ঢাকা   ২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । মঙ্গলবার । সন্ধ্যা ৭:২২

নীলফামারীতে লাইভ ক্যাসিনোর নিয়মিত আসর!

আব্দুল মোমিন, নীলফামারীঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলছে লাইভ ক্যাসিনোর মতো অবৈধ জুয়ার নিয়মিত আসর। সন্ধা হলেই বিত্তবান থেকে শুরু করে রিকসা ওয়ালাদের চলে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলায় অনলাইন বীট সহ লাইভ ক্যাসিনোর মতো জুয়া খেলা। আর এসব জুয়া খেলতে গিয়ে কেউ বা হয় বড়লোক আবার কেউ হয় নিঃস্ব। সুধু তাই নয় এই জুয়া খেলা অনলাইনের মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সাথেও খেলা যায়। তাতে যেমন যুবসমাজ ধ্বংশের দিকে যাচ্ছে তেমনি দেশ অর্থনীতির দিক থেকে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। লোকচক্ষুর আরালে ৩০ থেকে ৪০ টি ই-মেইল এ্যাকাউন্ট ও নেটলার এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলায় বীট লাগানো থেকে শুরু করে খেলা নিয়ন্ত্রণ সহ টাকা এবং ডলার লেনদেন করেন আর্জু (২৬)। সে পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের সাহেবপাড়া এলাকার ইসরাফিলের ছেলে এবং সৈয়দপুরের সামসুল হক রোডে ইসরাফিল ক্লোথ স্টোর নামে একটি কাপরের দোকান আছে তার। এমনটাই জানালেন আর্জুর অধিনে বেতন ভুক্ত কর্মচারী এলাকার মৃত আখতার ওয়াহিদের ছেলে মোঃ আফসাদ (২১)। জুয়া খেলার ফাঁদে পড়া মোঃ আফসাদ বলেন, আমি সৈয়দপুর প্লাজায় ইলেট্রিক ডিপার্টমেন্টে পরিচালকের দায়িত্বে গত ২ বছর ধরে চাকরি করে আসছি। হটাৎ আমার এক বন্ধুর বড় ভাই আর্জু এসে অধিক বেতন দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তার দোকানে নিয়ে যায়। কয়েকদিন কাজ করার পর আর্জু ভাই আমাকে আরও একটি চাকরির সুযোগ দেয়। সেখানে আমাকে দেখানো হয় কিভাবে অনলাইন বীটিং করা হয় এবং ক্যাসিনো খেলা হয়। তিনি বলেন আমার এই ক্যাসিনো খেলার নতুন নতুন বীট একাউন্ট করে খেলা পরিচালনা করবে তাহলে তোমার বেতন ধরা হবে ১৫ হাজার টাকা। কাজটি সহজ ও অধিক বেতন থাকায় আমি না বুঝে শুরু করি। এই খেলা অবৈধ খেলা একসময় বুঝতে পারলে আমি চাকরি থেকে অব্যাহতি চাইলে আর্জু আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে চায় কিন্তু দিন যায় মাস যায় আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় না। এরপর চাকরি না করার উদ্দ্যেশে আমি এক আগস্ট থেকে পনের আগস্ট পর্যন্ত চাকরিতে ফাঁকি দেওয়া শুরু করলে সে আমাকে বলে আমার এখানে চাকরি করলে ভালোভাবে কাজ করতে হবে নাহলে তুমি অন্যথা চাকরি খুঁজে নাও। কথা মতো আমি সৈয়দপুর প্লাজার পেছনে এস আর প্লাজায় গ্রাউন্ড ফ্লোর ডি ব্লোকে ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে একটি দোকান দেই। তার ৮ দিন পর আর্জুর নেটলার এ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ হাজার ৮ শত ৪৭ আমেরিকান ডলার চুরি হয় এবং সে আমাকে এসে বলে আমি তার ডলার চুরি করেছি। তার কয়েকদিন পর বিচারের মাধ্যমে আমি প্রমান করে দেই আমি তার ডলার চুরি করি নাই। তবুও সে বেশ কয়েকবার আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে বলে আমার ১০ লক্ষ টাকা দে নাহলে আমার অনলাইন ব্যাবসায় তোকে চাকরি করতে হবে। আমি রাজি না হলে জোরপূর্বক কয়েকটি স্টাম্পে শই নেয়। এরপর একদিন দোকান থেকে আসার পথে সে আামকে তার বাসায় তুলে দিয়ে যায় এবং আমার সাথে থাকা এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমি গরিব এতো টাকা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। তাই সে আমাকে বলে হয় টাকা দে নাহলে চাকরি কর। সেইসাথে আমার পরিবারও হুমকির মুখে আছে। আমি এ অবৈধ জুয়া খেলার জগতে চাকরি করবোনা তাই পুলিশ প্রশাসন সহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন আমি পুনরায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই। আফসাদের বড় ভাই বলেন, আমার ছোটভাইকে আর্জু তার কাপরের দোকানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। তারপর কয়েকদিন পর আমার ভাইকে লোভ দেখিয়ে তার অনলাইন জুয়া ব্যাবসায় চাকরি দেয়। অনলাইন জুয়া ব্যবসা অবৈধ থাকায় চাকরি থেকে অব্যাহতি চাইলে আর্জু আমার ভাই সহ আমার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকির সম্মুখীন করে। তাই আমি ও আমার পরিবার ছোট ভাইকে স্বাভাবিক জিবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে সহযোগীতা চাই। সেইসাথে অনলাইন জুয়া ব্যাবসায়ী আর্জুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, সৈয়দপুরে অনলাইনে বীটিং প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধা হলেই এলাকার ছেলেরা রেল লাইনের ধারে, বিভিন্ন দোকানে টিভির সামনে ক্রিকেট খেলায় বীট করে। রাস্তার আনাচে কানাচে কয়েকজন মিলে লাইভ ক্যাসিনো খেলে আর বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করে। তাতে যুবসমাজ ধ্বংশের দিকে যাচ্ছে। আমরা সৈয়দপুর এলাকাবাসী এই খেলাকে নির্মূূল করতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি সেই সাথে এর সাথে জড়িত মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি। এ বিষয়ে আর্জু বলেন, আফসাদের কাছ থেকে আমি দোকানের টাকা পাই। অনলাইন বীটিং পরিচালনা করার বিষয়ে জানতে চাইলে আর্জু শুকৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল বলেন, লাইভ ক্যাসিনো, অনলাইনে আইপিএল বীট সহ সকল অবৈধ খেলার বিরুদ্ধে আমরা ভ্রাম্যমান আইন পরিচালনা করে থাকি। সেইসাথে যুবসমাজকে জুয়া খেলা থেকে বিরত রাখতে পুলিশ সচেতনতা মূলক সমাবেশ করে থাকে।

%d bloggers like this: