ঢাকা   ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । মঙ্গলবার । রাত ১২:২৭

ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে যাবজ্জীবনসহ তিন মেয়াদে কারাদন্ড

বরিশালে ২০১৬ সালে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার ঘটনায় আসামী সায়েম আলম মিমুকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। ভিকটিমের বাবা ইব্রাহিম খলিল ও তার পরিবার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঐ আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট ফয়জুল হক ফয়েজ জানান, ধর্ষণের দায়ে আসামী মিমুকে যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। এছাড়া চুরির কারনে ৫ বছরের কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। ২০১৬ সালের ১০ আগষ্ট বরিশাল নগরীর চকবাজারের হোটেল ফেয়ার স্টারে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোডের বাসিন্দা ও এসএসসি পরীক্ষার্থী নাঈমা ইব্রাহিম ঈশীর লাশ ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট ঐ হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে ঐ দিনই কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলাদায়ের করেন।মামলা সূত্র ধরে পুলিশ ঐ হোটেলের মালিক আব্দুর রাব বিশ্বাস এবং ম্যানেজার মজিবুর রহমান আকনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যানুসারে ফেসবুক প্রেমিক সায়েম আলম মিমুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার বিবরণে জানা যায়, ঐ হোটেলের ৩০৯ নম্বর কক্ষ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেয়া হয়। এরপরে ঈশীকে ধর্ষণ করে মিমু। ধর্ষণের ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে হোটেলের ঐ কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে ঈশী। এসময় তার মোবাইল ও স্বর্নালংকার নিয়ে আসামী মিমু পালিয়ে যায়। অসামাজিক কার্যকলাপ তৈরির সুযোগ করে দেয়ায় হোটেল মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ চার্জশীট দাখিল করা হয়। ১৯ জনের সাক্ষ্যপ্রমান শেষে হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের সাথে ঘটনার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদেরকে খালাশ প্রদান করেন। আর সায়েমের সংশ্লিষ্টতা প্রমানিত হওয়ায় তাকে আদালত উক্ত রায় প্রদান করেন।

 

%d bloggers like this: