ঢাকা   ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । সোমবার । বিকাল ৩:৩৮

চাঁদপুরায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম!

অনলাইন ডেস্কঃ বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে মোস্তফা হাওলাদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এসময় নগদ ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় শের আলী হাওলাদার বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতের নাম রিয়াজ হাওলার। সে ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত: আলতাফ হাওলাদারের ছেলে ও দিনারের পুল এলাকার মা জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী।

বর্তমানে সে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত সূত্র জানায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ হাওলাদারের সাথে একই গ্রামের মোস্তফা হাওলাদারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পূর্বশত্রুতা চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন রাতে রিয়াজ প্রতিদিনের ন্যায় দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।পথিমধ্যে চাঁদপুরা শের আলী হাওলাদার বাড়ির সামনে ওৎ পেতে থাকা মোস্তফা সহ আরো অজ্ঞাত ৩/৪ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী স্থানীয় ইউপি মেম্বর বাহাদুর হোসেন কালাম মীরার নেতৃত্বে রিয়াজকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার পথরোধ করে লাঠিপেটা করে।পরে রামদা ও চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় তার সাথে থাকা বিকাশের নগদ ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ।

সংবাদ পেয়ে বন্দর থানার এস আই মিলন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং মোস্তফা কে গ্রেপ্তার করে। এ সংবাদ পেয়ে থানার কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে যায় এবং রিয়াজের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে স্থানীয় মেম্বর কালাম মীরা ওসি কে জানান, ঘটনার সময় মোস্তফা গ্রামে তার সাথে একটি পিকনিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার সাথে সে জড়িত নয় বলে অস্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে রাখেন। ঘটনার পরের দিন আহতকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।এ ব্যাপারে ইউপি মেম্বর বাহাদুর হোসেন কালাম মীরার সাথে আলাপ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা ঘটনার সত্যতা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিবেন। এ ঘটনায় আহতের পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে ওসি রহস্যজনক কারণে মামলা নেয় নি বলে তারা জানান। এ ব্যাপারে জানতে বন্দর থানার ওসির মুঠোফোনে ফোন করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি লোক মারফত শুনেছেন । তবে সরেজমিন গিয়ে জানতে পারেননি বলে তিনি জানান। সন্ত্রাসী মোস্তফা বাহিনীর অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে কেউ সাহস পায়না বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহতের পরিবারকে মামলা না করার জন্য জীবননাশের হুমকি ধামকি সহ বিভিন্ন রকমের ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছে। তার পরিবারটি মোস্তফা আতঙ্কে রাতের আধারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

%d bloggers like this: