ঢাকা   ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । বৃহস্পতিবার । সকাল ৭:৫৭

চালু হয়নি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পারস্পরিক লেনদেন

অনলাইন ডেস্কঃ মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক লেনদেন সুবিধা কারিগরির ত্রুটির কারণে চালু করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে মৌখিকভাবে আগের নির্দেশনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ক্রটি সংশোধন করে শিগগিরই নতুন তারিখ জানানো হবে।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, পারস্পরিক মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে, যে কারণে সেবাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এটি সমাধানে টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। তবে কবে নাগাদ এটি চালু হবে তা টি বলা যাচ্ছে না।

গত ২২ অক্টোবর সার্কুলার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ২৭ অক্টোবর থেকে ইন্টার-অপারেবিলিটি সেবা চালু হবে। দেশে নগদ অর্থ লেনদেন কমানো ও মোবাইল ব্যাংকিং (মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএস ) সেবা আরও জনপ্রিয় করতে এবার ইন্টার-অপারেবিলিটি (আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা) সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সেবার মাধ্যমে বিকাশ থেকে নগদে এবং ইউক্যাশ থেকে বিকাশেসহ সব এমএফএস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক একে অপরের সঙ্গে পারস্পরিক লেনদেন করতে পারবে।

মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব (অ্যাকাউন্ট) থেকে বর্তমানে এমএফএস সেবা দেয়া ১৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক অর্থ লেনদেন করা যাবে। অর্থাৎ, কোনো গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকলে তিনি ইউক্যাশ, রকেট, এমক্যাশসহ অন্যান্য সব গ্রাহকের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। আবার ইউক্যাশের গ্রাহক বিকাশ, শিওর ক্যাশসহ সব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের হিসাবে অর্থ পাঠাতে পারবেন। শুধু তাই নয়, যে কোনো মোবাইল ব্যাংক থেকে যেকোনো মূল ব্যাংকের সঙ্গেও লেনদেন করা যাবে।

গত ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস্ ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এবং এমএফএস প্রোভাইডারের কাছে পাঠায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সার্কুলারে বলা হয়, দেশে নগদ অর্থ লেনদেন কমানোর লক্ষ্যে এনপিএসবি (ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ) অবকাঠামো ব্যবহার করে সকল ব্যাংক এবং এমএফএস প্রোভাইডারদের মধ্যে ইন্টার-অপারেবিলিটি লেনদেন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

এতে আরও বলা হয়, এনপিএসবি’র মাধ্যমে ব্যাংক এবং এমএফএস প্রোভাইডারদের মধ্যে আন্তঃব্যবহারযোগ্য লেনদেন সেবা ২৭ অক্টোবর থেকে চালু হবে। যেসব ব্যাংক ও এমএফএস প্রোভাইডার অদ্যাবধি ইন্টার-অপারেবিলিটি সিস্টেম চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি তাদের আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে এ সিস্টেমে লেনদেন শুরু করতে হবে বলে সার্কুলারে বলা হয়।

এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে এক এমএফএস হিসাব হতে অন্য এমএফএস হিসাবে, এমএফএস হিসাব হতে ব্যাংক হিসাবে এবং ব্যাংক হিসাব হতে এমএফএস হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে। এক্ষেত্রে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চার্জ নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

>>> এক এমএফএস প্রোভাইডারের হিসাব হতে অন্য এমএফএস প্রোভাইডারের (পি-টু-পি) হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রাপক এমএফএস প্রোভাইডার প্রেরক এমএফএস প্রোভাইডারকে সাকুল্যে লেনদেনকৃত অর্থের শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ ফি প্রদান করবে।

>>> ব্যাংক হিসাব হতে এমএফএস হিসাবে এবং এমএফএস হিসাব হতে ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট এমএফএস প্রোভাইডার সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সাকুল্যে লেনদেনকৃত অর্থের শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ ফি প্রদান করবে।

>>> ইন্টার-অপারেবল লেনদেনের জন্য অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যমান লেনদেন ফি-এর অতিরিক্ত কোনো চার্জ ধার্য করতে পারবে না।

>>> ইন্টার-অপারেবল ব্যবস্থায় লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/এমএফএস হিসাবের প্রকরণ অনুসারে নির্ধারিত লেনদেন সীমা প্রযোজ্য হবে। এ নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত। গত আগস্ট মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় নয় কোটি ২৯ লাখ ৩৭ হাজারে।

%d bloggers like this: