ঢাকা   ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । শনিবার । সকাল ৮:৩০

নলছিটিতে স্কুল ছাত্রীর আত্বহত্যা, চিরকুটে তোলপাড়!

নিজস্ব বার্তা পরিবেশকঃ নলছিটির রায়াপুরে আফসা আক্তার দিথী(১৪)নামে  এক স্কুল ছাত্রী আত্বহত্যা করেছে।বুধবার রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে নলছিটি থানাধীন রায়াপুর বটতলা ২ নং মগড় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। নিহত আফসা আক্তার দিনমজুর নান্টু হাওলাদারের মেয়ে ও রায়াপুর বটতলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী।জানা যায়, আফসা আকতারের বাবা নান্টু হাওলাদার ঘটনার দিন নিত্যপন্যের জন্য সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাজারে যায় ও তার মা পার্শ্ববর্তী এপলো হাসপাতালে আয়া হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিনের ন্যায় আফসার মা সেদিনও তার কর্মস্থলে চলে যায়।

ফলে ঘরে আফসা ও তার ছোট বোন অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে  রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে আফসা নিজ ঘরের লোহার রেলিং এর সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্বহত্যা করে। তবে এ ঘটনার পর পর-ই স্কুলছাত্রীর আত্বহত্যা এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃ্স্টি হয়েছে । নিহত আফসা আক্তারের নিজ কক্ষ থেকে ঘটনার পরদিন একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। যেখনে আফসা পার্শ্ববর্তী মামুন(২৫) নামে এক যুবককে দায়ী করে আত্বহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ্ রয়েছে। চিরকুটের লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হল ’’’ আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী মামুন ভাই । উনি কিছুক্ষন আগে আমাকে ধর্সন  করার চেষ্টা করেছে। তাই আমি এই সিদ্ধন্তটি নিয়েছি ।

সবাই আমাকে ক্ষমা করবেন। ইতি দিথী’’’ এদিকে নিহতর বাবা নান্টু চিরকুটে হাতের লেখাটি তার মেয়ের বলে নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটির পরদিন সকালে  চিরকুট পাওয়ার পর-ই মামুন ও তার পরিবার পলাতক রয়েছে। নান্টু জানান, মামুন আমার বাড়ির পাশে দূর সম্পর্কের এক আত্নীয় । তার বাবার নাম ডালিম হাওলাদার।আমার বাড়ির টিউবওয়েল থেকে ডালিমের পরিবার পানি নেয়াকে কেন্দ্র করে ডালিম আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে আসছিল। এ নিয়ে ডালিম ও তার ছেলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকিও দিয়েছে।এর-ই প্রতিশোধ নিতে হয়তো ওরা আমার মেয়ের সাথে এমনটা করলো।আমি ঘটনার দিন রাতে বাসায় এসে ছোট মেয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখি কিন্ত আমার মেঝো মেয়ে আফসাকে দেখতে না পেয়ে ওরে খোজাখুজি করি, না পেয়ে বাসার পিছনের রুমে আমার মেয়েকে লোহার রেলিং এর সাথে ঝুলে থাকতে দেখি। আমার মেয়ের আত্বহত্যার পিছনে যে বা যারাই থাকুক না কেন আমি ওদের বিচার চাই।

নিহতর মা মরজিনা বেগম ও তার বড় বোন নাজমুন নাহার জানান, মামুন আফসাকে প্রায়-ই খোপার চুল খুলে দিয়ে বিরক্ত করত, এনিয়ে আফসা ও তার পরিবার মামুনকে সতর্ক করে দিয়েছিল।এছাড়াও মামুনের আমাদের বাসায় যাতায়াত ছিল।আফসা মামুনকে বড় ভাই হিসেবে ডাকতো । বাসায় কেউ না থাকায় মামুন আফসার সাথে খারাপ কাজ করার চেস্টা করে । নাহলে আফসা এত বড় সিদ্ধান্ত নিত না। আফসার ডাক্তার হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আমরা মামুনের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানাই।এ বিষয়ে রায়াপুর ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল ফজল সুমন জানায়, আমি ঘটনা শুনে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে এসেছি।আফসা আকতার দিথী চিরকুটে লিখে আত্বহত্যা করেছে।  মামুন ও তার   পরিবার ঘটনার পরপরই পালিয়েছে।এ বিষয়ে নলছিটি থানার ওসি তদন্ত আব্দুল হালিম জানান, আমরা ঘটনার পর খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধারপুর্বক ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ভুক্তভুগী পরিবার থেকে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্লেখ্য, মামুন ইতিপুর্বে ঢাকা থাকত। বাড়িতে এসে পোল্ট্রি ব্যবসা শুরু করে।এছাড়াও মামুনের নামে থানায় মারামারির একাধিক অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

%d bloggers like this: