ঢাকা   ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ । রবিবার । রাত ১:০৭

কুয়াকাটায় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে পড়েছে সাবমেরিন ক্যাবল, ইন্টারনেট বিপর্যয়ের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্কঃ পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে পড়েছে সমুদ্র থেকে উঠে আসা দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশনের হাই ভোল্টেজ ডিসি পাওয়ারের সংযোগ ক্যাবল। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্টে বেরিয়ে আসা এ ক্যাবল যেকোন অসাবধানতায় ক্ষতি সাধিত হলে বিছিন্ন হয়ে বন্ধ হতে পারে ল্যান্ডিং স্টেশনের সকল ধরনের সার্ভিস। ধারনা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার সময় আস্বাভাবিক জোয়ারের ঢেউয়ের ঝাপটায় বালুক্ষয়ের ফলে মাটির অগভীরে থাকা এ ক্যাবল বেরিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম জানান, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে। বর্তমানে (২৪ ঘন্টা) সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিকিউরিটি গার্ড নিযুক্ত করা হয়েছে। কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশকে এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শুক্রবার অথবা শনিবার সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট আলীপুরের এক জমির মালিক স্কাবেটর দিয়ে বালু তুলতে গিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের (এসইএ-এমই-ডব্লিউ-৫) পাওয়ার সাপ্লাই অপটিক্যাল ফাইবার ক্ষতিগ্রস্থ করে। এতে সারা দেশের গ্রাহকরা ইন্টারনেট ব্যবহারে ধীর গতির সমস্যায় পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, কোন সাংকেতিক নির্দেশনা চিহ্ন ছাড়া মাটির সামান্য নিচ দিয়ে কুয়াকাটা সৈকত থেকে গোড়া আমখোলা পাড়ায় ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত সংযোগ ক্যাবল টানার ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও সার্বক্ষণিক এ সংযোগ লাইন দেখবালের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না এমন অভিযোগ রয়েছেন। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে গোড়াআমখোলাপাড়া ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত সংযোগ ক্যাবল টানার সংযোগ প্রতি ঘন্টায় ঘুরে দেখার কথা থাকলেও তারা দায়িত্ব অবহেলা করছেন। যার ফলে প্রতিবারই স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পান কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০৫ সালে প্রথম সাবমেরিন কেবল ’সি-মি-উই-৪’ এ যুক্ত হয়। এরপর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং ষ্টেশনের মাধ্যমে ’সি-মি-উই-৫’ সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে সাউথ ইষ্ট এশিয়া-মিডলইষ্ট-ওয়েষ্টার্ন ইউরোপ আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সাবমেরিন ক্যাবল থেকে সেকেন্ডে ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইট (জিবি) গতির ব্যান্ডউইথ পায় বাংলাদেশ।’

%d bloggers like this: