ঢাকা   ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । শনিবার । সকাল ১১:০০

চোঁখের জলে ভাঁপা পিঠা

একুশের আলো ডেস্কঃ বরিশালের অভিজাত এলাকা ব্রাউন কম্পাউন্ড এর প্রবেশের সরু পথে ঢুকতেই একপাশে খোলা ভ্যানের উপরে দুটি কাঠের চুলা,একটিতে ভাপা পিঠা, অন্যটিতে সাঝের পিঠা তৈরী করছে বিধবা জাকিয় বেগম। পাশেই তার এক বছরের ছোট নাতি খেলা করছে। তার দুইপাশে সারি সারি সু-উচ্চ ভবন দাড়িয়ে। তিন সন্তানের জননি জাকিয়ার ছেলে বড় হয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে, আরেক মেয়েকে সম্প্রতি বিয়ে দিলেও ওই মেয়ে তার কাছেই ফিরে এসেছে। এখন কেবল মাকে সাহায্য করে। করোনায় কাজ হারিয়ে স্বামী ১ বছর আগে ডিসির বাংলোয় শাপলা তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎপিষ্ট হয়ে মারা যায়। তারপরে এই সংসার জাকিয়া একাই টানছে। এর উপরে মরার উপর খরার ঘায়ের মত গত এক বছর যাবত করোনার কারনে অন্যকোন আয় করতে পারছেনা। অর্ধাহারে,অর্থাভাবে কোনরকমে দিন কাটছে। কথা হয় জাকিয়া বেগমের সাথে, এখন আয়ের একমাত্র উৎস ‘শীতের পিঠা’। পিঠা বিক্রি করে যা পায় তাই দিয়ে কোনরকমে সংসার চালাচ্ছে। মাঝে করোনার কারনে কয়েকমাস কাজ ছাড়া একদম বসেছিল। মাসে ঘড়ভাড়া ৩০০০ হাজার টাকা গুনতে হয়। তাও আবার ছয়মাস করোনার কারনে বন্ধ থাকায় চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। নিজেদের পৈত্রিক ভিটা ছিল পিরোজপুরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাকলীয়া গ্রামে। সেখানে কে আছে? কি আছে? বলতে পারছেনা। ৬বছর যাবত পিঠা তৈরী করছে,কত জনপ্রতিনিধি এলো গেলো, অনেকে আশ্বাস দিয়েছিল সাহায্য করার কিন্তু পরে আর মনে রাখেনি। এই সিটি কর্পোরেশনে কতো মানুষনই তো সাহায্য পাচ্ছে,কিন্তু জাকিয়া এ পর্যন্ত কোন সাহায্য পায়নি। নগরীরর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় সুউচ্চ ভবনে বসবাসকারী অনেক বিত্তশালি রয়েছে। কেউ জানতে চায়না জাকিয়া কিভাবে চলে,কি খায়,কোথায় থাকে ? স্বামী হারা বিধবা অসহায় জাকিয়ার এখন কেবল চোখের পানি ছাড়া কিছুর নেই,চোখের পানি আড়াল করে সে সবাইকে শীতের আমেজ বাড়াতে পিঠা বানিয়ে খাওয়ায়। জাকিয়া কানা বিজড়িত কন্ঠে বলেন,শুনেছি সরকার গরীবেরে সাহায্য করে ! কই আমিতো কখনও পেলামনা ? নাকি সাহায্য প্রদানকারীদের তালিকায় আমার চোঁখের জলের কোন স্থান নেই।

%d bloggers like this: