এগুলোতে ১৭ জানুয়ারী২০১৭ তারিখে গেজেট আকারে স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকাশিত চাকুরী প্রবিধিমালার নং অনুযায়ীসরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানকরা হবেএরুপ শর্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও তা তিনি মানেন নি। জুনিয়রঅসৎ কর্মকর্তাকে নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে পবিপ্রবির শিক্ষক, কর্মকর্তা,কর্মচারীদের মধ্যে যা যে কোন মুহূর্তে আন্দোলনে রুপ নিতে পারে। বিষয়ে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডঃ স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত এর সাথে একাধিকবার
যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি

%d bloggers like this: