ঢাকা   ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । রাত ৪:৪৬

নানান অনিয়ম দুর্নীতি অভিযোগ প্রমাণ পাওয়ায় বিসিসির ৪ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত

অনলাইন ডেস্কঃ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ পাওয়ায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) চার কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।বরখাস্তরা হলেন- বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, হাট-বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলাম, ট্রেড লাইসেন্স শাখার তত্ত্বাবধায়ক মো. আজিজ শাহিন ও সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বিসিসির বর্তমান জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত বছরের ১৯ অক্টোবর ওই ৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাদেরকে কেন চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে শোকজ করা হয়েছিল। তাদের শোকজের জবাব সন্তোষজনক ছিল না। এরপর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে নিয়মানুযায়ী তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন সম্প্রতি এ আদেশ দেন। পাশাপাশি ওই ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত মশিউর রহমান বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে প্রভাব খাটিয়ে তার বেতন উচ্চতর স্কেলে উন্নীত করেন। এছাড়া নামে-বেনামে একাধিক ব্যাংক হিসাব নম্বর খুলে বিসিসিতে কৃত্রিম অর্থ সঙ্কট সৃষ্টি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে।

একইভাবে হাট-বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অসংখ্য স্টল বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রযেছে। এছাড়াও তিনি বরাদ্দ দেয়া স্টল ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও বিস্তর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।অন্যদিকে ট্রেড লাইসেন্স শাখার তত্ত্বাবধায়ক আজিজ শাহিনের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিসিসির একাধিক স্টল বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি ট্রেড লাইসেন্স শাখার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপর্জনের জন্য অধীনস্ত কর্মচারীদের উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি কর্মচারীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা এনে হয়রানি করারও প্রমাণ রয়েছে।

আহসান উদ্দিন রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তার পদ থেকে অপসারণ হওয়ার পরও তথ্য গোপন রেখে ওই পরিচয়ে ঢাকায় তথ্য কমিশনের একটি কর্মশালায় অংশ নেন। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে।জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, বিবিসি কর্তৃপক্ষ মনে করে ওই চার কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি অনেকাংশে ক্ষুণ্নসহ আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে। তাছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের চারজনকেই চাকরি থেকে হতে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

%d bloggers like this: